বৈরি মনোভাব নয়, সমঝোতাই একমাত্র সুষ্ঠু নির্বাচনের সমাধান
দিল্লির সুলতানগণ বাংলার নাম দিয়েছিলেন “বুলঘকপুর” কারণ বাঙালিরা সুযোগ পেলে বিদ্রোহ করতো। বাঙালির সেই বিদ্রোহ ভাবাপন্ন মনোভাব যেন জিনগতভাবেই সকল বাঙালির মধ্যে বংশপরম্পরায় বাহিত হয়েছে। বাঙালিরা বিভিন্ন সময় বিদ্রোহ করেছেন, প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন কিন্তু সে বিদ্রোহ বা প্রতিরোধ ছিল তাদের সুষ্ঠু অধিকার আদায়ের জন্য, কখনো মাতৃভাষা, কখনো বা স্বাধীনতার জন্য। আমি সে সকল বিদ্রোহ বা প্রতিরোধকে সমর্থন করি। সে সময়কার নেতা/নেত্রী ও বিশিষ্ট মহল সর্বদা ভেবেছে তাদের নিজস্ব ভূ-খণ্ড বা দেশের স্বার্থের কথা এবং দেশের সাধারণ মানুষের কথা। আমারা তাদের উত্তরসুরি, পেয়েছি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ, সঙ্গে পেয়েছি সেই বুলঘকপুরের উত্তরসুরি নেতা/ নেত্রী। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, এই নেতা/ নেত্রীদের মনোভাব বা বিদ্রোহ দেশের স্বার্থের জন্য নয়, তাদের নিজস্ব গোষ্ঠী স্বার্থের জন্য। সমগ্র উপরমহল আজ দুটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীতে বিভক্ত। তারা কেবল নিজেদের স্বার্থের কথা ভাবছে দেশের বৃহত্তর স্বার্থের কথা ভাবছে না। আসলে দুটি গোষ্ঠীই তাদের মনোবল হারিয়ে ফেলেছেন এবং তা তাদের কৃতকর্মের জন্য। তাই নিজস্ব স্বার্থের জন্য একটি গোষ্ঠী চাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন অন্য গোষ্ঠী চাচ্ছে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়কের অধীনে নির্বাচন। কেউ তাদের অবস্থান থেকে সরে আসতে চাচ্ছে না। এ অবস্থায় ‘২০১৩’ নির্বাচন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ বৈরি মনোভাব বজায় রাখলে “২০১৩ জাতীয় নির্বাচন” তো সম্ভবই না উপরন্ু্ত দেশে আবার সৃষ্টি হবে অরাজগতা (ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং এর প্রভাব অর্থনীতিতে পরতে শুরু করেছে)। দেশের সকল প্রগতি থমকে যাবে, দেশ আবার চলে যাবে কোন অগণতান্ত্রিক আগ্রাসী স্বৈরশাসকের হাতে। এর ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ পরিণত হতে পারে সোমালিয়ার মত দুর্ভিক্ষপীড়িত দেশে। তাই দেশের স্বার্থের জন্য উভয় গোষ্ঠীকে এ বৈরি মনোভাব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, সমঝোতায় আসতে হবে।
আমারা চাই, এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য উভয় গোষ্ঠী এমন একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাক, যা শুধু দেশের জন্যই নয়, সকল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য আদর্শ সিদ্ধান্ত হিসাবে বিবেচিত হয় (এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নিতে পারেন)। দেশের জনগণ আপনাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবে, দেশে অরাজগতা সৃষ্টি হবে না, দেশ হবে সমৃদ্ধ, আমরা পৌঁছাবো উন্নয়নের স্বর্ণশিখরে।
মো. আরিফুল ইসলাম
৪র্থ বর্ষ, প্রাণিবিদ্যা বিভাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
---
সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে দলগুলোকে সমঝোতায় পৌঁছতে হবে
আমাদের দেশের বর্তমান রাজনীতি গভীর সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে, আর এই সংকট আগামী নির্বাচনকে ঘিরে। এই নির্বাচন কোন সরকারের অধীনে হবে সে বিতর্কে সরকার ও বিরোধী দলের পাল্টাপাল্টি আক্রমণাত্মক বক্তব্য পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করা না করার ইস্যুতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভয়ানক এক পরিনতির দিকে ছুটছে। সরকার ও বিরোধী দলের মুখোমুখি অবস্থানে রাজপথে জ্বালাও- পোড়াও, হরতাল-অবরোধের কারণে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, বিদেশি বিনিয়োগসহ সবকিছুতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এদিকে সংসদীয় আসনে সীমানা পুনঃনির্ধারণে নির্বাচন কমিশন সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নিলেও এর যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি বর্তমান কমিশন প্রথম দিকে আলাদা, আলাদাভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসার সিদ্ধান্ত নিলেও হঠাত্ তা প্রশ্নের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি মনে করি, রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা অর্জনে বর্তমান কমিশনকে আলাদাভাবে মতবিনিময়ে যাওয়াই উত্তম। আর সরকার ও বিরোধী দল যতই বিপরীতমুখী আচরণ করুক না কেন, আশা করি দেশের স্বার্থে আগামী নির্বাচনসহ যে সব বিষয়ে সরকারের সঙ্গে বিরোধী দলের দূরত্ব গড়ে উঠেছে সে সব বিষয়ে সমঝোতার উদ্যোগ নিতে হবে।
