ম্রো ভাষার প্রথম ব্যাকরণ বই লিখলেন ইয়াংঙান

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৪:৫৫

একবার পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের এক পরিদর্শক এলেন সুয়ালক ম্রো আবাসিক বিদ্যালয়ে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খোঁজখবর করতে দেখা গেল তাকে। ইয়াংঙান তখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়েন, তাকেও একটি ইংরেজি ব্যাকরণ বাক্য জিজ্ঞেস করলেন সেই পরিদর্শক। কিন্তু বুঝতে না পারায় উত্তর দিতে পারেননি তিনি। তখন থেকে ইয়াংঙান প্রতিজ্ঞা করেন, বড় হয়ে একদিন ব্যাকরণ বই লিখবেন। অবশেষে সেই প্রতিজ্ঞা পূরণ করেছেন আদিবাসী এই তরুণ।

সম্প্রতি বান্দরবান জেলা শহরের উজানি পাড়ায় এক ঘরোয়া পরিবেশে ম্রো ভাষার প্রথম ব্যাকরণ বই ‘ততোং’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়। মোড়ক উন্মোচন করেন ম্রোদের আদি ধর্ম ক্রামাদি ধর্মের প্রধান পুরোহিত লেংয়াং ম্রো, ম্রো ভাষার শিক্ষক ঙানসিং ম্রো এবং ম্রোদের সামাজিক সংগঠক রিয়ং ম্রো। 

ইয়াংঙানের লেখা ম্রো-দের প্রথম ব্যাকরণ বই

নিজের লেখা বই সম্পর্কে লেখক ইয়াংঙান ম্রো বলেন, ‘বাংলা ব্যাকরণ ও ইংরেজি গ্রামারের অনুকরণে ম্রো ভাষার ‘ততোং’ লেখা হয়েছে। ১৯৮৪ সালের এই দিনে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর ক্রামাদি মেনলে ম্রো ভাষার বর্ণমালা প্রবর্তন করেন। এরপর এ ভাষার উন্নয়নে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সেই জায়গা থেকে তিনি ম্রো ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেছেন। 

ইয়াংঙান উচ্চশিক্ষা লাভ করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। সেখানের প্রাচ্যভাষা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করার পর ম্রো জনগোষ্ঠীর সমাজ-সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করছেন তিনি। লেখক হিসেবে ম্রো সমাজ ও রূপকথার গল্প নিয়ে ইয়াংঙানের মোট ২৮টি বই প্রকাশিত হয়েছে; এর মধ্যে ম্রো ভাষায় ১৮টি এবং বাংলা ভাষায় ১০টি।

ইত্তেফাক/এসটিএম