ভাগ্য বলুন আর সময়; শেন জার্গুনসেনের বাংলাদেশ পর্ব এখন পর্যন্ত দারুণ মধুর কাটছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অপ্রত্যাশিতরকমের ভালো করেছে তার দল। তবে এবারই প্রথম সত্যিকারের পরীক্ষায় বসতে হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ান এই কোচকে। এই প্রথম তাকে ‘জিততেই হবে’ এমন চাপ নিয়ে আজ থেকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট শুরু করতে হচ্ছে।
এই চাপই একটি দলকে পেছন পায়ে ঠেলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ঠ। কিন্তু জার্গুনসেনের কথায় অন্তত মনে হচ্ছে না, তিনি চাপ নিচ্ছেন। বরং পরিষ্কার বলে দিচ্ছেন, প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে হোক আর নাই হোক; তিনি জয়ই চান, ‘আমরা এখানে এই সিরিজ জিততে এসেছি। আমরা যাদের বিপক্ষেই খেলছি না কেন, সেটা কোন ব্যাপার নয়। আমরা প্রত্যাশানুযায়ি ভালো খেলতে পারি কিনা সেটাই মূল বিষয়’।
বাংলাদেশ দল গত এক বছরই ভালো ক্রিকেট খেলছে। বিশেষ করে ওয়ানডে ক্রিকেটে এই ভালো খেলার কারণেই অনেকগুলো জয় পেয়েছে তারা। মূলত সেখান থেকে দলের ভালো খেলার অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। যদিও গত এক বছর খুব বেশি টেস্ট খেলেনি মুশফিকুর রহিমরা। দলের দারুণ এই সাফল্যের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কোচ বলেন, ‘২০১২ সাল ওয়ানডে ক্রিকেটে আমাদের জন্য ভালো সময় কেটেছে। ভালো খেলার আত্মবিশ্বাসটাই অন্যান্য ফরম্যাটের ক্রিকেটে কাজে লেগেছে। আমরা এক সাথে বছর বিশেক বয়সের বেশ কয়েক জন তরুণ ক্রিকেটার পেয়েছি। কিছু অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ও দারুণ পারফরম করছে। তারা প্রত্যেকে সত্যিকার অর্থে ভালো করছে’।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই টেস্ট সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু আজ। গত এক বছর ধরে ভালো ক্রিকেট খেলার ধারাবাহিকতার কারণেই কোচের মনে স্বস্তির জন্ম দিয়েছে। তবে পাশাপাশি কপালে দুশ্চিন্তাও ভর করছে। যেন জিম্বাবুয়ের কাছে কোন অঘটনের স্বীকার হয়ে পঁচা শামুকে পা কাটার অবস্থা না হয়। দুশ্চিন্তার অন্যতম কারণ হচ্ছে বোলিং বিভাগ। প্রধান পেসাররা ইনজুরিতে থাকায় পেস আক্রমণটি বলা যায় ভঙ্গুর। কোচ এ প্রসংগ টানতে গিয়ে বলেন, ‘এই জায়গায় আমাদের উন্নতির প্রয়োজন। আমাদের প্রধান শক্তি স্পিন আক্রমণে। ব্যাটসম্যানদের রুখে দেয়ার মত আমাদের কিছু ফাস্ট বোলার রয়েছে। কিন্তু কখনো কখনো দলের কঠিন পরিস্থিতিতে তাদের অভিজ্ঞতার ঘাটতি দেখা যায়। আমি সেসব ফাস্ট বোলারদের দায়িত্ব নিতে বলেছি’।
হারারের উইকেট সাধারণত পেস বান্ধব হয়ে থাকে। সেদিক থেকে কিছুটা পিছিয়ে থাকবে বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশের ভরসা গত পাঁচদিনের অনুশীলন। প্রথম টেস্ট খেলার জন্য ছয়দিন আগে হারারে পৌঁছেছে মুশফিকুর রহিমরা। উদ্দেশ্য এখানকার কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নেয়া এবং উইকেট সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল হওয়া। তাই জার্গুনসেনও উইকেট নিয়ে তেমন মাথা ঘামাতে চাচ্ছেন না, ‘উইকেট হয়তো ফ্লাট হতে পারে। শ্রীলংকায় এ ধরনের উইকেটে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ অনুশীলন করে এসেছে। শ্রীলংকার উইকেট ছিল ক্রিকেট খেলার উপযোগি। সেখানে পেসাররা ভালো বাউন্স এবং পেসও দিতে পেরেছে। এখানেও আমরা সেরকম দেখতে পারছি। তাই আমি বলবো, শ্রীলংকায় আমাদের সবচেয়ে ভালো প্রস্তুতি হয়েছে’।
শ্রীলংকায় প্রথম টেস্টে মুশফিকুর রহিমের ডাবল সেঞ্চুরি এবং মোহাম্মদ আশরাফুলের ১৯৪ রানের কারণে টেস্ট ড্র করতে পেরেছে বাংলাদেশ। কোচ এই দুই ব্যাটসম্যানের পারফর্মেন্সে মুগ্ধ। বিশেষ করে আশরাফুলের ফিরে আসা দেখে তার আত্মবিশ্বাসের পারদটাও তার প্রতি বেড়েছে। কাল আশরাফুল প্রসংগে কোচ, ‘আশরাফুল শ্রীলংকায় নিজেকে নতুন করে চিনিয়েছেন। উইকেটে টিকে থাকার যে মানসিকতা তৈরি হয়েছে তার এটাই তার উন্নতির অন্যতম লক্ষণ। তার সেই ইনিংসে ভুল শট ছিল খুবই নগন্য। তার পরিবর্তনশীল খেলাই দলের অনেক উপকারে এসেছে’।
