রবিবার টোকিওতে কেরির সঙ্গে বৈঠকের পর জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুমিও কিশিয়া উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক অস্ত্রসমৃদ্ধ হতে না দেয়ার ব্যাপারে দু’জনের একমত হওয়ার কথা জানান। এ সম্পর্কে কিশিয়া বলেন, “উত্তর কোরিয়াকে উস্কানিমূলক কথাবার্তা বাদ দিয়ে নিরস্ত্র হওয়ার পথে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে- এব্যাপারে আমরা একমত হয়েছি। আমরা উত্তর কোরিয়াকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রসমৃদ্ধ হতে দিতে পারি না।” ওদিকে কেরি বলেন, “জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র ‘যা করা প্রয়োজন করবে’। তবে তিনি বলেন, “আমরা আলোচনার পথই বেছে নিতে চাই। আলোচনার টেবিলে বসে ওই অঞ্চলে (কোরিয়া উপদ্বীপ) শান্তি ফিরিয়ে আনার পথ খোঁজাটাই আমাদের পছন্দ।” কোরিয়া উপদ্বীপে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান নিশ্চিত করতে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র কাজ করে যাবে জানিয়ে কেরি আঞ্চলিক উত্তেজনা অবসানে উত্তর কোরিয়াকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সংলাপে বসার আহ্বান জানান।
একইসঙ্গে দেশটিকে ফের সতর্ক করে দিয়ে কেরি বলেন,“তারা (উত্তর কোরিয়া) হুমকি-ধামকি চালিয়ে যেতে থাকলে বিশ্ব সমপ্রদায় থেকে আরো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে”। এশিয়া সফরের অংশ হিসেবে রবিবার জাপান পৌঁছান যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। কোরিয়া উপদ্বীপে উত্তেজনা নিয়ে আলোচনার জন্য কেরি প্রথমে দক্ষিণ কোরিয়া সফর শেষে শনিবার বেইজিংয়ের পর রবিবার জাপানে যান। এ সফরের মধ্যদিয়েই শেষ হচ্ছে তার এশিয়া সফর। সফরকালে উত্তর কোরিয়ার উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড রোধে কেরি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রভাব কাজে লাগানোর চেষ্টা নেন। উত্তর কোরিয়া সমপ্রতি দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে হামলার হুমকি দেয়ার পর ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বেড়েছে। কেরি চীন সফরকালে উত্তর কোরিয়া নিয়ে উত্তেজনা প্রশমনে বেইজিংকে আন্তরিক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এর আগে দক্ষিণ কোরিয়া সফরকালে তিনি বলেছেন,যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক শক্তিধর উত্তর কোরিয়াকে মেনে নেবে না এবং প্রয়োজনবোধে মিত্রদেশগুলোকে সুরক্ষা দেবে। উত্তর কোরিয়া খুব শিগগিরই ক্ষেপণাস্ত্র উেক্ষপণ করতে পারে বলে জল্পনা বাড়ছে। উত্তর কোরিয়ার রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের আওতার মধ্যে রয়েছে জাপান। রবিবার ফুমিওর সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে কেরি বলেন,“উত্তর কোরিয়ার এখন বোঝা উচিত যে, তাদের হুমকি এবং উস্কানি কেবল বিচ্ছিন্নতাই বাড়াবে এবং দেশটির জনগণ আরো বেশি দারিদ্র্যপীড়িত হবে।” তিনি আরো বলেন,“তাদের এই উস্কানির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের বাঁচাতে যা প্রয়োজন তা করবে।
