[ রা জ নী তি ]

যেন ভুলের পুনরাবৃত্তি না ঘটে

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০১৩, ২০:৫৮
সংঘাতের রাজনীতি অনিবার্য বলে যখন অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন ঠিক তখনই শান্তিপূর্ণ উপায়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটের সমাধান কামনা করেছে জাতিসংঘ। এ জন্য নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে দেশের প্রধান দুটি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে আলোচনায় বসার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন। গত ২৩ আগস্ট শুক্রবার সকালে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সন্ধ্যায় বিএনপির চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন বান কি মুন। এর আগে গত জুন মাসে জাতিসংঘের অতিরিক্ত মহাসচিব (রাজনৈতিক) ফার্নান্দোজ তারানকো মহাসচিবের দূত হিসেবে ঢাকায় এসে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রী ছাড়াও আরো অনেকের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করেছিলেন। ওই সময় তিনি দুই নেত্রীকে জাতিসংঘ মহাসচিবের পক্ষ থেকে একটি চিঠি দিয়েছিলেন যাতে সমঝোতা ও আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। সে সময় কারো কারো মনে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছিল যে, নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে দেশের প্রধান দুইটি দল হয়তো সংলাপে বসবেন এবং একটি সমাধানে উপনীত হবে। কিন্তু ৪ জুন ঢাকার শাপলা চত্বরে আয়োজিত সমাবেশ থেকে বেগম খালেদা জিয়া সরকারকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়ায় পরিস্থিতি আবার বদলে যায়। সংলাপের সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যায়। তারপর থেকেই আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি পাল্টাপাল্টি বক্তব্য অব্যাহত রাখায় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সংকটজনক হয়ে ওঠে। ধারণা করা যায়, জাতিসংঘের তখনকার উদ্যোগ কার্যকর না হওয়ায় এবং আলোচনার পরিবর্তে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হওয়ার প্রেক্ষাপটে বান কি মুন গত ২৩ আগস্ট দুই নেত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। জানা যায়, বাংলাদেশের দুই নেত্রীকে মহাসচিব বলেছেন, জাতিসংঘ সবার অংশগ্রহণে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায়। সংস্থাটি অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে বাংলাদেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। অন্যদিকে, নির্বাচনকালীন সরকার বিষয়ে প্রধান দুটি দল নিজ নিজ অবস্থান সম্পর্কে জাতিসংঘের মহাসচিবকে জানিয়েছে। শেখ হাসিনা বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী তার সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। আর খালেদা জিয়া বলেছেন, বর্তমান সরকারের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে না। টেলিফোনে কথা বলার সময় জাতিসংঘের মহাসচিব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং এমডিজির লক্ষ্যসমূহ অর্জনে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব সাফল্যের প্রশংসা করেছেন। শেখ হাসিনার মতো নেতার প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশ ইতিমধ্যে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেয়ায় আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন। জাতিসংঘের মহাসচিবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে শেখ হাসিনা বিরোধী দলকে আগামী সংসদ অধিবেশনে যোগদান এবং আসন্ন নির্বাচন ও নির্বাচনকালীন সরকার বিষয়ে তাদের প্রস্তাব উত্থাপনের আহ্বান জানিqছেন বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের মহাসচিবকে বলেছেন, ‘বিরোধী দলের যেকোনো প্রস্তাবকে আমরা স্বাগত জানাবো, যদি তা জাতীয় সংসদের আসন্ন অধিবেশনে দেয়া হয়।’ তিনি নিজে এবং তার সরকার সব সময়ই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো সমস্যার সমাধানে বিশ্বাসী বলে উল্লেখ করে। টেলিফোনে কথা বলার সময় প্রধানমন্ত্রী বান কি মুনকে আগামী সাধারণ নির্বাচন এবং চলতি রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন। শেখ হাসিনা মহাসচিবকে জানিয়েছেন, তিনি এর আগে বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে সমস্যা সমাধানে সংলাপে বসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই প্রস্তাবের কোনো জবাব না দিয়ে তিনি (খালেদা জিয়া) সরকারকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন এবং পরবর্তী সময়ে বিরোধী দল সরকার পতনের লক্ষ্যে সহিংসতা, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যকর কার্যকলাপের মাধ্যমে দেশের শান্তি ও রাজনৈতিক পরিবেশ বিনষ্ট করে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তার সরকার শান্তি চায় এবং অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তর দেখতে চায়। আগামী সাধারণ নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী যথাসমq েঅনুষ্ঠিত হবে এবং জনগণ কোনো বাধাবিপত্তি ছাড়াই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। অন্যদিকে, টেলিফোন আলাপে খালেদা জিয়া জাতিসংঘের মহাসচিবকে জানিয়েছেন, নির্দলীয় সরকারের অধীন ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে না। কারণ, দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হওয়া সম্ভব হবে না। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের জানান, বান কি মুন খালেদা জিয়াকে বলেছেন, তিনি অতিরিক্ত মহাসচিবকে (রাজনৈতিক) ঢাকায় পাঠিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তা খুব একটা এগোয়নি। তিনি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। সংকট সমাধানে আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করে জাতিসংঘের মহাসচিব বলেছেন, জাতিসংঘ সবার অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায়। দুই পক্ষ সমঝোতার মনোভাব নিয়ে কাজ করলে শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছা সম্ভব। তিনি বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক নেত্রীর সঙ্গে রাজনৈতিক সংকট সমাধানের জন্য আলোচনায় বসার যে তাগিদ দিয়েছেন তাতে অনেকের মধ্যেই আশাবাদের সৃষ্টি হয়েছে। তারা মনে করছেন জাতিসংঘের উদ্যোগে সাড়া দিয়ে দুই নেত্রী শেষ মুহূর্তে শুভবুদ্ধির পরিচয় দেবেন এবং সমঝোতার পথে অগ্রসর হবেন। যদিও দেশের অতীত রাজনীতির অভিজ্ঞতা এটাই বলে যে, সংকট সমাধানে দুই নেত্রী আগেও দেশি-বিদেশি কোনো উদ্যোগেই আন্তরিকভাবে সাড়া দেননি। এবার তার ব্যতিক্রম ঘটবে তেমন কোনো লক্ষণ এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। ২০০৬ সালে রাজনৈতিক সংকট এতটাই তীব্র হয়েছিল যে, যার পরিণতিতে সেনা সমর্থিত দীর্ঘমেয়াদি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় বসেছিল। সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুই নেত্রীকেই গ্রেফতার করেছিল এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দিয়েছিল। এবারও রাজনৈতিক সংকটের শান্তিপূর্ণ মীমাংসা না হলে পরিণতি কি হবে, আবারও কোনো অগণতান্ত্রিক শক্তি দেশের ওপর চেপে বসবে কি না তা নিয়ে নানারকম জল্পনা-কল্পনা চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বিরোধীদলীয় নেত্রীকে সতর্ক করে দিয়ে একাধিকবার বলেছেন যে, আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এলে তারা সহসা ক্ষমতা নাও ছাড়তে পারে এবং দুই নেত্রীকেই আবার কারাগারে যেতে হতে পারে। কিন্তু বিএনপি নেত্রী কোনো অবস্থাতেই বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার প্রশ্নে অনড় ও অটল রয়েছেন। আবার সরকারও তাদের অবস্থান থেকে এক চুলও না নড়ার ঘোষণা দিয়েছে। দুই পক্ষের এই মুখোমুখি অবস্থান দেশের রাজনীতিতে সংঘাতের আশঙ্কা প্রবল করে তুলেছে। আগামী মাসের মাঝামাঝি সময় জাতিসংঘের একটি প্রতিনিধি দল আবার বাংলাদেশে আসবে বলে মহাসচিব বান কি মুন জানিয়েছেন। তিনি হয়তো আশা করছেন জাতিসংঘ প্রতিনিধি দল দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসলেই হয়তো সমস্যার সমাধানের একটি পথ বের হবে। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আমাদের দুই নেত্রী যতক্ষণ তাদের অবস্থান পরিবর্তন না করবেন, ততক্ষণ বাইরের কেউ এসে মধ্যস্থতা করে খুব বেশি সুবিধা করতে পারবেন বলে মনে হয় না। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে কমনওয়েলথে মহাসচিবের প্রতিনিধি হয়ে স্যার নিনিয়ান ঢাকায় এসেছিলেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট নিরসনের অভিলাস নিয়ে। তিনি অনেক চেষ্টা-তদবির করেও কোনো পথ বের করতে পারেননি। জাতিসংঘের প্রতিনিধি দল এসে এবারও কোনো সুখবর তৈরি করতে পারবেন— এতটা আশাবাদী অনেকেই হতে পারছেন না। কারণ ক্ষমতায় থাকা এবং ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য দুই দলের প্রতিযোগিতা এতই তীব্র যে কেউই হারার মানসিকতায় নেই। নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সংসদের আগামী অধিবেশনে (১২ সেপ্টেম্বর থেকে অনুষ্ঠিতব্য) বিরোধী দল সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে সরকার তাকে স্বাগত জানাবে এবং তা নিয়ে আলোচনা করবে বলে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন। কিন্তু বিএনপি স্পষ্ট করেই জানিয়েছে যে, তারা