সুনামগঞ্জের টেংরাটিলা-ছাতক গ্যাস ক্ষেত্রের বিভিন্ন লিকেজ দিয়ে যত্রতত্র গ্যাস উদগীরণ হচ্ছে। গ্যাস লিকেজের কারণে টেংরাটিলা ও আশ-পাশ এলাকার লোকজন আবারো বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা করছেন। উদগীরিত লিকেজ গ্যাস স্থানীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘর-গৃহস্থালী কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণভাবে। গত সোমবার সরেজমিনে টেংরাটিলা গ্যাস ক্ষেত্র এলাকা ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয়রা জানান, গ্যাস ক্ষেত্রে বিস্ফোরণের পর থেকেই বিভিন্ন লিকেজ দিয়ে গ্যাস উদগীরণ হলেও সমপ্রতি গ্যাস উদগীরণের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৬ সালে গ্যাস উত্তোলনকারী বিদেশি কোম্পানি নাইকোর অদক্ষতার কারণে টেংরাটিলা গ্যাস কূপে পর পর দু’দফা বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের ফলে টেংরাটিলা ও আশ-পাশ এলাকার খাল-বিল এবং ক্ষেতের জমিতে গ্যাস লিকেজ হতে থাকে। পরবর্তীতে মূল কূপ বন্ধ করা হলেও লিকেজ পুরোপুরিভাবে বন্ধ হয়নি। সমপ্রতি গ্যাস ক্ষেত্র এলাকার চারদিকে মারাত্মক আকারে গ্যাস উদগীরণ বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। অপরদিকে এক শ্রেণীর লোকজন স্থানীয় প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণভাবে লিকেজ গ্যাস ব্যবহার করছে গৃহস্থালী কাজে। লিকেজ গ্যাস উদগীরণের স্থানে বড় আকারের গামলা দিয়ে ঢেকে তার সাথে পাইপ সংযোগ দিয়ে সরাসরি রান্না ঘরের চুলায় গ্যাস ব্যবহার করছে তারা। এসব গ্যাস নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই রান্না-বান্নার কাজে ব্যবহার করায় অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণ ঘটার আশংকা রয়েছে। টেংরাটিলা ও আশ-পাশ এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রামের প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবার এভাবেই গৃহস্থালী কাজে লিকেজ গ্যাস ব্যবহার করছে। গ্যাস ক্ষেত্রের প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকার জমি, খাল, নদী-নালাতেও ক্রমান্বয়ে বুদ-বুদ আকারে গ্যাস উদগীরণ হতে দেখা গেছে। লিকেজ গ্যাস ব্যবহারকারী আবুল কাশেমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, খালের পানির নিচ থেকে প্লাস্টিকের পাইপের মাধ্যমে গ্যাস সংযোগ দিয়ে পরিবারের রান্না-বান্নার কাজ করছে তারা।
