পরিবর্তনে চোখ মালদিনির

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৪২
ইতালিয়ান ফুটবলে মৌলিক পরিবর্তন এবং নতুন করে বিনিয়োগ না হলে দেশটির ক্লাবগুলো ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ে ভাল কিছু উপহার দিতে পারবে না। রয়টার্সের সঙ্গে সাক্ষাত্কারে সিরি এ ক্লাবগুলোর ভবিষ্যত্ সম্পর্কে এমন আশঙ্কাই প্রকাশ করলেন ইতালিয়ান কিংবদন্তি পাওলো মালদিনি। ২০১০ সালে ইন্টার মিলান শিরোপা জেতার পরে এখনো পর্যন্ত আর কোন ক্লাবই চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ চারের বাঁধা পেরোতে পারেনি। ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টটির এবারের আসরে সিরি এ চ্যাম্পিয়ন জুভেন্তাসই শুধু পা রাখতে পেরেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। তবে সেখানে বায়ার্ন মিউনিখের সঙ্গে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-০ গোলে পরাজিত হয়ে বিদায় নিয়েছে তারাও। অথচ এসি মিলান, ইন্টার মিলান আর জুভেন্তাস; ইতালিয়ান ফুটবলের এই তিন পরাশক্তি এক সময় দোর্দণ্ড প্রতাপে রাজত্ব করেছে ইউরোপে। সম্মিলিতভাবে তাদের ভাণ্ডারে আছে ১২টি চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা। শুধু চ্যাম্পিয়নস লিগ নয়, ইউরোপের আরেকটি ক্লাব ভিত্তিক টুর্নামেন্ট উয়েফা ইউরোপা লিগেও ১৯৯৯ সালের পর কোন ইতালিয়ান ক্লাব শিরোপা জিততে পারেনি। পরিসংখ্যান বলছে, এক ধরনের ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়েই যাচ্ছে ইতালিয়ান ফুটবল। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের কোন বিকল্প দেখছেন না মালদিনি। রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ইউরোপের শীর্ষ দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে আপনাকে অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে। ঐ পর্যায়ে পৌছাতে হলে এর কোন বিকল্প নেই।’ নিজের বক্তব্যের স্বপক্ষে যুক্তি হিসেবে জুভেন্তাস-বায়ার্নের ম্যাচটির দিকে ইঙ্গিত করে মালদিনি বলেন, ‘বায়ার্নের (মিউনিখ) বিপক্ষে জুভেন্তাসের ম্যাচটির দিকে তাকালেই আপনি ব্যাপারটা বুঝতে পারবেন। জুভেন্তাস গ্রেট একটা ক্লাব সন্দেহ নেই। ইতালিতে তাদের পারফরম্যান্সও দারুণ। কিন্তু আপনাকে যখন বায়ার্নের মতো একটা দলের বিরুদ্ধে লড়তে হবে তখনই বোঝা যাবে দুদলের পার্থক্য। তাদের (জুভেন্তাস) অন্তত আরো কয়েকজন বিশ্বমানের খেলোয়াড় দরকার।’ ইতালির হয়ে ১২৬টি ম্যাচ খেলা মালদিনি এসি মিলানে কাটিয়েছেন সুদীর্ঘ ২৫টি বছর। ক্লাবটির হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার বিরল রেকর্ডও তার দখলে। এই লম্বা ক্লাব ক্যারিয়ারে সিজার মালদিনি পুত্র জিতেছেন সম্ভাব্য সবগুলো ট্রফি। মিলান তো বটেই ইতালিয়ান ক্লাব ফুটবলেরও স্বর্ণযুগ ছিল সেটি। কারণ সিরি একেই তখন ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ লিগ বলে ধরা হতো। স্মৃতিময় সেই দিনগুলোর কথা চিন্তা করে এখনো আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মালদিনি। তিনি বলেন, ‘নম্বইয়ের দশকে আমাদের সাতটি দুর্দান্ত দল ছিল- মিলান, ইন্টার, জুভেন্তাস, পার্মা, লাজিও, রোমা এবং ফিওরেন্তিনা। আপনি যদি দলগুলোর খেলোয়াড়দের দিকে তাকান তাহলে দেখবেন বিশ্বসেরা কিছু খেলোয়াড় ছিল সেখানে। ক্ষ্যাপাটে কিছু বিনিয়োগের ফসল হিসেবেই তাদেরকে পাওয়া গিয়েছিল। তবে আস্তে আস্তে পার্মা, ল্যাজিওর মতো ক্লাবগুলো দেউলিয়া হয়ে গেল। তারপর আমরা পেলাম (মাসিমো) মোরাত্তি, (সিলভিও) বার্লুসকোনি পরিবারকে। যারা এখানে টাকা ঢেলেছেন এবং এখনো টিকে আছেন। যদিও কাজটি মোটেই সহজ ছিল না।’ ২০০৯ সালে বুট জোড়া তুলে রাখার পরে এখনো পর্যন্ত কোন ভূমিকাতেই ফুটবল মাঠে দেখা যায়নি মালদিনিকে। তবে অচীরেই এই ফুটবল বৈরাগ্য ভাঙতে চলেছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া এই তারকা। আগামী জুলাই মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক চ্যাম্পিয়নস কাপ টুর্নামেন্টের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে দেখা যাবে তাকে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগেই তাদের পেশাদার মানসিকতার প্রেমে পড়েছেন তিনি। আর যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ইতালির অনেক কিছু শেখার আছে বলেও মনে করছেন তিনি, ‘আমাদের উচিত্ তাদের কাছ থেকে শেখা। ইতালিতে এখনো এমন কিছু আইন আছে যেগুলো আসলে কোন কাজে আসে না। আপনি যদি সান সিরো স্টেডিয়ামের বাইরে যান তাহলে দেখবেন মানুষ অবৈধভাবে নানা পণ্য বিক্রি করছে। আমি যখন খেলা শুরু করি তখনো ব্যাপারটা এমনই ছিল। আপনি এটা সহ্য করতে পারেন না।’ ইতালিয়ান ফুটবল ক্রমেই তার বাজার হারাচ্ছে এমনটি জানিয়ে মালদিনি আরো বলেন, ‘সবার আগে আমাদের শিখতে হবে। যে লিগগুলো খেলা থেকে অর্থ হারাচ্ছে না বরং উপার্জন করছে তাদের কাছ থেকে আমাদের শিখতে হবে। ইতালিয়ান ফুটবলে সবাই টাকা হারাচ্ছে। এটা আসলেই হতাশাজনক।’