কোনো প্রস্তাব দেবে না। প্রস্তাব দিতে হবে সরকারি দলকেই। কারণ বিরোধী দলের উপস্থাপিত কোনো প্রস্তাব বর্তমান সংসদে পাস হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আলাপ-আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণ করে সরকারি দল সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিরোধী দলের প্রস্তাব নাকচ করে দিলে বিএনপির আর কিছুই করার থাকবে না। সেজন্যই বিএনপি চায় সরকারি দলের পক্ষ থেকেই সমস্যা সমাধানের প্রস্তাব উত্থাপন করা হোক। কোনো কোনো গণমাধ্যমে এমন খবর বেরিয়েছে যে, বিএনপি মনে করছে যে, সরকার তাদের নির্বাচনের বাইরে রাখার চেষ্টা করছে। বিএনপির এই আশঙ্কা যদি সত্য হয় তাহলে তাদের উচিত কোনোভাবেই সরকারকে সে ধরনের সুযোগ না দেয়া। বিএনপি যদি বিশ্বাস করে যে, দেশে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তারাই জিতবে তাহলে তাদের উচিত কোনো ধরনের অনমনীয় মনোভাব গ্রহণ না করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা। বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিলে তাদের বিজয় ছিনিয়ে নেয়া হবে বলে বিএনপি যে আশঙ্কা প্রকাশ করছে সেটার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই, এটা পুরোপুরি অনুমাননির্ভর। দেশের বর্তমান বাস্তবতায় নির্বাচনে কারচুপি করে ভোটের ফলাফল পাল্টে দেয়ার অবস্থা কারো নেই। ক্ষমতায় থাকলেই নির্বাচনকে প্রভাবিত করা যায়— এটা অতীতে কখনো কখনো সত্য হয়েছে বলেই সবসময় এই ধারাই চলবে সেটা বিশ্বাস করা ঠিক নয়। যদি সরকার সেরকম কোনো চেষ্টা করেও তাহলে তার পরিণাম সরকারের জন্যই আত্মঘাতী হবে। জোর করে ক্ষমতায় থাকতে চাইলে মানুষই তাদের ক্ষমতা থেকে বিদায় করার জন্য যা যা করা দরকার তাই করবে। বিএনপির উচিত একবারের জন্য হলেও জনগণের শক্তির ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখা। সরকার যদি কোনো অবস্থাতেই তত্ত্ব্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে না নেয় তাহলে বিএনপির উচিত নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দেয়া। নির্বাচন কমিশন যদি সরকার অনুগত না হয় তাহলে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করা কিংবা পাল্টে দেয়া সম্ভব হবে না। আবার সরকার তথা আওয়ামী লীগকেও দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সেন্টিমেন্টের দিকে নজর দিতে হবে। দেশে একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ-পরিস্থিতি সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে। সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো নির্বাচনেই গ্রহণযোগ্য হয় না। সরকার আকস্মিকভাবে অতিরিক্ত সংবিধানপ্রেমী হয়ে ওঠায় সরকারের উদ্দেশ্যের সততা নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংবিধান কোনো ঐশী কেতাব নয়, দেশ ও মানুষের প্রয়োজনেই সংবিধান। সংবিধান পরিবর্তনযোগ্য। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বর্তমান সরকারই করেছে। কাজেই দেশের স্বার্থে, মানুষের স্বার্থে এবং গণতন্ত্রের স্বার্থে দরকার হলে সংবিধান আর পরিবর্তন করা যাবে না এমন গো ধরে বসে থাকা সরকারের জন্য কোনো মঙ্গল বয়ে আনবে না। বিএনপি ইতিমধ্যেই তার অবস্থান কিছুটা পরিবর্তন করেছে বলেই মনে হয়। প্রথমে বিএনপি দাবি করেছিল নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার, এখন তারা শুধু নির্দলীয় সরকারের কথাই বলছে। বলছে, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য নির্দলীয় সরকারের কোনো বিকল্প নেই। এখন বিএনপিকেই স্পষ্ট করতে হবে নির্দলীয় সরকার বলতে তারা কি বোঝাতে চাইছে। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন এমন ব্যক্তিরাই কি নির্দলীয় সরকারের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন? সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবেন এমন নির্দলীয় ব্যক্তিদের একটি তালিকা কি বিএনপি প্রকাশ করবে? সরকার যেহেতু সংবিধান থেকে এক চুলও নড়তে চায় না সেহেতু বর্তমান সংবিধানের অধীনেই নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠার কোনো সুযোগ কি আছে? থাকলে এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উত্থাপন করা এখন বিএনপির জরুরি দায়িত্ব। সংকট নিরসনের জন্য বা অচলাবস্থা দূর করার জন্য দুই দলকেই ছাড় দেয়ার মানসিকতা নিয়ে আলোচনায় বসতে হবে। সালিশ মানি কিন্তু তালগাছ আমার—এই মনোভাব নিয়ে বসে থাকলে বিপর্যয়কেই ডেকে আনা হবে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব বারবার একভুল করবেন না, এটাই দেশের মানুষের বিশ্বাস। লেখক : সাংবাদিক ও কলাম লেখক ই-মেইল :[email protected]

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন