বিদ্যালয়, সমাজ, রাষ্ট্র, পরিবার যদি বলি, তবে সবার আগে আসবে অবশ্যই পরিবারের কথা। পরিবারেই আমরা বীজ বপন করি, তাকে যত্নকরি এবং পরম আদর-স্নেহে, ভালবাসায় তা বড় করে তুলি। আমরা যদি যার যার অবস্থান থেকে আমাদের পরিবারকে এক একটি ফুলের বাগানে পরিণত করতে পারি তাহলে পরিবার কেন, গোটা দেশ তথা রাষ্ট্রই তো উপকৃত হবে। আমরা যারা নতুন প্রজন্ম সন্তানদের মা, বাবা হয়েছি বা হওয়ার পথে। আমরাই পারি ধীরে ধীরে হলেও এ সমাজ এবং রাষ্ট্রকে বদলে দেবার ইঙ্গিত দিতে। কারণ নতুন আরেকটি Generation তো আমাদেরই হাতে। কারণ পরিবার থেকেই সমাজ, আর সমাজ থেকেই রাষ্ট্র। কথায়ই আছে Where there is a will, there is a way. বাচ্চার বয়স তিন। হাঁটি হাঁটি পা পা করে এখন প্লে-গ্রুপে ভর্তি করার পালা। হতে পারে ইংলিশ বা বাংলা মিডিয়াম, হতে পারে মাদ্রাসাও। এই তিন বছরের ব্রেনটাকে এখন থেকেই ওয়ার্কস করা শুরু করতে হবে আস্তে-আস্তে করে বয়সের সাথে খাপ খাইয়ে। কারণ আমরা জানি তিন বছরই একটি full brain develop করে যায়। আমরা তো চাইলেই পারি ওদের ছোট থেকেই ধর্মীয় শিক্ষা এবং অনুভূতিতে বড় করতে এবং সাথে দেশীয় সংস্কৃতির সাথে পরিচয় করাতে। পড়াশোনা, খেলাধুলার পাশাপাশি Extra activities এর সাথে ধর্মীয় গল্পগুলোকে শিশুতোষ আকারে তাদের কাছে উপস্থাপন করতে। যেগুলো পড়লে বা পড়ে শোনালে রাতে ঘুমাতে যাবার আগে ওর মনে সেই ঠাকুরমার ঝুলি বা bed time story-র মতই গেঁথে যাবে। কারণ মনে করে দেখুন, ঠাকুরমার ঝুলি বা ঈশনের গল্প কিন্তু আমরা এখনও ভুলিনি। কাজেই moral values আর Ethics এর ছোট থেকেই মনের ভেতর ঢুকিয়ে দিতে হবে।
পড়াশোনার পাশাপাশি, বই পড়াও যে একটা হবি হতে পারে সেটাও ছোট থেকেই ঢোকাতে হবে। শুধু Comic পড়ে লাভ নেই। শিশুতোষ সব রকমই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। খেলাধুলাতেও ব্যস্ত রাখতে হবে। চলুন আমরা আমাদের দাম্পত্য কলহকে যতটুকু পারি সন্তানদের কাছ থেকে আড়াল করি। হতে পারে আমাদের স্বামীর প্রতি আমাদের অনেক অভিযোগ। হতে পারে আমাদের স্ত্রীদের প্রতি আমাদের অনেক অভিযোগ। কিন্তু সন্তানদের কাছে সে অভিযোগগুলো না করলেই হয়। বাবার সম্মান বাবাকে পেতে দিন। মায়ের সম্মান মাকে পেতে দিন। কারণ সন্তানরা বাবা মায়ের খুব ভালবাসে। নিরাপত্তা পায়। স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালবাসা একটি পরবর্তী প্রজন্মের সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার জন্য অত্যন্ত সহায়ক।
Teen-age অথবা বয়ঃসন্ধি আমরা কিন্তু পার করেছি। কাজেই আমরাই বুঝাব তাদের পরিবর্তনগুলো। ছোটবেলা থেকেই বন্ধু নির্বাচনের ব্যাপারে তাদের সাহায্য করতে হবে। বন্ধুদের ফ্যামিলির অবস্থান এবং তাদের মানসিকতা কি ধরনের সেই জায়গাটাতেও খেয়াল করতে হবে। কারণ সত্ সংগে স্বর্গবাস আর অসত্ সংগে সর্বনাশ। এটা ছেলে-মেয়ে উভয়ের জন্যেই সমানভাবে প্রযোজ্য। ছেলেমেয়েরা যাতে শারীরিক পরিবর্তনের সময় বিপথ না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখি। তাদের চিন্তা-ভাবনা, চাওয়া-পাওয়াকে logic সহকারে বন্ধুসুলভ ভাবে বুঝাই। ছেলে-মেয়েদের ছোট থেকেই bad touch সম্পর্কে আস্তে আস্তে বুঝাই। আমরা তো জানি, মাটি বা লোহা নরম থাকতেই তৈরি করতে হয়। শক্ত হয়ে গেলে গলানো যায় না। হয় বেঁকে যায় নয়ত ভেঙ্গে যায়। জোড়া দিলেও দাগ থেকে যায়।
লেখক :সংবাদ পাঠক, এটিএন বাংলা
