[ তা রু ণ্য ]

অনলাইনে শাহবাগের গণআন্দোলন

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:৩৬
যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চে সাধারণ মানুষের সরব উপস্থিতি বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন নজির সৃষ্টি করেছে। মুক্তিযুদ্ধের পরে কোন রাজনৈতিক কর্মসূচি ছাড়া শাহবাগে হাজারো মানুষের এই উপস্থিতি নতুন বাংলাদেশের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সহিংসতাহীন, শান্তিপূর্ণ এই আন্দোলন সবাইকে একটা অভিন্ন মঞ্চে দাঁড় করাতে সমর্থ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং অনলাইনে কর্মরত ব্লগারদের হাত ধরেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত। তবে এই আন্দোলনকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে টুইটার বিশেষ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে। ফেসবুক কিংবা অন্য কোন মাধ্যমে কোন কিছু প্রকাশ করলে তা শুধু তার বন্ধুমহলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। সেখান থেকে অন্য কেউ সেটাকে শেয়ারে দিলে তখনই তা অন্য একটা গ্রুপের কাছে পৌঁছে যায়। আর টুইটারে কোন কিছু প্রচার করলে এ সংক্রান্ত তথ্যগুলো ধারাবাহিকভাবেই সবার কাছে চলে যাওয়ার সুযোগ থাকে। এ কারণে টুইটারের অবদানকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। অনলাইনে ‘শাহবাগের’ বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেতে গত কয়েক বছর ধরে যুদ্ধাপরাধীর বিচারের দাবিতে বিভিন্ন সময়ের আলোচনা সমালোচনা দিকে ফিরে তাকানো দরকার। বেশ কিছুদিন ধরে যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে সাধারণ মানুষ গুগলে অনুসন্ধান করে আসছে। এ সংক্রান্ত বিষয়ের মধ্যে মানুষ যে শব্দগুলো বেশি অনুসন্ধান করেছে তার মধ্যে ‘রাজাকার’, ‘বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ’, ‘জামাত-ই-ইসলামী’ এবং ‘শাহবাগ’ সবচেয়ে বেশি। ‘রাজাকার’ এবং ‘জামাত-ই-ইসলামী’ শব্দ দুটো বেশ আগে থেকেই মানুষ গুগলে অনুসন্ধান করতে থাকলেও অনুসন্ধানের তালিকায় সম্প্রতি ‘যুদ্ধাপরাধ’ এবং ‘শাহবাগ’ শব্দ দুটো নতুন ভাবে যোগ হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় ঘোষণা করার পর থেকেই শব্দগুলো দিয়ে গুগলে অনেক বেশি অনুসন্ধান হয়েছে। ২০১০ সাল থেকে শুরু করে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ের মধ্যে থেকে এ পরিসংখ্যানেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এ ধরনের একটি গ্রাফের প্রতি খেয়াল করলেও বিষয়টি বুঝতে সুবিধা হবে। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসির রায়ের বদলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হওয়ার পর শাহবাগে গণজাগরণের ওপর বিশ্বের শক্তিশালী গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোষ্টেও একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। যে কোন বিষয়ে স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ এবং আলোচনার ক্ষেত্রে টুইটার বেশ শক্তিশালী একটি মাধ্যম। গত দুইদিনে টুইটারে শাহবাগ বিষয়ে অনেক বেশি আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে রবিবার দুপুরে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল সংহতি প্রকাশ করার পর থেকে টুইটারে শাহবাগ সংক্রান্ত আলোচনা অনেক বেশি হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের এই সংহতি প্রকাশ করার পর সাধারণ মানুষ ক্রিকেট দলের এই ভূমিকাকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের এই সংহতি মানুষের মধ্যে বেশ সাড়া জাগিয়েছে। গণজাগরণের এ প্রবাহ বোঝার ক্ষেত্রে বেশকিছু সূচক রয়েছে। এসব সূচক পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম বিশেষ ভূমিকা আছে। শাহবাগ নিয়ে অনলাইনে মানুষের আগ্রহ হঠাত্ করে বেড়ে যাওয়ার কারণ গত সপ্তাহে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ। শাহবাগে আগতরা প্রতিমুহূর্তেই তাদের অভিজ্ঞতার কথা, আবেগের কথাগুলো টুইটারের মাধ্যমে প্রকাশ করছে। এপি, সিএনএন, নিউইয়র্ক টাইমসের মতো বিশ্বের প্রভাবশালী গণমাধ্যমেও শাহবাগ সংক্রান্ত খবর যুক্ত হচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে আন্দোলনকারীদের কথাগুলো প্রতিনিয়তই যুক্ত হচ্ছে টুইটারে। বিভিন্ন বক্তব্যের পক্ষে বিপক্ষে যুক্তিও তুলে ধরছেন টুইটকারীরা। বলা যায় এক ধরনের মুক্ত আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে টুইটারে। সোসাল কোলাইডার ডট নেটে শাহবাগ নিয়ে সন্ধান করলে দেখা যায় অনলাইনে শাহবাগ সংক্রান্ত আলোচনা বেশ গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে রয়েছে। শুধু তাই নয়, টুইট করেই থেমে থাকেনি টুইটকারীরা। বেশিরভাগ টুইটেরই ফিডব্যাক এসেছে। একটি জরিপে দেখা গেছে ৫০০টি টুইটের জবাবে ১৮৫টি ফিরতি টুইট এসেছে। আর এসব টুইটের ৭৯টি টুইটের উত্তর দিয়েছে টুইটকারীরা। গত সোমবারের এ পরিসংখ্যানের গ্রাফটি দেখলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। পরিশেষে বলা যায়, গণমানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া ক্ষোভগুলোকে পুঞ্জীভূত করে তাদের রাজপথে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। অনলাইনের কল্যাণেই আন্দোলনের প্রতি সমমনা মানুষ দ্রুত তাদের মধ্যে এক ধরনের মানসিক সেতুবন্ধন তৈরি করতে পেরেছে। টুইটারের মত মাধ্যমে উঠে আসা এই খণ্ড খণ্ড মতামতগুলোই আলোচনা সমালোচনার মাধ্যমে জনমতে পরিণত হয়েছে। আর এই জনমত ধীরে ধীরে বাংলাদেশি মানুষের গণদাবিতে রূপ নিতে শুরু করেছে। টুইট থেকে ভাষান্তর :অলক বিশ্বাস লেখক :ডাটা সাইন্টিস্ট এবং কলামিস্ট

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন