টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নদীর বুকে বাঁধ দিয়ে চলছে মাটি কাটার মহোৎসব। পাশাপাশি এক শ্রেণির সিন্ডিকেটের যোগসাজশে নদীর চর এবং সরকারি বনাঞ্চলে চলছে টিলা কেটে মাটি চুরি। অবাধে মাটি কাটার ফলে বংশাই ও লৌহজং নদীর উপর নির্মিত প্রায় ১০টি ব্রিজ হুমকির মুখে পড়েছে।
বুধবার উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নদীতে বাঁধ দিয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ করে মাটি চুরি করে নিচ্ছে প্রভাবশালী মহল।
জানা গেছে, উপজেলার বংশাই নদীর চর, গোড়াই, আজগানা, তরফপুর ও বাঁশতৈল ইউনিয়নের পাহাড়ি সরকারি বনাঞ্চলের টিলার মাটি চুরি হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এলাকার প্রভাবশালী মহল সিন্ডিকেট করে অবৈধভাবে মাটি কাটার মচ্ছব চালিয়ে যাচ্ছে।
আলী আজম মিয়া ও আব্দুল কুদ্দুছ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, বংশাই নদীর পারদিঘী, হাটফতেপুর, হিলড়া আদাবাড়ি, থলপাড়া, ঘোনাপাড়া, চাকলেশ্বর, গোড়াইল, গাড়াইল, হাতেম টাউন, কুমারজানি, যুগিরকোপা, কোদালিয়া, হাটুভাঙ্গা, আজগানা এলাকায় নদীর আশপাশ ও নদীর বুকে ভ্যেকু বসিয়ে প্রতি দিন শত শত ড্রাম ট্রাক দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে।
মাটি কাটার ফলে পারদিঘী ব্রিজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা একাব্বর হোসেন ত্রিমোহন ব্রিজ, কোদালিয়া ব্রিজ, হাটুভাঙ্গা ব্রিজ, গুনটিয়া ব্রিজ, বরাটি বাবু দুঃখীরাম রাজ বংশী ব্রিজ, পুষ্টকামুরী ব্রিজ ও পাহাড়পুর ব্রিজ গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পাকুল্যা এলাকার বাসিন্দা হারুন শেখ ও চুকুরিয়া এলাকার মিনহাজ উদ্দিনের অভিযোগ, লৌহজং নদীর মাঝালিয়া, গুনটিয়া চরপাড়া, চুকুরিয়া, উফুলকী, ইচাইল, পুষ্টকামুরী, দেওহাটা, বহুরিয়া, গেরামারা, কামারপাড়া, ওয়ার্শি, নাগরপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে মাটি কাটার মচ্ছব চলছে। প্রভাবশালী মহলটি বংশাই ও লৌহজং এই দুটি নদীর বুকে বাঁধ দিয়ে মাটি চুরি করছে। পানি প্রবাহ বন্ধ থাকায় কৃষকদের চাষাবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

নদী ও পাহাড় থেকে মাটি কেটে ড্রাম ট্রাক দিয়ে নেওয়ার ফলে প্রায় ৩৫টি আঞ্চলিক সড়ক ভেঙ্গে গেছে। ড্রাম ট্রাক দিয়ে মাটি নেওয়ায় ধুলা-বালিতে রাস্তা দিয়ে চলাচল করাই এখন দায়।
এ ব্যাপারে জামুর্কি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী এজাজ খান চৌধুরী রুবেল এবং ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রউফ বলেন, প্রভাবশালী মহল প্রশাসনের সঙ্গে যোগসাজশে কাজটি করছে।
আরও পড়ুন: কালীগঞ্জে রিকশা চালককে শ্বাসরোধ করে হত্যা
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন মাটি চোরকে আটক করে জরিমানা এবং সাজা দিয়ে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ অভিযান চলমান থাকবে।
ইত্তেফাক/অনি