মনির হোসেন
টেক্সটাইল বিভাগ (৪র্থ বর্ষ)
ড্যাপোডিল বিশ্ববিদ্যালয়, ধানমন্ডি, ঢাকা
---
আগামী নির্বাচন হতে
হবে জনসমর্থনের
ভোটে
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাই হোক না কেন রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে যাতে সুষ্ঠু ও অবাধে মানুষ ভোট দিতে পারে। কোন সহিংসতা ছাড়া এই ব্যবস্থা এখন থেকে তৈরি করতে হবে। কোন প্রকার অনিয়ম, ভয়ভীতি যেন না থাকে। ক্ষমতাসীন দল এবং বিরোধী দল নির্বাচনের আগে কিভাবে নির্বাচন হলে সাধারণ মানুষ তার পুরো অধিকার পাবে সেইদিকে এখন থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। নির্বাচন কোন পুতুল খেলা নয়। আগামী নির্বাচন জনগণের, তাই জয় আর পরাজয় নির্ণয় করবে জনগণ। অন্য কোন শক্তি যাতে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নির্বাচনে যেই সরকার ক্ষমতায় আসুক সেই সরকারকে জনগণের সরকার হতে হবে। আমি এই দল করি তাই আমার সকল কাজকর্ম সহজ হবে, সে অন্য দল করে সেইজন্য তার সকল কাজ কঠিন হবে এমনটা কেন হবে। আর একটা বিষয় লক্ষণীয় কেউ যাতে পেছনের পথ দিয়ে ক্ষমতায় আসতে না পারে সেইদিকে কড়া নজরদারি রাখতে হবে। যখনই কোন দল পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসে তখন দেশের মাঝে সৃষ্টি হয় মানুষের অশান্তি। তাই আমি প্রধান দুই দলকে বলবো, সময় থাকতে আলোচনায় বসে নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি নিতে হবে।
মো. দেলোয়ার হোসাইন
অর্থনীতি বিভাগ, দ্বিতীয় বর্ষ,
সরকারি তিতুমীর কলেজ
----
সুন্দর, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ
নির্বাচন চাই
বাংলাদেশের মত একটি গণতান্ত্রিক দেশের ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু সেই নির্বাচন যদি হয় প্রশ্নবিদ্ধ তাহলে কিভাবে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হবে। সংবিধান অনুযায়ী ২০১৩ সালের শেষের দিকে ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমাদের দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে দেখতে পায় যে দুইটি রাজনৈতিক দল পালা-বদল করে ক্ষমতায় আসে এবং উভয় দলের মুখে শোনা যায় দেশ ও জাতির কল্যাণের কথা কিন্তু কাজের কাজ কি হয় তা আমাদের সকলের জানা। বর্তমান সরকার আগামী নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী করতে চাচ্ছে কিন্তু বিরোধী দল তার উল্টো পথে চলছে। একজন বলছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যতীত, নির্বাচন, আরেকজন তত্ত্বাবধায়কের অধীনে নির্বাচন করবে। ফলে কি হচ্ছে, হরতাল গাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ইত্যাদি হচ্ছে। যখন ক্ষমতাসীন দলের বিপরীত বিরোধী দল হরতাল ডাকছে তখন কি জনগণের গাড়ি পুড়ছে না? হাজার হাজার রিকশাওয়ালা শ্রমিক না খেয়ে থাকছে না। দেশের কোটি কোটি টাকার ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষতি হচ্ছে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের পরীক্ষা, ক্লাস বন্ধ থাকছে না?
দেশ ও জাতির কল্যাণের প্রশ্নে উভয় দল একমত— তবে কেন বা বিরোধী দল হরতাল ডাকছে আর সরকারি দল এই হরতাল ডাকার সুযোগ করে দিয়ে ক্ষতি করছেন। কেন বা নির্বাচন নিয়ে দ্বিমত। উভয় দলে কেন নির্বাচন নিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করছেন। আমি মনে করি দেশ ও দেশের জনগণের স্বার্থে কিভাবে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন করা যায় তা নিয়ে দু’দলকে আলোচনায় বসতে হবে। ১৬ কোটি মানুষকে উপহার দিতে হবে একটি সুষ্ঠু সংঘাতহীন, স্বচ্ছ নিরপেক্ষ নির্বাচন
আতাউল গনি ওসমানী
উর্দু বিভাগ, ২য় বর্ষ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
