ভারতের বিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইআইটি-খড়গপুর আয়োজিত 'ইন্ডিয়ান কেস চ্যালেঞ্জ'-এ দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে বাংলাদেশের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দল 'ফ্রিকস এন্ড গিকস'।
এ বছর প্রতিযোগিতাটির ১৩তম আসর অনুষ্ঠিত হয়।
বিশাল পরিসরে আয়োজিত হওয়া এই প্রতিযোগিতায় এ বছর অংশগ্রহণ করেছে ১৩০০-র বেশি দল। প্রায় চার হাজার প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই দলটি। মূলত ব্যবসা বিষয়ক বিভিন্ন সমস্যা এবং সম্ভাবনার বাস্তবধর্মী সমাধান তুলে আনা হয় এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। গত ৬ মার্চ এই আসরের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশের বিজয়ী দলের সদস্যরা হলেন— উম্মা ফারিহা সাদেক, পৃথিরাজ প্রধান এবং সাকিব ফয়সাল। ফারিহা এবং পৃথিরাজ পড়াশোনা করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট (আইবিএ) তে। অপরদিকে সাকিব পড়াশোনা করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে।
বিজয়ী দলের দলনেতা ফারিহা সাদেক বলেন, 'জেতার পরের অনুভূতি টা সত্যিই অসাধারণ। চূড়ান্ত পর্বে যাওয়ার পরেই অনেক খুশি হয়েছিলাম। কেননা এমন একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার শেষ পর্যন্ত যাওয়াটাও আমাদের জন্য অনেক বড় ব্যাপার। এরপর যখন শুনলাম ফার্স্ট রানার আপ হয়েছি, প্রথমে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। যদিও এই টিমকে নিয়ে একটা আত্মবিশ্বাস সবসময়ই ছিল আমাদের।'
পুরো প্রতিযোগিতাটি দুটো পৃথক রাউন্ডে ভাগ করে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম রাউন্ডে তাদের একটি বিজনেস কেইস দেয়া হয় বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান টেসলা-র উপর ভিত্তি করে। যেখানে তাদেরকে লিখিত সমাধান জমা দিতে হয়েছে। পরবর্তীতে ফাইনাল রাউন্ডের কেইস সমাধান করার জন্য ৭২ ঘন্টা সময় দেয়া হয় এবং প্রতিযোগীদের অনলাইন প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সমাধানগুলো উপস্থাপন করতে হয়েছে। পাশাপাশি বিচারকদের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় তাদের।
দলের আরেক সদস্য সাকিব ফয়সাল বলেন, 'প্রথম রাউন্ডের কেইসে টেসলা এর ইন্ডিয়ান মার্কেট এ এন্ট্রি স্ট্র্যাটেজি নিয়ে আমাদের কাজ করতে হয়েছিল। এখানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল সম্পূর্ন অপরিচিত একটা মার্কেট সম্পর্কে ধারনা অর্জন করা। আর ফাইনালের কেস টা ছিল গেমিং ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে যেটা অনেক বেশি জটিল ছিল, সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করে সেটা থেকে সঠিক সিন্ধান্তে পোঁছানো - এ ব্যাপার গুলো সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ছিল।'
বাংলাদেশি দল হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অর্জিত এই সাফল্য নিঃসন্দেহে নিজের দেশের জন্য গৌরবের বলে মনে করেন তারা। ভবিষ্যতে আরো বৃহৎ পর্যায়ে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে চান দলের সকলে। বর্তমানে ব্যবসা ক্ষেত্রে বাংলাদেশি তরুণ প্রজন্ম নিজেদের চেনাচ্ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। এই সাফল্য তাদের ভবিষ্যৎ পথচলার জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করেন তারা।
বিজয়ী দলের আরেক সদস্য পৃথিরাজ প্রধান বলেন, 'যেকোনো প্রতিযোগিতায় ভালো করতে হলে দলের মধ্যে সমন্বয়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের তিনজনের মধ্যে বোঝাপড়া বেশ ভালো এবং সেটা প্রতিটি রাউন্ডে সবচেয়ে বেশি কাজে দিয়েছে। কেস সলভিং থেকে শুরু করে ফাইনাল রাউন্ডে প্রশ্নোত্তর পর্ব, প্রতিটি ক্ষেত্রেই দলগত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা কাজ করে গিয়েছি।'
