পরিবার ছেড়ে আফগানিস্তানে বড়দিন উদযাপন করলেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের তৃতীয় উত্তরাধিকারী প্রিন্স হ্যারি। বুধবার দ্য টেলিগ্রাফ অনলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
খবরে বলা হয়েছে, পরিবার থেকে সাড়ে তিন হাজার মাইল দূরে আফগানিস্তানে বসে প্রার্থনা-সংগীত, হাস্যরস ও ভুরিভোজের মধ্য দিয়ে ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর প্রায় নয় হাজার সদস্যের সঙ্গে দিনটি কাটান প্রিন্স হ্যারি। ন্যাটোর নেতৃত্বাধীন যৌথবাহিনীর অংশ হিসেবে ব্রিটিশ বাহিনী এ নিয়ে দ্বাদশবারের মতো আফগানিস্তানে বড়দিন উদযাপন করল। আফগানিস্তানে তালেবানবিরোধী লড়াই এবং দেশটিকে স্থিতিশীল অবস্থায় নিয়ে আসতে কাজ করে যাচ্ছে ন্যাটো বাহিনী। আফগানিস্তানে ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্সের অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের চালক হিসেবে গত চারমাস ধরে দায়িত্ব পালন করছেন হ্যারি। সামরিক সূত্র জানায়, বাহিনীর অন্য সদস্যদের মতো বড়দিন উদযাপন করেছেন তিনি। ন্যাটোর নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্যের সামরিক সদস্য ২৭ বছর বয়সী হ্যারি দ্বিতীয়বারের মতো এখন আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালন করছেন।
বড়দিন উপলক্ষে হেলমান্দ প্রদেশে ব্রিটিশ বাহিনীর সবচেয়ে বড় ঘাঁটিতে একসঙ্গে চার হাজার সেনা সদস্যের দুপুরের খাবারের আয়োজন করা হয়। আয়োজনের মধ্যে ছিল ২০০ টার্কির মাংস, হাড়সহ প্রচুর গরুর মাংস, ৪০ বাক্স অংকুর ও ১২০ বস্তা আলু। হেলমান্দ প্রদেশের বাইরে ছোট ছোট ঘাঁটিগুলোতে সৈন্যদের রেশন প্যাকেটে গরম খাবার সরবরাহ করা হয়। ঘাঁটিগুলোতে ধর্মীয় সংগীত, পুতুল নাচ এবং খেলধুলার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
কাবুলে ব্রিটিশ বাহিনীর প্রধান শোটার ক্যাম্পে দুটি রেজিমেন্টে প্রায় ১৫০ সদস্য রয়েছেন। তাদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা খাবার বিতরণ করেন। এ সময় কানাডা ও পোল্যান্ডের বাহিনীর সদস্যরা তাদের সঙ্গে যোগ দেন। তবে বড়দিনের আগে আগেই সেনা সদস্যদের বাড়ি থেকে এসেছে অনেক উপহার। দুপুরে খাবার টেবিলে অনেকের মাথায় দেখা গেছে বড়দিনের টুপি ও জাম্পার।
