ফিরে এলো সেই বিপর্যয়!

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৪৩
খেলাটা ডারউইন, হ্যামিলটন বা ওয়েলিংটনে হচ্ছে না। প্রতিপক্ষ দলেও ডেল স্টেইন, ম্যাকগ্রা বা হার্মিসন নেই। তারপরও বাংলাদেশের স্মৃতি থেকে হারিয়ে যেতে বসা সেইসব ভয়ঙ্কর দিন কাল আবার ফিরে এলো। প্রায় দু বছর পর আরেকবার দেড়শ রানের নিচে অলআউট হল বাংলাদেশ! গত বেশ কিছুদিন ধরেই টেস্টে নিয়মিত বড়-মাঝারি স্কোর করছিলেন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা। তাই হঠাত্ করে কাল ৩৯ রানে ৯ উইকেট আর একেবারে একই রানে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে ১৩৪ রানে বাংলাদেশের অলআউট হওয়াটা বিরাট একটা ধাক্কার ব্যাপার হয়েছে বৈকী! সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা হয়েছে—একেবারেই ‘আন্ডারডগ’ বলে বিবেচিত, বাংলাদেশের ‘চিরশত্রু’ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই ঘটেছে এই লজ্জার ঘটনা। আর এই ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে আরও একবার বাংলাদেশকে এখন পেয়ে বসেছে ২০১১ সালের মতো অঘটনের শিকার হওয়ার আতঙ্ক! সর্বশেষ ২০১১ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে দেড়শ (১৩৫) রানের নিচে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। তারপর থেকে অন্তত যে বাংলাদেশকে টেস্টে দেখা যাচ্ছিল, তাতে এমন লজ্জার কোনো স্থান ছিল না। কিন্তু অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, নাসির হোসেন, সোহাগ গাজী, এনামুল হক জুনিয়র, রবিউল ইসলাম ও রুবেল হোসেনদের আউট হবার দৃশ্যগুলো বর্তমান বাংলাদেশের সাথে একেবারে বেমানান। চট্টগ্রামে পাকিস্তানের বিপক্ষে ইনিংসটি বাদ দিলে সামনে আসবে ২০১০ সালে ম্যানচেস্টারে এবং ২০০৮ সালে সেঞ্চুরিয়ানের ইনিংসটি। এই দুই জায়গায় বাংলাদেশের ইনিংস ভেঙ্গে পড়েছিল যথাক্রমে ১২৩ ও ১৩১ রানে। সেই দুটি ইনিংসে বাংলাদেশ ভেঙ্গে পড়েছিল ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মত শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে; সে সময়ের বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলারদের বিপক্ষে ছিল বাংলাদেশের সেই ভেঙে পড়া। কিন্তু কাল যখন জিম্বাবুয়ের অনভিজ্ঞবোলারদের সামনে বাংলাদেশ ধসে পড়ল; তার কী জবাব থাকতে পারে! উল্লেখ করা যেতে পারে, হিথ স্ট্রিক, হেনরী ওলোঙ্গাদের জিম্বাবুয়েও এমন লজ্জা বাংলাদেশকে খুব একটা দিতে পারেনি; জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মুশফিকদের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন স্কোর এটি। ২০০১ সালে জিম্বাবুয়ের স্বর্ণালী সময়ে বাংলাদেশ গুটিয়ে গিয়েছিল ১০৭ রানে। সদ্য টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়া দলটির জন্য অবশ্য সেটি তেমন কিছু নয়, কিন্তু এমন এক সময় মুশফিকরা ১৩৪ রানে অলআউট হয়েছে যখন জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট অস্তিত্বের মুখ থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। এক উইকেটে ৯৫ রান নিয়ে কাল হারারে টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে সফরকারীরা। প্রথম সেশনের প্রথম ঘণ্টাটা ভালোই কাটিয়ে দিয়েছেন দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান জহুরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আশরাফুল। কিন্তু পরের এক ঘণ্টায় কাইল জারভিস ও সিংগি মাসাকাজ্জার ঝড়ে মাত্র ৩৯ রানে