মযহারুল ইসলাম ফোকলোর গ্যালারি: প্রাসঙ্গিক ভাবনা 

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০২:১১

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৩.০১.২০২২ খ্রি. তারিখে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভার এক কার্যবিবরণী থেকে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনের ১৩১ নম্বর গ্যালারি কক্ষটি আন্তর্জাতিক ফোকলোরবিদ ও বাংলা বিভাগের প্রখ্যাত প্রফেসর ড. মযহারুল ইসলামের নামে নামকরণ করা হয়েছে। নামকরণের প্রস্তাবটি উত্থাপিত হয়েছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগ থেকে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসর মযহারুল ইসলামের নামে ফোকলোর গ্যালারি প্রতিষ্ঠা নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এ জন্য মযহারুল ইসলামের পরিবারের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃ‌র্পক্ষ এবং ফোকলোর বিভাগকে অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

বাংলাদেশে ফোকলোর চর্চা এবং মযহারুল ইসলাম একে অপরের পরিপূরক। বিচ্ছিন্ন করে দেখবার কোনো সুযোগ নেই। শুধু বাংলাদেশে নয়, ভারত-পাকিস্তান তথা ভারতীয় উপমহাদেশের ফোকলোর চর্চার ইতিহাস যদি আমরা পর্যালোচনা করি, সেক্ষেত্রে দেখা যাবে মযহারুল ইসলামের মতো এত বড় মাপের ফোকলোরবিশারদ ভারতীয় উপমহাদেশে দ্বিতীয় কেউ নেই। প্রকৃতপক্ষে তিনি বিশ্বমানের একজন ফোকলোরবিশারদ। ব্যাখ্যা করলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

ফোকলোর বিষয়টি কী এবং ফোকলোরের সীমারেখা কত দূর পর্যন্ত বিস্তৃত, ভারতীয় উপমহাদেশের লেখক, পণ্ডিত, গবেষকদের কাছে তা স্পষ্ট ছিল না, বরং ফোকলোর সম্পর্কে একটা ভ্রান্ত ধারণা ছিল। যে কারণে দীর্ঘকাল ‘লোকসাহিত্য’কে ফোকলোর বলে চালানো হয়েছে। লোকসাহিত্য এবং ফোকলোর যে এক বিষয় নয়, মযহারুল ইসলামের গবেষণাকর্ম থেকে তা প্রথম জানা গেল। মযহারুল ইসলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক থাকাকালীন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর তত্ত্বাবধানে ‘কবি হেয়াত মামুদ’ শীর্ষক গবেষণাগ্রম্হ রচনা করে ১৯৫৮ সালে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। ড. মযহারুল ইসলাম ১৯৬০ সালে ফুলব্রাইট বৃত্তি নিয়ে দ্বিতীয় ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের লক্ষ্যে আমেরিকা গমন করেন, ভর্তি হন ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ে। গবেষণা পরিচালক হিসেবে পেয়ে যান বিশ্ববিখ্যাত ফোকলোরবিশারদ প্রফেসর এম ডরসনকে। প্রফেসর এম ডরসনের কাছ থেকেই মযহারুল ইসলাম প্রথম জানতে পারেন ‘ফোক লিটারেচার’ এবং ‘ফোকলোর’ এক বিষয় নয়। ফোক লিটারেচার প্রকৃতপক্ষে ফোকলোরের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। ১৯৬৩ সালে ড. মযহারুল ইসলাম আমেরিকার ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফোকলোর বিষয়ে তার দ্বিতীয় ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের আন্তর্জাতিক খ্যাতি আছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে মযহারুল ইসলাম বিশ্বের খ্যাতনামা বেশ কিছু ফোকলোরবিশারদের সাহচর্য লাভ করেন। তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান মযহারুল ইসলাম ১৯৬৩ সালে দেশে ফিরে এসে লেখালেখির মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে থাকেন আমাদের দেশের সুধী মহলে।

