সরকারি চাকরিতে কোটা বিতর্ক

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৩, ২০:২২
কোটা ব্যবস্থার সংস্কার আবশ্যক যে সময় বাংলাদেশে কোটা ব্যবস্থা চালু হয়েছিলো তখনকার অবস্থা আর এখনকার অবস্থা এক নয়। মুক্তিযোদ্ধা, নারী ও জেলা কোটা চালু রাখার কোন যৌক্তিকতা এখন নেই। তবে প্রতিবন্ধী কোটা সীমিতভাবে চালু রাখা উচিত। কোটা ব্যবস্থার কারণে মেধাবীরা তাদের মেধার মূল্যায়ন যথাযথভাবে পাচ্ছে না। কম মেধাবীরা যোগ্যদের আসন দখল করছে। শিক্ষাঙ্গনে বিরাজ করছে অস্থির অবস্থা। বর্তমানের এই বৈষম্যমূলক কোটা ব্যবস্থা চালু থাকলে প্রশাসন হয়ে পড়বে বিশৃঙ্খল ও অথর্ব। বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থা সমাজের অনগ্রসর অংশকে সহযোগিতার নামে সমাজের এক বিপুল জনগোষ্ঠীকে বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার করছে। সুতরাং অচিরেই কোটা ব্যবস্থার সংস্কার আবশ্যক। মো. আল-আমিন ৩য় বর্ষ, ৬ষ্ঠ সেমিস্টার সংস্কৃত বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অযোগ্য ব্যক্তিদের চাকরি দিয়ে প্রতিষ্ঠানকে মেধাশূন্য করছে প্রথমে ধন্যবাদ জানাই পত্রিকার সঙ্গে জড়িত সকলকে। তারা এধরনের একটা বিতর্ক চালু করেছে। বর্তমানে অসংখ্য ভুয়া কোটাপ্রাপ্ত লোক আছে। আর এদের প্রয়োজন কঠিনভাবে কোটা বাতিল করা। কোটা এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে এক শ্রেণীর কিছু লোক রাষ্ট্র থেকে বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকে। কিন্তু এটা তখনই খারাপ হয় যখন এটাকে ব্যবহার করে। অযোগ্য ব্যক্তিটি বিশেষ স্থানটা দখল করে নেয়। আজ সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতির মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠান মেধাশূন্যের আশঙ্কায় রয়েছে। একটা উদাহরণের মাধ্যমে বলছি, এক ব্যক্তি অনেকবার পরীক্ষা দিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছে। সে এখন কোটার মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে। কিন্তু তার সঙ্গে আরো অনেক ব্যক্তি লড়েছেন। যারা কিনা আরো উচ্চ ডিগ্রিসম্পন্ন ও তার চেয়ে মেধাবী। বাংলাদেশে এরকম হাজারো প্রমাণ রয়েছে। তাই এখানে প্রশ্ন- এভাবে অযোগ্য ব্যক্তিদের চাকরি দিয়ে প্রতিষ্ঠানকে কি মেধাশূন্য করছে না? বর্তমান প্রজন্ম এদের (অযোগ্য কোটাপ্রাপ্তদের) কাছ থেকে কী শিখবে? তাই এখন সময়ের দাবি, কোটা পদ্ধতি বাতিল নয় বরং একে কিছু সীমাবদ্ধতায় আনা হোক। সরকারি চাকরিতে সকলের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হোক। তনয় জয়ধর একাদশ শ্রেণী, মানবিক বিভাগ বাগধা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ সরকারি চাকরিতে কোটা নামে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ বর্তমানে আমরা দেখতে পাচ্ছি সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা, পোষ্য কোটা, মহিলা কোটা, আনসার ভিডিপি কোটা, উপজাতি কোটা, প্রতিবন্ধী কোটা চালু রয়েছে। এ যেন কোটার মেলার বসেছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এ কোটা ব্যবস্থা আরো প্রকট। যেখানে শুধু মাধ্যমিক পাস মহিলাদের জন্যই রাখা হয়েছে ৬০% এবং বাকি ৪০%-এর ২০% হচ্ছে পোষ্য কোটা। অথচ আমাদের সংবিধানের ২৯নং অনুচ্ছেদে বলা আছে— “প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকিবে”। এ তো গেল কোটা, তার উপর আছে মামা, খালুর জোর, ঘুষ লেনদেন এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার আতঙ্ক। আমার প্রশ্ন- আমাদের যাদের কোটা নেই, মামা, খালুর জোর নেই, আর্থিক লেনদেন করার সামর্থ্য নেই আমরা যাব কোথায়? আমরা কি পড়ালেখা করে পাপ করেছি? যদি তাই করে থাকি তাহলে আমার মনে হয় সরকারের ঘোষণা করা উচিত, যাদের কোটা নেই তাদের পড়ালেখার দরকার নেই। সঞ্চয় দাস অর্থনীতি বিভাগ নরসিংদী সরকারি কলেজ সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি কিছুটা কমিয়ে এনে প্রকৃত মেধাবীদের মূল্যায়ন করা হোক সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি থাকার কারণে আজকাল প্রকৃত মেধাবীরা সুযোগ পাচ্ছে না ভাল কর্মক্ষেত্রে। অনেক উচ্চশিক্ষিত ও যোগ্যতাসম্পন্ন ছেলে-মেয়ে আছে যারা বিভিন্ন চাকরির ভাইভা পরীক্ষার মধ্যে অংশগ্রহণ করেও তারা কেবল কোটা পদ্ধতির কারণে বাদ পড়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের দেশে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার জন্য কোটা পদ্ধতি কমিয়ে এনে প্রকৃত মেধাবীদের সুযোগ করে দেয়া দরকার। কারণ দক্ষ ও মেধাবীরা দেশের উন্নয়নের চালিকাশক্তি। তাই আমার মনে হয় যে কোটা পদ্ধতি একেবারে উঠিয়ে না দিয়ে সকল সরকারি ক্ষেত্রেই কোটা হ্রাস হোক এবং মেধাবীদের চাকরির ক্ষেত্রে স্থান দেয়া হোক। আরজু মিয়া মাস্টার্স, বাংলা বিভাগ তিতুমীর সরকারি কলেজ, ঢাকা

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন