‘আমরা সুবিচার চাই’ ধ্বনিতে শুক্রবার তরুণী গণধর্ষণের প্রতিবাদের ঢেউ আছড়ে পড়ল রাইসিনা হিলসে। দিল্লিতে সফদর জং হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইরত ২৩ বছরের ধর্ষিতা তরুণীর ন্যায় বিচারের দাবিতে নজিরবিহীনভাবে কয়েক হাজার প্রতিবাদী মানুষের মিছিল রাষ্ট্রপতি ভবনের নিরাপত্তা বেষ্টনি পেরিয়ে ভিতরে ঢুকে পড়ে। দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানাতেই এই পদক্ষেপ বলে জানায় মিছিলকারীরা।
গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি, ইয়ং উইমেনস ক্রিশ্চান অ্যাসোসিয়েশনসহ একাধিক সংগঠনের সমাজকর্মী, ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারণ মানুষ রাজপথ থেকে বিজয়চক হয়ে রাইসিনা হিলসে পৌঁছে। এরপর নিরাপত্তা বেষ্টনি পেরিয়ে প্রতিবাদী জনতার মিছিল রাষ্ট্রপতি ভবন, সাউথ ব্লক ও নর্থ ব্লকের দিকে এগিয়ে যায়। মহিলাদের জন্য নিরাপদ দিল্লি এবং ধর্ষিতার ন্যায় বিচারের দাবি জানিয়ে স্লোগান দেয় তারা। ধর্ষণকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও দাবি করেন তারা। শুধু রাজধানী নয়, রবিবারের নারকীয় ঘটনার প্রতিবাদের ঝড় ছড়িয়েছে সারা দেশেই। দিল্লিতে তরুণীর গণধর্ষণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ প্রদর্শন করলেন কলকাতার প্রাতঃভ্রমণকারীরা। আজ ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এলাকায় কালো পতাকা নিয়ে মিছিল করেন প্রাতঃভ্রমণকারীরা। দিল্লি সরকারের সমালোচনায় স্লোগানও দেন তারা। সবশেষে ফুটপাতে মোমবাতি জ্বালিয়ে নির্যাতিত তরুণীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
প্রাতঃভ্রমণকারীদের দাবি, ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত বিচার শেষ করে অবিলম্বে শাস্তি দেয়া হোক। পাশাপাশি গোটা দেশে মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সরকারের উপযুক্ত ব্যবস্থারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
মধ্যপ্রদেশের ভুপালেও প্রতিবাদে অংশ নেন অসংখ্য মানুষ। উত্তরপ্রদেশের লখনৌ এবং বিহারের পাটনাতেও প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন অসংখ্য মানুষ। দিল্লির গণধর্ষণের ঘটনায় আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ সকালে উত্তর প্রদেশের বেরিলি ও বরায়ু থেকে এদের আটক করা হয়। এদের মধ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে বরায়ুর রাজুকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দিল্লি পুলিশ কমিশনার নীরজ শর্মা।
রবিবার রাতে চলন্ত বাসের মধ্যে কলেজ-ছাত্রীকে ধর্ষণের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ৪ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। যাদের মধ্যে ছিল বাসচালক রাম সিংহ, রাম সিংহের ভাই মুকেশ, জিম ইনস্ট্রাকটর বিনয় শর্মা ও ফলবিক্রেতা পবন গুপ্ত। আরও দুই অভিযুক্ত অক্ষয় ও রাজুকে খুঁজতে বিহার, উত্তরপ্রদেশ ও রাজস্থানে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। রাজুকে গ্রেফতার করা হলেও ষষ্ঠজনের সঠিক পরিচয় এখনও জানা যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।