মযহারুল ইসলামের বিভিন্ন গবেষণাধর্মী লেখা থেকে জানা যায়, লোকসাহিত্য সংগ্রহের ব্যাপারে আমাদের দেশে অনেক ভালো কাজ হয়েছে। কাজের তালিকা দিতে গিয়ে তিনি রবীন্দ্রনাথ, দীনেশচন্দ্র সেন, জসীমউদ্দীন, মনসুর উদ্দিন, ড. আশুতোষ ভট্টাচার্য, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ প্রমুখ পণ্ডিত ব্যক্তির নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। ড. মযহারুল ইসলামের মতে, তারা সবাই ছিলেন মূলত লোকসাহিত্য সংগ্রাহক। ফোকলোরের ক্ষেত্র অনেক ব্যাপক অথচ সেখানে কোনো কাজ হয়নি। ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফোকলোর বিষয়ে দ্বিতীয় ডক্টরেট নিয়ে দেশে ফিরে এসে তিনি একটি গবেষণাগ্রম্হ রচনা করেন, যার শিরোনাম ‘ফোকলোর পরিচিতি ও লোকসাহিত্যের পঠন-পাঠন’। গ্রম্হটি প্রকাশিত হবার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ তথা ভারতীয় উপমহাদেশে যারা লোকসাহিত্য পঠন-পাঠন করছিলেন, তারা এক নতুন দিগন্েতর সন্ধান পেলেন। মযহারুল ইসলামের গ্রম্হের মাধ্যমে ফোকলোরের যে পরিচিতি পাওয়া গেল তা থেকে জানা গেল ফোকলোর দুটি ধারায় বিভক্ত—ক. বস্তুধর্মী ফোকলোর এবং খ. সাহিত্যধর্মী ফোকলোর। সাহিত্যধর্মী ফোকলোর নিয়ে আমাদের দেশে কিছু কাজ হলেও বস্তুধর্মী ফোকলোর নিয়ে কোনো কাজই হয়নি। সাহিত্যধর্মী ফোকলোর অপেক্ষা বস্তুধর্মী ফোকলোরের জগত্ যে অনেক বৃহত্, মযহারুল ইসলাম বিভিন্ন প্রবন্ধের মাধ্যমে তা প্রকাশ করতে থাকেন। তিনি বলতে শুরু করলেন ইংরেজি ফোকলোরের প্রতিশব্দ হিসেবে আমরা যে ‘লোকসাহিত্য’ শব্দটি ব্যবহার করছি, তা যথার্থ নয়। এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তার ‘ফোকলোর পরিচিতি’ শীর্ষক গ্রম্হে ফোকলোরের শ্রেণিবিন্যাস করলেন যেমন—১. বাক্কেন্দ্রিক ফোকলোর : বাক্কেন্দ্রিক ফোকলোরের মধ্যে আছে লোককথা, লোকগীতিকা, ছড়া, প্রবাদ-প্রবচন, লোকসংগীত, লোকবিশ্বাস ইত্যাদি। বাক্কেন্দ্রিক ফোকলোরকে তিনি লোকসাহিত্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন। ২. অঙ্গভঙ্গিকেন্দ্রিক ফোকলোর :উদাহরণ— লোকনৃত্য, লোকভঙ্গি, লোকসার্কাস ইত্যাদি। সাহিত্যের পর্যায়ে এগুলো পড়ে না। ৩. আচারমূলক ফোকলোর : যেমন—লোকাচার, লোকসংস্কার, লোকউত্সব, লোকমেলা, লোকচিকিত্সা ইত্যাদি। এগুলোকেও লোকসাহিত্য বলা যাবে না। ৪. খেলাধুলাকেন্দ্রিক ফোকলোর : যেমন—হাডুডু, নোন্তা, ছিবুড়ি, ডাংগুলি, কানামাছি, নৌকাবাইচ, ষাঁড়ের লড়াই ইত্যাদি। এগুলোকেও লোকসাহিত্য বলে চিহ্নিত করা যাবে না। ৫. বস্তুকেন্দ্রিক ফোকলোর : কৃষকের লাঙ্গল, জোয়াল, মই, গরুর মুখের টোনা, মাথায় দেওয়ার মাথাল, মাছ ধরবার দোয়ার, ধিয়ার, চারো, বুচনা, মাছ রাখবার খালুই, মেয়েদের ব্যবহূত কুলা, চালুন, হাঁড়ি-পাতিল, সিঁকা, নকশিকাঁথা, জেলেদের হাতে তৈরি মাছ ধরবার জাল, পরিবহন হিসেবে গরুর গাড়ি, ঘোড়ার গাড়ি প্রভৃতি। এগুলোকেও লোকসাহিত্য বলে চিহ্নিত করবার কোনোরকম অবকাশ নেই।

