মিসরের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির নিজেকে ব্যাপক ক্ষমতা দিয়ে ডিক্রি জারির ঘটনাকে বিচার বিভাগের প্রতি নজিরবিহীন আক্রমণ বলে অভিহিত করেছে দেশটির সুপ্রিম জুডিসিয়ারি কাউন্সিল। এক জরুরি বৈঠক শেষে মুরসির এ ডিক্রি প্রত্যহারের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম জুডিসিয়ারি কাউন্সিল। মিসরের সর্বোচ্চ এ বিচার বিভাগ গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মুরসির ডিক্রি মিসরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পরিপন্থী। বিচার বিভাগের এ ঘোষণায় মিসরের সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করল। মুরসির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আলেকজান্দ্রিয়ার বিচারকরা ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যান্য প্রদেশের বিচারকরা এতে সমর্থন দেন। আলেকজান্দ্রিয়ার বিচারক ক্লাব জানিয়েছে, সংকট সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো ধরনের বিচারিক কার্যক্রমে যোগ দেবেন না। এদিকে সর্বময় ক্ষমতা গ্রহণের ঘোষণার প্রতিবাদে মুরসিবিরোধী আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে। মুরসিবিরোধীরা রাজধানী কায়রোতে ক্যাম্প স্থাপন করেছে। গত বৃহস্পতিবার মুরসি নিজেকে ব্যাপক ক্ষমতা দিয়ে একটি ডিক্রি জারি করেন। ডিক্রিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্টের জারি করা আইন বা কোনো সিদ্ধান্ত কেউ চ্যালেঞ্জ করতে পারবে না ও আইনগত আপত্তি তোলা যাবে না। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষের কোনো সিদ্ধান্তের কেউই বিরোধিতা করতে পারবে না। খবর এএফপি, আলজাজিরা, বিবিসি অনলাইন।
সর্বময় ক্ষমতা গ্রহণের ঘোষণার প্রতিবাদে মুরসিবিরোধী আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে। মুরসিবিরোধীরা রাজধানী কায়রোতে ক্যাম্প স্থাপন করেছে। শুক্রবার রাতে তাহরির স্কয়ারে ২০টি তাঁবু স্থাপন করে এগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। মুরসিবিরোধী বিক্ষোভের আয়োজকরা জানান, ২০টিরও বেশি দল মুরসির সর্বময় ক্ষমতা গ্রহণের ঘোষণার প্রতিবাদে তাহরির স্কয়ারে সপ্তাহব্যাপী অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আগামী মঙ্গলবার তারা তাহরির স্কয়ারে আরও বড় ধরনের বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল শনিবার দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সব শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে।
শনিবার বিক্ষোভকারীরা কায়রোর তাহরির সমবেত হতে চাইলে তাদের ওপর টিয়ার গ্যাস শেল নিক্ষেপ করে দাঙ্গা পুলিশ। এদিকে মুরসির সমর্থনে কায়রোসহ বিভিন্ন এলাকায় মিছিল বের করে মুসলিম ব্রাদারহুডের সমর্থকরা। অনেক এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে মুসলিম ব্রাদারহুডের সমর্থকদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এর আগে শুক্রবার রাতে মিসরজুড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং মিছিল করে মুরসিবিরোধী আন্দোলনকারীরা। ভূমধ্যসাগরীয় শহর আলেকজান্দ্রিয়ায় মুসলিম ব্রাদারহুড এবং বিরোধী দলের কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, পোর্ট সৈয়দ, সুয়েজ ও ইসমাইলিয়ায় মুসলিম ব্রাদারহুডের কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে মুরসিবিরোধীরা। হাজার হাজার তরুণ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশের ট্রাকে আগুন লাগিয়ে দেয়।
বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টের সর্বময় ক্ষমতা গ্রহণের ঘোষণা প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন করে যাচ্ছে। এদিকে, মিসরের বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড জানান, মুরসির সর্বময় ক্ষমতা গ্রহণের ঘোষণায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে মিসরের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত বৃহস্পতিবার মুরসি নিজেকে ব্যাপক ক্ষমতা দিয়ে একটি ডিক্রি জারি করেন। ডিক্রিতে বলা হয়, নতুন পার্লামেন্টের জন্য অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্টের কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনগত আপত্তি তোলা যাবে না। প্রেসিডেন্টের জারি করা আইন বা কোনো সিদ্ধান্ত কেউ চ্যালেঞ্জ করতে পারবে না। কোনো আদালত বর্তমান সাংবিধানিক গণপরিষদকে বিলুপ্ত করতে পারবে না। মুরসির এ ঘোষণায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির উদারপন্থিরা। মুরসি 'নব্য ফারাও' হয়ে উঠছেন বলে অভিযোগ তাদের।
