‘পুরোনো দিন’ ফেরাচ্ছে জিম্বাবুয়ে!

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০১৩, ২২:০১
আজ উত্সবে মেতে উঠবে হারারে। গতকাল রাত থেকেই সরকারের দেয়া বিশেষ বিনামূল্যের বাসগুলো চালু হয়ে গেছে। সারা দেশ থেকে মানুষ রাজধানীতে আসবে উত্সবে যোগ দিতে। শেষবারের মতো চূড়ান্ত মহড়াও হয়ে গেছে গতকাল। হারারে জাতীয় স্টেডিয়ামকে সাজানো হয়েছে রাজকন্যার মতো করে। এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। তারপরই জ্বলে উঠবে আতশবাজি, বেজে উঠবে শব্দযন্ত্র এবং উত্সবে মেতে উঠবে পুরো জিম্বাবুয়ে; বিশেষ করে হারারে। না, এই মেতে ওঠার সঙ্গে ক্রিকেটের দূর দূর কোনো সম্পর্ক নেই। আজ আসলে জিম্বাবুয়ের ৩৩তম স্বাধীনতা দিবস। ১৯৮০ সালের এই দিনে বৃটিশ উপনিবেশ ‘জিম্বাবুয়ে রোডেশিয়া’ নাম ঘুচিয়ে রিপাবলিক অব জিম্বাবুয়ে হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তখনকার সেইলসবুরি, আজকের হারারের জাতীয় স্টেডিয়ামেই মহাসাড়ম্বর সেই স্বাধীনতা উত্সবে ‘জিম্বাবুয়ে’ শিরোনামেই গান গেয়েছিলেন কিংবদন্তী বব মার্লে। বব মার্লে বলুন, আর অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার; জিম্বাবুয়ের গৌরবের দিন গত হয়েছে। গত তিন দশকে দেশটির রাজনীতিতে যেমন, ক্রিকেটেও তেমন স্বর্গ থেকে পতন ঘটেছে। রাজনৈতিক দূরবস্থা তো ক্রিকেটাররা কাটিয়ে দিতে পারবেন না। তবে স্বাধীনতা দিবসের এই দিনে অন্তত ক্রিকেটের গর্বের স্মৃতি কিছুটা হলেও ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে পারেন ব্রেন্ডন টেলররা। এক ম্যাচেই পুরো দিন তো ফিরবে না। তবে এই টেস্টে অন্তত নিজেদের আধিপত্য ফিরিয়ে আনার মতো করেই প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন ব্রেন্ডন টেলর ও ম্যালকম ওয়ালার। উইকেটে সামান্য ঘাস দেখে বাংলাদেশের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিলেন। সিদ্ধান্তটাকে একেবারে সঙ্গে সঙ্গে সঠিক বলে প্রমাণের চেষ্টায় উঠেপড়ে লাগলেন দুই পেসার রুবেল হোসেন ও রবিউল ইসলাম। বিশেষ করে রবিউলকে জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানদের সামনে তখন ডেনিস লিলি কিংবা ওয়াকার ইউনিসের মতোই মনে হচ্ছিল। যে ইয়র্কারে ওপেনার তিমিকেন মারুমার মিডল স্ট্যাম্প উড়িয়ে দিলেন; তা দেখে ক্রিকইনফোতে এক পাঠকই মন্তব্য করলেন—ওয়াকার ফিরে এসেছে! রবিউল তার প্রথম গোটা পাঁচেক ওভার আসলে ত্রাস হয়ে ওঠার মতোই বল করছিলেন। প্রথম ওভারের শেষ বলেই মারুমাকে শূন্য হাতে ফেরাতে পারতেন; যদি শাহরিয়ার নাফীস স্লিপে ‘ডলি’ ক্যাচ ফেলে না দিতেন। পরে একটার পর একটা ‘ক্লোজ’ আবেদন করেছেন এলবিডব্লিউর। বিশেষ করে ৪ রানে থাকা অবস্থায় মারুমার বিপক্ষে যে আবেদন করেছিলেন, তাতে আম্পায়ারের সাড়া না দেয়াটা বিস্ময়কর ব্যাপার। অবশ্য রবিউল এর পুরস্কার পেয়েছেন। ব্যক্তিগত ৫ রানে মারুমাকে দৃষ্টিনন্দন ওই বোল্ড করেছেন এবং এর আগেই এলবিডব্লিউ করে ফিরিয়েছেন আরেক ওপেনার ভুসি সিবান্দাকে। একপ্রান্তে রবিউলের এই ত্রাস হয়ে ওঠা এবং অন্য প্রান্তে রুবেল-সোহাগ-এনামুলদের হিসেবি বোলিং মিলিয়ে জিম্বাবুয়ে যেন খোলসে ঢুকে গেল। এরপর এনামুল দলীয় ৬৫ রানে ফেরালেন হ্যামিলটন মাসাকাদজাকে। তখনই জিম্বাবুয়ের স্কোর বোর্ড দেখতে অনেকটা সেই প্রাগৈতিহাসিক যুগের মতো লাগছিল। জিম্বাবুয়ে যখন লাঞ্চে গেল, তখন ২৯ ওভারে তাদের রান ২ উইকেটে ৫০! ৫৪ ওভার পর্যন্ত তাদের রান রেট ২-এর নিচেই ঘোরাফেরা করল। মনে হচ্ছিল, প্রথম দিনের সর্বনিম্ন স্কোরের তালিকায় বুঝি চলে আসবে এই দিনটা। কিন্তু জিম্বাবুয়ের এই চেহারাটা দিনশেষে বাংলাদেশ ধরে রাখতে পারল না সেই অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেলর ও ম্যালকম ওয়ালারের ব্যাটিংয়ে এবং নিজেদের দারুণ ফিল্ডিং ব্যর্থতায়। ‘হাফ চান্স’ যাকে বলে, সে রকম মিস হল বেশ কয়েকটা। কিন্তু টেলর ও ওয়ালার দু’জনই পরিষ্কার দুটি লাইফ পেলেন এ সময়ে। এনামুলের বলে টেলর ৩৫ রানে থাকা অবস্থায় ক্যাচ দিলে লং অফে ফেললেন আবার শাহরিয়ার নাফীস। আর ২১ রানে ওই এনামুলের বলেই ওয়ালারের ক্যাচ পয়েন্টে ফেললেন আশরাফুল। এ দুটি ক্যাচ হাতে নিতে পারলে জিম্বাবুয়েকে এখন হয়তো সত্যিই মান বাঁচানোর লড়াই করতে হত। এখন দেখার বিষয় আজ স্বাধীনতা দিবসের আনন্দে মেতে ওঠার মতো করে ব্যাটিং তারা করতে পারে কি না। নাকি, বাংলাদেশ তাদের ‘পার্টি স্পয়েল’ করার দায়িত্ব নিতে পারে!