মযহারুল ইসলাম ফোকলোরের পরিচিতি এবং শ্রেণিবিন্যাসের পর নিজেই প্রশ্ন তুললেন ইংরেজি ফোকলোর শব্দের প্রতিশব্দ তা হলে কী হতে পারে। দীর্ঘ গবেষণার মাধ্যমে তিনি বলতে চেয়েছেন, বর্তমানে প্রচলিত লোকসাহিত্য, গ্রাম্য সাহিত্য, লোকবিদ্যা, লোকবিজ্ঞান, লোকতত্ত্ব, লোকবার্তা, লোকযান, লোকশ্রুতি, লোকবৃত্ত, লোকসংস্কৃতি, লোক-লোর কোনোটাকেই ফোকলোরের সার্থক প্রতিশব্দ হিসেবে গণ্য করা যায় না। যে কারণে মযহারুল ইসলাম ফোকলোরের প্রতিশব্দ নিয়ে শেষ কথা বলে দিয়েছেন ‘ফোকলোর’-এর বাংলা প্রতিশব্দ আবিষ্কারের বৃথা চেষ্টা না করাই ভালো। হাজার হাজার বিদেশি শব্দ যেমন বাংলার সঙ্গে মিশে একাকার হয়ে গেছে উদাহরণ—চেয়ার, টেবিল, বেঞ্চ, টেলিফোন, মোবাইল, কাগজ, কলম, দলিল, দস্তাবেজ ইত্যাদি। ফোকলোর শব্দটিও দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে এর প্রতিশব্দ প্রয়োজন হবে না। বাংলা শব্দ বলেই প্রতীয়মান হবে। মযহারুল ইসলামের মতবাদটি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ এবং ভারতীয় উপমহাদেশের ফোকলোর গবেষকদের কাছে গৃহীত হয়েছে। তার এ মতবাদটি যেন সর্বজনগ্রাহ্য হয়, সে জন্য তিনি গভীর আন্তরিকতা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে কঠোর সাধনায় ব্রতী হন। তিনি বুঝতে পারেন শিক্ষার্থীদের পঠন-পাঠনে বিষয়টি আনতে না পারলে তার মতবাদ টিকবে না। এ কথা ভেবে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে বাংলা বিভাগের পঠন-পাঠনে ফোকলোরের কিছু বিষয় বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য আবশ্যিক পাঠ্য বিষয় করে ফেলেন। এটি ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ের কথা।

এর মধ্যে ১৯৭১ সালে দেশে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধে মযহারুল ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বরে মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জিত হওয়ার পর মযহারুল ইসলামকে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়, এর ফলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফোকলোরের পঠন-পাঠনে খানিকটা সমস্যা দেখা দেয়। তবে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হওয়ার ফলে বাংলা একাডেমিতে ফোকলোর বিষয়ক গবেষণার প্রতি তিনি অধিক গুরুত্ব আরোপ করেন। বাংলা একাডেমিতে ফোকলোরের জন্য একটি আলাদা বিভাগ মযহারুল ইসলামই চালু করেছিলেন যা এখনো বিদ্যমান আছে।

১৯৭৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে মযহারুল ইসলামকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য করা হয়। আমরা খুব আশাবাদী হয়ে উঠেছিলাম মযহারুল ইসলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ফোকলোর’ নামের একটি স্বতন্ত্র বিভাগ চালু করবেন। কিন্তু সে সুযোগ তিনি পাননি। উপাচার্যের দায়িত্ব পাওয়ার পর মাত্র এক বছরের মাথায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ষড়যন্ত্রকারীদের হাতে নির্মম হত্যার শিকার হন। একই সময়ে বঙ্গবন্ধুর অতি ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে হত্যাকারীরা মযহারুল ইসলামকে জেলখানায় বন্দি করে রাখে দীর্ঘ ৩২ মাস। জেলখানা থেকে মুক্তি পেলেও তিনি তার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রফেসর পদটি আর ফিরে পাননি। বাধ্য হয়ে তিনি দেশের বাইরে যাওয়ার কথা ভাবছিলেন। সেই সময় ইন্ডিয়ান ইউজিসি মযহারুল ইসলামকে ভিজিটিং প্রফেসর করে নেয় ১৯৭৯ সালে। মযহারুল ইসলাম ভারতে চলে যাওয়ার ফলে বাংলাদেশে ফোকলোর চর্চার ক্ষেত্রে বড় রকমের শূন্যতা দেখা দেয় ।

