দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসাবে নির্বাচনে জয়লাভের পর পার্ক জিউন-হাই বুধবার রাতে হাজার হাজার সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, তার এ বিজয় অবশ্যই আনন্দের এবং খুশির। তবে আমাদের জন্য সামনে একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়া হচ্ছে আমাদের কাছে সেই চ্যালেঞ্জ। কেননা দেশটি আমাদের জন্য একটা মারাত্মক নিরাপত্তা হুমকি। তিনি বলেন, হুমকি হলেও আমরা সবসময় সংলাপে বিশ্বাসী। তাই এ সংকট নিরসনে আমাদের তরফ থেকে আলোচনার দরজা সবসময় খোলা রয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বুধবার ভোট দিয়েছে জনগণ। এ ভোটের মধ্যদিয়ে দেশটির ইতিহাসে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হচ্ছেন সাবেক সেনাশাসক পার্ক চাং হির মেয়ে ও ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী পার্ক জিউন-হাই। ইতিমধ্যেই গণনা হওয়া ৯৯ শতাংশের বেশি ভোটে পার্ক পেয়েছেন ৫১ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ‘ডেমোক্রেটিক ইউনাইটেড পার্টি’র প্রার্থী মুন জায়ে ইন পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট। আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা হওয়ার কথা গতকাল বৃহস্পতিবার। কিন্তু ইতিমধ্যেই পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন মুন জায়ে ইন। আনন্দে উচ্ছ্বসিত জিউন-হাই বলেছেন, তার এ জয় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক হবে। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, এ বিজয় কোরীয় উপদ্বীপে এক নতুন যুগের সূচনা করবে এবং পিয়ংইয়ংয়ের হুমকি মোকাবিলায় সহায়ক হবে। যদিও উত্তর কোরিয়ার তরফ থেকে তার নতুন প্রেসিডেন্ট হওয়া সম্পর্কে এখনও কোন মন্তব্য করা হয়নি। গত সপ্তাহে উত্তর কোরিয়া কক্ষপথে দূরপাল্লার সফল ক্ষেপণাস্ত্র উেক্ষপণ করে। এতে বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় ওঠে। এ প্রসঙ্গে পার্ক জিউন বলেন, এ থেকেই বুঝা যায়,আমরা কতটা নিরাপত্তা হুমকিতে আছি।
১৯৫০-৫৩ সালে কোরীয় যুদ্ধের ধ্বংসলীলা থেকে দক্ষিণ কোরিয়াকে অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত করেছিলেন জিউন-হাইয়ের বাবা চাং হি। চাংয়ের সেই অবদানের স্মরণেই অনেকে এবারের নির্বাচনে ভরসা নিয়ে ভোট দিয়েছে তার মেয়েকে। এক ভোটারের উক্তি:তার বাবা দেশকে উদ্ধার করেছিলেন। তিনিও দেশকে রক্ষা করবেন বলে আমার আস্থা আছে। জিউন-হাই বর্তমান প্রেসিডেন্ট লি মুয়ুং বাকের স্থলাভিষিক্ত হবেন। ৫ বছর মেয়াদ শেষে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন লি। ফেব্রুয়ারিতে ৫ বছর মেয়াদে দেশের প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব নেবেন জিউন-হাই।
