বিন্নি ধানের খইয়ের ঐতিহ্য আজও অম্লান

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৯:১৯

কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের দাসেরগাঁওয়ের বিন্নি ধানের খই আজও ঐতিহ্য বহন করে চলেছে। এখানকার বিন্নি ধানের খইয়ের ঐতিহ্য শতবর্ষের। বিন্নি ধানের খই একটি মুখরোচক সুস্বাদু খাবার। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবারই পছন্দ। শীতের শুরু থেকে বৈশাখ মাস পর্যন্ত গ্রামগঞ্জে চলে নানা ধরনের মেলা। এই সময়টা মূলত বিন্নি ধানের খই ভাজার মৌসুম। বংশ পরম্পরায় এ গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবার বিন্নিধান চাষ ও এ ধান থেকে খই তৈরির পেশার সঙ্গে জড়িত। তবে বর্তমানে উফশী ধানের প্রভাবে বিন্নি ধানের আবাদ কমে যাওয়ায় ও করোনা আবহে মেলাসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে বিধিনিষেধ থাকায় হারিয়ে যেতে বসেছে বিন্নি ধানের খইয়ের ঐতিহ্য।

জানা যায়, প্রতি বছর রোপা আমন মৌসুমে দাসেরগাঁওয়ের কৃষকরা শুধুমাত্র বিন্নি ধানের চাষ করেন। যদিও অন্য জাতের তুলনায় বিন্নি ধানের ফলন কম হয়। প্রতি বিঘায় ছয়-আট মণ ধান হয়ে থাকে। ফলে এ ধানের দামও বেশি। বর্তমানে প্রতি মণ ধানের দাম মান ভেদে ৩৫০০-৪০০০ টাকা। বিন্নি খইয়ের চাহিদার তুলনায় এ অঞ্চলের উৎপাদিত ধানের জোগান কম। তাই এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে তাদেরকে বিন্নিধান কিনতে হয় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে।

সরেজমিনে দাসেরগাঁও ঘুরে দেখা যায়, এলাকার নারীরা নিপুণ ভাবে ভেজে চলছেন বিন্নির খই। বসে নেই স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরাও। এ সময় কথা হয় ষাটোর্ধ্ব মল্লিকা বেগমের সঙ্গে। তিনি জানান, প্রথমে কাঁচা ধানকে পাঁচ-সাত দিন রোদে শুকিয়ে তা থেকে চাল করা হয়। সেই চালকে কয়েক বার ভালো করে ধুয়ে সুতি কাপড়ের সাহায্যে শুকানো হয়। এরপর মাটির চুলায় লোহার কড়াইয়ে বালু দিয়ে তা উত্তপ্ত করা হয়। বালু গরম হলে এর মধ্যে বিন্নি চাল দিয়ে বাঁশের কাঠির ঝাঁটা দিয়ে নাড়তে হয়। নাড়ার একপর্যায়ে তৈরি হয়ে যায় বিন্নি ধানের খই।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. মোহাম্মদ মুশতাকুর রহমান বলেন, ‘উপজেলার দাসেরগাঁওয়ের বিন্নি ধানের খইয়ের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। এনজিও, ব্যাংক বা অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে এই পেশার সঙ্গে জড়িতদের সহজশর্তে ঋণ পাইয়ে দেওয়া যায় কি না, এ ব্যাপারে সক্রিয়ভাবে চেষ্টা করব।’

ইত্তেফাক/এমআর