বাংলাদেশ মযহারুল ইসলামের প্রতিভাকে কাজে লাগাতে পারেনি, এটা দুর্ভাগ্যজনক, তবে ভারতীয় পণ্ডিতগণ বুঝতে পারেন মযহারুল ইসলাম কত বড় মাপের ফোকলোরবিশারদ। ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, রাচী বিশ্ববিদ্যালয়, মহিশুর বিশ্ববিদ্যালয়, নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে ফোকলোর বিষয়ে পাঠদান করতে থাকেন। সবাই বুঝতে পারেন ফোকলোর বিষয়ে মযহারুল ইসলামের মতো পণ্ডিত ব্যক্তি ভারতবর্ষে কেউ নেই। ভারতবর্ষে ফোকলোর নিয়ে যারা কাজ করছিলেন, তারা সবাই মযহারুল ইসলামের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন।

দীর্ঘ ৭/৮ বছর ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা শেষে পারিবারিক প্রয়োজনে মযহারুল ইসলাম দেশে ফিরে আসেন ১৯৮৬ সালে। দেশে ফিরে এসেই তিনি গঠন করেন বাংলাদেশ ফোকলোর সোসাইটি। ফোকলোর সোসাইটির মাধ্যমে তিনি ফোকলোর চর্চার ব্যাপক ক্ষেত্র প্রস্তুত করেন। ফোকলোর সোসাইটির মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক মানের সেমিনারের আয়োজন করতে থাকেন। ফোকলোর সোসাইটির পক্ষ থেকে তিনি নিয়মিত প্রকাশ করতে থাকেন ‘ফোকলোর’ নামের একটি উন্নতমানের গবেষণা পত্রিকা। মযহারুল ইসলাম বাংলাদেশে ফিরে আসবার পর বাংলাদেশে ফোকলোর চর্চা জোরদার হয়ে ওঠে। মযহারুল ইসলামের নির্দেশিত পথে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছোট ছোট ফোকলোর চর্চাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা গঠন করি ‘ফোকলোর গবেষণা সংসদ’। ফোকলোর গবেষণা সংসদ মযহারুল ইসলাম প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ফোকলোর সোসাইটির সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে ফোকলোর চর্চা চালিয়ে যেতে থাকে।

১৯৯৭ সালে আমাকে যখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য করা হয়, আমি তখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফোকলোর বিভাগ খুলবার উদ্যোগ গ্রহণ করি। কিন্তু এ কাজে পদে পদে বাধা আসতে থাকে। নানারকম প্রতিকূলতার সঙ্গে সংগ্রাম করে শেষ পর্যন্ত আমি ১৯৯৮ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফোকলোর বিভাগ খুলতে সমর্থ হই। অবশ্য এর জন্য আমাকে বড় রকমের খেসারত দিতে হয়েছে, তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফোকলোর বিভাগের অগ্রযাত্রাকে কেউ থামিয়ে দিতে পারেনি। মযহারুল ইসলামের দীর্ঘকালের লালিত স্বপ্নকে আমরা সফল করতে সমর্থ হই। ১৯৯৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মযহারুল ইসলাম উপস্হিত ছিলেন। এরই মধ্যে কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফোকলোর বিভাগ চালু হয়েছে। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ফোকলোর বিভাগ চালু হওয়ার কথা রয়েছে। ভুলে গেলে চলবে না, ফোকলোর এবং বাঙালি জাতিসত্তা অভিন্ন। জাতির বৃহত্তর স্বার্থেই আমাদের ফোকলোর চর্চা করতে হবে। মযহারুল ইসলাম ফোকলোর গ্যালারি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কতৃ‌র্পক্ষ এবং ফোকলোর বিভাগ যে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করল, বাংলাদেশে ফোকলোর চর্চার ইতিহাসে তা চির ভাস্বর হয়ে থাকবে।

লেখক: সাবেক ভিসি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

ইত্তেফাক/কেকে