প্রসঙ্গ :নদী রক্ষা কমিশন

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৩৩
নদ-নদীর দখল ও দূষণ রোধ করিবার নিমিত্ত নদী রক্ষা কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হইয়াছে। গত মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হইয়াছে এতদসংক্রান্ত একটি বিল। উত্থাপিত বিলে বলা হয়, নদীর অবৈধ দখল, পরিবেশ দূষণ, শিল্পবর্জ্য ফেলিয়া নদী দূষণ, তীরভূমিতে অবৈধ কাঠামো নির্মাণ ইত্যাদি বন্ধ করা এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধার করিয়া পরিবহনযোগ্য নৌপথ গড়িয়া তুলিতে এই কমিশন কাজ করিবে। দূষণ, দখল এবং নাব্যতা সংকটে পড়িয়া নদীমাতৃক বাংলাদেশে যখন নদী বিরল হইয়া যাইতেছে, তখন এইরূপ একখানা কমিশন গঠনের উদ্যোগ গ্রহণের সংবাদে আনন্দিত বোধ করা কর্তব্য বৈ কি। কিন্তু তত্ক্ষণাত্ বিরাট এক প্রশ্ন আসিয়া মন ভাঙ্গিয়া দেয়। তাহা হইল; আর কতটি প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা হইলে পরে আমাদের নদী ও পানি সম্পদের সুরক্ষা সুনিশ্চিত হইবে? জনান্তিকে বলিয়া রাখা ভাল যে, নদী, জলাশয় ও পানি সম্পদ রক্ষা ও উন্নয়নের জন্য আমাদের প্রতিষ্ঠান রহিয়াছে কম করিয়া হইলেও আধা ডজন। এই সুযোগে সেইসব প্রতিষ্ঠানের অসম্পূর্ণ একটি তালিকা দিয়া দিলে মন্দ হয় না। প্রতিষ্ঠানগুলি হইল, পানি উন্নয়ন বোর্ড, পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা, নদী গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ভূ-তলের উপরিভাগের পানি মডেলিং কেন্দ্র, হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন সংস্থা, নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এইসব প্রতিষ্ঠানের কোনটির কি কাজ সে সম্পর্কে সর্বসাধারণের পরিষ্কার ধারণা নাই। তবে এইটুকু অনুমান করা দুরূহ নয় যে, এইসব প্রতিষ্ঠান পানি, নদী, নৌপথ ইত্যাদি লইয়া কাজ করে। এই দেশে চারটি নদী প্রণালির শাখা ও উপনদী মিলাইয়া প্রায় সাড়ে সাত শত নদী ছিল তিরিশ-চল্লিশ বত্সর আগেও। এইসবের বেশিরভাগই আজ নিশ্চিহ্ন প্রায় । হাজিয়া- মজিয়া যাওয়া নদীর পাড় বেদখল হইয়া গিয়াছে। দখল করিয়া নিবার প্রক্রিয়া অব্যাহত রহিয়াছে। খাল, বিল, বাঁওড়ও নিঃশেষিত প্রায়। নদী শুকাইয়াছে, পানির প্রবাহ হ্রাস পাইয়াছে মারাত্মকভাবে। অন্যদিকে নদীর পানি নানা কারণে দূষিত হইয়া যাইতেছে। নদী দূষণের একটি বড় কারণ শিল্পবর্জ্য। অন্যদিকে সমস্যা আছে নদীর সীমানা লইয়াও। মোটকথা বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থা বিরাট প্রতিকূলতার সন্মুখীন। এই অবস্থা হইতে বাহির হইয়া আসার জন্য কার্যকর এবং বাস্তবসম্মত নদী ব্যবস্থাপনা গড়িয়া তোলার আবশ্যকতা অস্বীকার করা যায় না। পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জন্য শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান থাকা দরকার বৈ কি! কিন্তু অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন যে নষ্ট হইয়া যায় তাহাও কাহারও অজানা নয়। প্রায় একই ধরনের অনেকগুলি প্রতিষ্ঠান থাকা সত্ত্বেও নূতন করিয়া নদী রক্ষা কমিশন করা হইতেছে। এই নিয়া এর চাইতে বেশিকিছু বলিতে চাহি না। নদী রক্ষা ও দূষণ-দখল হইতে নদী-জলাশয় বাঁচানোর জন্য যেমন অর্থের প্রয়োজন, তেমনই দরকার শৃঙ্খলা ও বাস্তবসম্মত কর্মপদ্ধতি ও পরিকল্পনা। দেশের কষ্টার্জিত অর্থের অপচয় যাহাতে না হয়, সেই দিকেও খেয়াল রাখা বাঞ্ছনীয়।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন