জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে সপ্তবারের মতো দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। গত শনিবার সরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, ৮৯ বছর বয়স্ক মুগাবে পেয়েছেন ৬১ ভাগ ভোট আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মরগান সাভাঙ্গিরি পেয়েছেন ৩৪ ভাগ ভোট। সাভাঙ্গিরি ফলাফল প্রকাশের আগেই বলেছিলেন, নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে, তিনি এর বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেবেন। তার দল গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন (এমডিসি) আর মুগাবের জানু-পিএফ দলের সঙ্গে কাজ করবেন না। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর জিম্বাবুয়েতে ব্যাপক আকারে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ২০০৯ সালে মুগাবে ও সাভাঙ্গিরির দল জোট গঠন করে দেশ শাসন করছিল। ১৯৮০ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই মুগাবে প্রেসিডেন্ট পদে আছেন।
গত বুধবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সাভাঙ্গিরির দল এমজিসি মাত্র ৪৯টি আসন পেয়েছে আর মুগাবের দল পেয়েছে ১৫৮টি আসন। গত শনিবার ফল ঘোষণার আগে সাংবাদিক সম্মেলনে সাভাঙ্গিরি বলেন, জিম্বাবুয়ে শোকাহত’। কারচুপি ও জালিয়াতির এই নির্বাচন জিম্বাবুয়েকে সাংবিধানিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে ফেলে দিয়েছে। কারচুপির তথ্য প্রমাণ হাজির করা হবে উল্লেখ করে তিনি উত্তর আফ্রিকার সংস্থা এসএডিসিকে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দলের নেতারা মুগাবের দলকে জনবিচ্ছিন্ন করতে গণঅমান্য আন্দোলন শুরু করার কথাও ঘোষণা করেন।
মুগাবে ও তার দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞ আরোপকারী সংস্থা ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচনে অনিয়ম ও সবাই ভোট দেয়ার সুযোগ না পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জিম্বাবুয়ের সবচেয়ে বড় নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা জেডইএসএনও বলেছে, ভোটার নিবন্ধনে সমস্যা থাকায় ১০ লাখ লোক ভোট দিতে পারে। তারা মূলত সাভাঙ্গিরির দলের সমর্থক। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনের ১০ জন সদস্যের মধ্যে ৯ জনই পদত্যাগ করেছেন। তারপরও আফ্রিকান ইউনিয়ন ও এসএডিসি নির্বাচনকে স্বাগত জানিয়েছে এবং কারচুপির প্রমাণ দেয়ার আহবান জানিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
