শান্তিপূর্ণ নির্বাচন
হবে কি?
গণতন্ত্রের দেশ বাংলাদেশ। সুজলা-সুফলা শস্য-শ্যামলা এই স্বাধীন দেশের নেতৃত্ব প্রদানের পিছে নির্বাচন প্রক্রিয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশের রাজনৈতিকি পরিমণ্ডলে এক অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনে যাবে না বলে ঘোষণা করেছে। শুধু তাই নয়, তারা সরকার বিরোধী বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করে এবং সরকারের সোনালি স্বাভাবিক অগ্রযাত্রার বিপক্ষে দাঁড়িয়ে দেশে হরতাল, দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করছে। সরকারি দল যখন দেশের নতুন প্রজন্মের একমাত্র চাওয়া স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্যে ধাবমান, ঠিক তখনই জামায়াত-শিবির নামে এক ভয়াল থাবা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বাধাকে বড় আকৃতির করতে হেফাজতে ইসলাম নামে নতুন ভাইরাস তাদের হাতে হাত মিলেছে। যাদের মাথায় পানি ঢালছে দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও জাতীয় পার্টি। সব মিলে দেশের রাজনৈতিক অবস্থা ভয়াবহ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে সৃষ্টি হচ্ছে টানা হরতাল, বিক্ষোভ খুন-হত্যা ইত্যাদি অরাজকতা। আর এসবের ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার জনগণ, এইচএসসি পরীক্ষার্থী, আর এ সকল কিছুই আগামী নির্বাচনকে ঘিরে। দেশের জনমহলেও এটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
দেশের অভ্যন্তরীণ অবস্থা যতই উত্তেজিত হোক না কেন, আগামীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়াই। উন্নত দেশগুলোর মতো বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে এক্ষেত্রে সরকার ও বিরোধী দলের উচিত পরস্পর সমঝোতায় এসে জাতিকে একটি সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেয়া।
মো: মাসুদুর রহমান
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ (৩য় সেমিস্টার)
স্যার এ.এফ. রহমান হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
শান্তিপূর্ণ নির্বাচন না হওয়াই স্বাভাবিক
আমাদের সামনে অপেক্ষা করছে সংসদ নির্বাচন। জনমনে প্রশ্নের কৌতূহল জাগতেই পারে যে আগামী নির্বাচন সঠিকভাবে হবে কি? সম্ভবত না। আজকে আমরা সংবাদের সময় TV চালু করলে বুঝতেই পারি না যে, একাত্তরের কোন ছবি হচ্ছে না বর্তমান সময়ের চিত্র উদ্ভাসিত হচ্ছে। এক এগার আমরা প্রতি বছরই দেখি তবে ২০০৭-এর মত এক এগার আমাদের যেন আর দেখতে না হয় সে জন্য সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। আমাদের দেশ হচ্ছে গণতান্ত্রিক দেশ। আমাদের সরকার হচ্ছে জনগণের সরকার তাই জনগণের দায়িত্ব সরকারেরই নিতে হবে। বিশ্বজিত্, অন্তু ও রাজীবের মত আর একটি মানুষেরও যেন রাজনীতির হেঁয়ালিপনার বলি হতে না হয়। ৪+৪=৮ হয় আবার ৪+ কয়েক ডজন ০+৪=৮ অর্থাত্ এখানে দুটি ৪ হচ্ছে প্রধান। ঠিক তেমনি প্রধান দুই রাজনৈতিক দল যদি সংলাপে এবং সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে অন্যান্য রাজনৈতিক দল তা মেনে নেবে। যত দ্রুত তারা সমঝোতায় আসবে ততই দেশের জন্য মঙ্গল। তবে আমার মনে হয় প্রধান দুই রাজনৈতিক দল সংলাপে বসবেন না। কারণ বাংলাদেশের রাজনীতি ধন্যবাদ আর সংলাপের নয় বাংলাদেশের রাজনীতি ‘ডাইরেক্ট এ্যাকশন’ আর রাজপথ কাঁপাতে বিশ্বাসী। যুক্তরাষ্ট্রে যখন এক দল জয়ী হয় অন্য দল তখন ধন্যবাদ জানায় সেখানে বাংলাদেশের এক দল অন্য দলকে ভোট চুরির দায়ে দায়ী করে। গত ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে শহীদ মিনারে ফুল দিতে যাবার সময় একটু বিস্মিত হই রাজনৈতিক দলগুলোর শ্লোগান শুনে। তবে কেন হলাম জানি না, শ্লোগানটা ছিল এ রকম যে ‘ডাইরেক্ট এ্যাকশন ডাইরেক্ট একশন।’ তাই আমার মনে হয় স্বয়ং ভগবানও এখনও ডিসাইড করেননি যে আগামী নির্বাচন সঠিকভাবে হবে কিনা।
