শিক্ষায় বর্তমান সরকারের বেশকিছু সাফল্য রহিয়াছে। শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে উন্নয়নের জন্য উল্লেখযোগ্য কিছু পদক্ষেপ লইয়াছে। দেশে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ শিক্ষানীতি প্রণয়ন ও তাহা বাস্তবায়ন, প্রাথমিক স্তরে ৯৯ ভাগের বেশি শিশুকে স্কুলে লইয়া আসিতে পারা, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে লিঙ্গসমতা অর্জন, নূতন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, শিক্ষার গুণগত মান বাড়াইতে সাড়ে তিন লাখ শিক্ষককে প্রশিক্ষণ, ৮০ হাজার নূতন শিক্ষক নিয়োগ, ঝরে পড়ার হার ৪৮ ভাগ হইতে কমাইয়া ২১ ভাগে নামাইয়া আনাসহ শিক্ষার বিভিন্ন শাখায় উন্নয়ন সাধিত হইয়াছে। ইহাছাড়া বর্তমান সরকার প্রাথমিক পর্যায় ছাড়াও মাধ্যমিক পর্যায়ে বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ শুরু করিয়াছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন প্রণয়ন করিয়াছে, অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা কার্যক্রম চালু করিবার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হয়রানি কমাইয়াছে। কোচিং বাণিজ্য বন্ধে সরকারের তত্পরতাও চোখে পড়িবার মতো। সরকারের অন্যান্য মন্ত্রণালয় যেই ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়াছে, শিক্ষা ক্ষেত্রে তাহাদের সাফল্য প্রশংসনীয়। কিন্তু বহু ক্ষেত্রেই কিছু করিতে পারা যায় নাই। যেমন শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস-অনিয়ম অব্যাহত ছিল। বিশেষত সরকারি ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নানান অপকর্মের খবর কয়েক বত্সর ধরিয়াই নিয়মিতভাবে সংবাদপত্রে প্রকাশিত হইতেছে। আর প্রকাশিত হইতেছে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের ঘুষ-দুর্নীতির খবরও।
এমনই একটি খবর বুধবার ইত্তেফাকে প্রকাশিত হইয়াছে। এই ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি হইলো শিক্ষাভবন, যেই ভবন হইতে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড পরিচালিত হইয়া থাকে। অভিযোগ উঠিয়াছে যে, শিক্ষামন্ত্রী স্কুলগুলিতে নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী গ্রন্থাগারিকদের এমপিও (বেতন-ভাতার সরকার প্রদেয় অংশ) ছাড়ের ঘোষণা দিলেও, ঘুষ ছাড়া তাহা মিলিতেছে না। গ্রন্থাগারিকরা শিক্ষাভবনে আসিয়া কর্মকর্তার নিকট হইতে জানিতে পারিতেছেন যে, ৫৫ হাজার টাকা দিলেই কেবল তাহাদের এমপিওভুক্তি নিশ্চিত হইবে। অর্থ লেনদেনের জন্য এই ক্ষেত্রে কর্মকর্তারা অফিসের পিয়নদের কাজে লাগাইতেছেন। জানা গিয়াছে, শিক্ষাভবনের ঘুষ-বাণিজ্য বন্ধ করিবার জন্য সকল কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হইয়াছে। এইজন্য ঘুষের অর্থ লেনদেনের স্থান হিসাবে বাছিয়া লওয়া হইয়াছে বাথরুমকে।
শিক্ষাভবনে নানান দুর্নীতির খবর অনেক পুরানা। দেশের নানান প্রান্ত হইতে শিক্ষকদিগকে তাহাদের নানাবিধ কাজে এই ভবনে আসিতে হয়। নানান হয়রানির মধ্য দিয়া তাহারা তাহাদের কার্য সমাধা করেন। যেই শিক্ষকেরা ছাত্র-ছাত্রীদের ন্যায় ও সত্পথে চলার জন্য নৈতিক শিক্ষা দিয়া থাকেন, তাহারাই ঢাকায় আসিয়া নিজেদের কাজের জন্য ঘুষ প্রদানে বাধ্য হন। উক্ত ভবনের কর্মকর্তা হইতে পিয়ন পর্যন্ত ঘুষের অর্থের ভাগবাটোয়ারা করিয়া থাকেন। মন্ত্রণালয়ের এই সবকিছুই জানা থাকিবার কথা। কিন্তু এই দুর্নীতি দূর হয় নাই। সিসিটিভি বসাইয়াও এই ব্যাধি দূর করা যাইবে না, যদি হোতাদের সমুচিত শাস্তি প্রদান করা না হয়। শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিবর্গ ঘুষ দিতেছে ও ঘুষ নিতেছে—ইহা খুবই আপত্তিকর বিষয়। তাহারা ছাত্র-ছাত্রীদের কী শিক্ষা দিবেন? তাই অবিলম্বে এই ব্যাধি দূর করিবার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করিতে হইবে। মাননীয় মন্ত্রী শিক্ষাভবনের দুর্নীতি দূরীকরণে সচেষ্ট হইবেন, ইহাই একান্ত প্রত্যাশা।