পড়ে যায় বাংলাদেশের নয় উইকেট! ১৫৬ মিনিট লড়াই করে জহুরুল ৪৩ রানে কেগান মেথের বলে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়ে ড্রেসিংরুমে ফিরেন। এরপর মাত্র দুই বলের ব্যবধানে আশরাফুলের ১৪৬ মিনিটের ইনিংস (৩৮) এবং সাকিবের ১৪ মিনিটের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে। এদের বাজে ব্যাটিংয়ের কারণেই মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট খেলা সিংগি মাসাকাজ্জা নিয়ে ফেলেছেন চার উইকেট! দেড়শ রানের নিচে অলআউট হবার ঘটনা বাংলাদেশের পুরানো। কিন্তু সামপ্রতিক সময়ের পারফর্মেন্সের কারণেই এই স্কোরে প্রশ্নবিদ্ধ মুশফিকরা। ঘরের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং শ্রীলংকার মাটিতে দুর্দান্ত টেস্ট খেলে আসা বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের এমন হাল কি মনে করিয়ে দিচ্ছে না প্রস্তুতি ম্যাচের ঘাটতিটাকে? হরতালের কারণে দেশের মাটিতে অনুশীলন করার সুযোগ হয়নি জাতীয় দলের। জিম্বাবুয়ে পৌঁছেও শুধু অনুশীলন ছাড়া কন্ডিশন এবং প্রতিপক্ষের উইকেট চেনার জন্য ছিল না কোন প্রস্তুতি ম্যাচ। প্রস্তুতি ম্যাচের সম্বন্ধে প্রশ্ন করতেই বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটি থেকে বলা হয়েছে, ছেলেদের বিশ্রাম দরকার। বলা হয়েছে শ্রীলংকায় টেস্ট খেলে আসা বাংলাদেশের আসল প্রস্তুতি হয়েছে সেখানেই। কাল সাকিব, মুশফিক, নাসির, এনামুলদের আউটের দৃশ্য দেখে পরিষ্কার ফুটে উঠেছে আসল প্রস্তুতিতে তাদের ঘাটতি কতটুকু। হারারে টেস্টে এখনো দুইদিন বাকি। অনেক দৃশ্য এখনো ফুঠে ওঠার অপেক্ষায়। ভুলে গেলে চলবে না, এই মাঠেই অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট। স্কো র কা র্ড জিম্বাবুয়ে প্রথম ইনিংস: ৩৮৯ (অল আউট) বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: জহুরুল এলবিডব্লিউ ব মেথ ৪৩ নাফীস ক মারুমা ব জার্ভিস ২৯ আশরাফুল ক ওয়ালার ব মাসাকাদজা ৩৮ মাহমুদুল্লাহ ব মেথ ৩ সাকিব ক সিবান্দা ব মাসাকাদজা ৫ মুশফিক এলবিডব্লিউ ব মাসাকাদজা ৩ নাসির ক মাতাম্বামি ব জার্ভিস ৭ সোহাগ ক ওয়ালার ব মাসাকাদজা ০ এনামুল জুনিয়র ব জার্ভিস ০ রুবেল ব জার্ভিস ০ রবিউল অপরাজিত ০ অতিরিক্ত (বাই ৪, লেগ বাই ১,ওয়াইড ১) ৬ মোট (অল আউট; ৫৪.১ ওভার) ১৩৪ উইকেট পতন: ১-৫৩(নাফীস, ১২.৪ ওভার), ২-১০২(জহুরুল, ৩৫.৫), ৩-১১২(মাহমুদুল্লাহ, ৪১.১ ওভার), ৪-১২৩(সাকিব, ৪৪.২ ওভার), ৫-১২৪(আশরাফুল, ৪৪.৪ ওভার), ৬-১৩৪(মুশফিক, ৫০.৬ ওভার), ৭-১৩৪(নাসির, ৫১.৪ ওভার), ৮-১৩৪( এনামুল, ৫১.৬ ওভার), ৯-১৩৪(রুবেল, ৫৩.৪ ওভার), ১০-১৩৪(সোহাগ, ৫৪.১ ওভার)। জিম্বাবুয়ে বোলিং: জার্ভিস: ১৬-৮-৪০-৪ মেথ: ২০-৬-৪১-২, মাসাকাদজা: ১৪.১-৪-৩২-৪, চিগাম্বুরা: ৩-০-১৬-০, ক্রেমার: ১-১-০-০। জিম্বাবুয়ে দ্বিতীয় ইনিংস: মারুবা এলবিডব্লিউ ব রবিউল ১০ সিবান্দা ব রবিউল ৪ মাসাকাদজা ক ও ব রবিউল ০ টেইলর ব্যাটিং ৭২ ওয়ালার ক নাসির ব রবিউল ৪ চিগাম্বুরা ক জহুরুল ব রবিউল ২৭ মাতাম্বামি এলবিডব্লিউ ব রবিউল ০ ক্রেমার রান আউট/মুশফিক ৪৩ মেথ ব্যাটিং ২ মোট: (সাত উইকেট) ১৬৫ উইকেট পতন:১-৭(সিবান্দা, ২.৩ ওভার), ২-৯(হ্যামিল্টন মাসাকাদজা, ৪.১ ওভার), ৩-১৬(মারুমা, ৬.২ ওভার), ৪-২৭(ওয়ালার, ১০.১ ওভার), ৫-৮৪( চিগাম্বুরা, ২২.২ ওভার), ৬-৮৪( মাতাম্বামি, ২২.৩ ওভার), ৭-১৬৩(ক্রেমার)। বাংলাদেশ বোলিং: রবিউল:১৫-১-৪৮-৬, রুবেল: ৬-০-৩১-০,সাকিব:৯-২-২২-০, এনামুল: ৯-২-৩১-০, সোহাগ: ৯-০-২৪-০,মাহমুদুল্লাহ: ৩-২-৮-০।অসমাপ্ত