দেবাশীষ চন্দ্র সাহা
১ম বর্ষ (স্নাতক),
লোক প্রশাসন বিভাগ
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।
বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব ত্যাগ করে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব
বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক অবস্থার কথা ভাবতে শরীরের লোম খাড়া হয়ে যায়। হত্যা, গুম লুটতরাজ ও অগ্নিসংযোগ— এ যেন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। স্বাধীন দেশে এমন ঘটনা খুবই দুঃখজনক ও ন্যক্কারজনক। বহুল প্রচলিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকারের যে সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে বাংলাদেশে তার উল্টোটা কার্যকর। আমাদের দেশের সরকার জনগণের দ্বারা হলেও তারা জনগণের হতে চায় না। ক্ষমতায় এলে সরকারি দল থাকে দলীয় স্বার্থে ব্যস্ত। অন্যদিকে বিরোধী দল থাকে সরকারের সমালোচনায় ব্যস্ত। পারলে সরকার পতনের ডাক দেয়ার মত কঠোর কর্মসূচিতে ব্যস্ত। সরকারকে ক্ষমতায় টিকে থাকতে হলে এবং বিরোধী দলকে ক্ষমতায় আসতে হলে প্রয়োজন জনপ্রিয়তা আর জনপ্রিয়তা অর্জনের একমাত্র উপায় হলো জনকল্যাণমূলক কাজ। কিন্তু জনকল্যাণমূলক কাজের পরিবর্তে যখন দেশের দুই বড় দল ক্ষমতার সিংহাসন নিয়ে টানা হেঁচড়ায় ব্যস্ত। তখন সাধারণ মানুষ যাঁতাকলের ন্যায় পিষ্ট হতে থাকে, দিতে হয় নিষ্পাপ অনেক জীবন। সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাবলী তার দৃষ্টান্ত। দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ চায় না কোন গুম হত্যা বা হরতালের গরম প্রতিবাদ।
মোঃ আল-আমিন হুসাইন
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ,
১ম বর্ষ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।
গণতন্ত্র রক্ষায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আবশ্যক
গণতন্ত্র একটি আদর্শ ও সর্বোত্কৃষ্ট এবং জনপ্রিয় শাসন ব্যবস্থা বটে। কিন্তু এর সফল ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন অত্যন্ত কঠিন। বাংলাদেশ একটা গণতন্ত্রগামী দেশ এটা যেমন সত্য তেমনি গণতান্ত্রিক দেশে একাধিক রাজনৈতিক দল থাকবে এটাও সত্য। দেশের মানুষ আশা করে যে, দল যেই আসুক সেটা যত কথা নয় বরং তারা যেন জনগণের সেবক হিসাবে আসে, শাসক হিসাবে নয়। পূর্ববর্তী নির্বাচন যথাযোগ্য ও গ্রহণ যোগ্যতার মধ্যদিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে নির্বাচন সাংবিধান অনুযায়ী হওয়ার কথা। তবে নির্বাচন কি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এবং নিরপেক্ষ হবে? এমন প্রশ্ন গোটা বাংলাদেশের মানুষের। আমরা যারা নতুন প্রজন্ম। আমরা সবাই এমন এক নির্বাচন চাই যে নির্বাচনে কোন ভোট কারচুপি হবে না। হবে না পক্ষপাতিত্ব। থাকবে না একদলীয় কার্যক্রম। অতএব নির্বাচনটা হতে হবে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য।
আকাশ আহমেদ (জারসা)
ওল্ড ১ম বর্ষ ৩২১০ সমাজবিজ্ঞান
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
