কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়েছে। উপজেলার ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে নানা ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, ওষুধ সংকট, রোগীদের নিম্নমানের খাবার পরিবেশনসহ প্রয়োজনীয় ৩৪ জন চিকিত্সকের স্থলে মাত্র ৬ জন দিয়ে নামমাত্র চলছে উপজেলার প্রায় ৭ লক্ষ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা। ফলে প্রতিদিন শত শত রোগী চিকিত্সা নিতে এসে সঠিক চিকিত্সা সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। কেউ-কেউ বাধ্য হয়ে বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিত্সা নিচ্ছেন।
জানা গেছে, ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ ২০ জন এবং উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১৪ জনসহ সর্বমোট ৩৪ জন চিকিত্সকের পদ রয়েছে। এরমধ্যে টিএইচএসহ ৬ জন চিকিত্সক বর্তমানে কর্মরত আছেন। এছাড়া আরও দুজন চিকিত্সক এ হাসপাতাল থেকে বেতন উত্তোলন করেন। এর একজন প্রেষণে ঢাকায় এবং আরেকজন বরিশাল মেডিক্যালে কর্মরত আছেন। আর ১৪টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র চিকিত্সক শূন্য অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে, এ উপজেলার প্রায় ৭ লক্ষাধিক মানুষ চিকিত্সাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শুধুমাত্র জরুরি বিভাগে সামান্য কাটাছেঁড়া রোগী ছাড়া অন্যান্য চিকিত্সা নিতে আসা রোগীদের ভাগ্য ভাল হলে হয়ত চিকিত্সকের দর্শন মিলে। তাছাড়া জটিলতা দেখা দিলে মেডিক্যাল এসিস্টেন্ট ও নার্সরা রোগীকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল বা রাজশাহী মেডিক্যালে পাঠিয়ে দেয়।
হাসপাতালের এক্সরে মেশিনটি প্রায় একযুগ ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। ইসিজি মেশিনটিও ৫/৬ বছর ধরে নষ্ট। সংরক্ষণ ও মেরামতের নামে অর্থ ব্যয় হলেও তা অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে। অক্সিজেন না থাকায় মুমূর্ষু রোগীরা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে রোগীরা আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছে। রোগীদের প্রতিদিন একবেলা মাছ ও একবেলা মাংস দেবার শর্ত থাকলেও তা দেয়া হচ্ছে না। গরু বা খাসির মাংসের বদলে ব্রয়লার মুরগির মাংস এবং রুই মাছের বদলে পাঙ্গাস বা সিলভার কার্প মাছ দেয়া হচ্ছে। একাধিক ঘনিষ্ঠসূত্র জানায়, সরকারিভাবে হাসপাতালে ৩৬ ধরনের ওষুধের সরবরাহ থাকলেও রোগীদের প্যারাসিটামল, এন্টাসিড ও মেট্রোনিডাজলসহ মাত্র ১০/১২ ধরনের ওষুধ দেয়া হয়। সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও দামী ওষুধগুলো রোগীদের বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য করা হয়।
