কোরবানীর ঈদকে সামনে করে পশ্চিম সীমান্ত পথে প্রতিদিন বানের পানির মত গরু আসছে ভারত থেকে। ভারতীয় গরু ঢোকায় দেশে মোটাতাজা করা গরুর দাম এবার কম। গৃহস্থ ও খামারিদের লোকসান হচ্ছে। তবে কোরবানীর আগ মুহুর্তে এ অঞ্চলের পশু হাট গুলো জমজমাট।
প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর সুত্র জানিয়েছে, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও নড়াইল জেলায় এবার কোরবানীর হাট গুলোতে বিক্রির জন্য দু’ লাখ গরু মোটাতাজা করা হয় যার আনুমানিক দাম ৮শ’ কোটি টাকা। মোটাতাজা গরু গৃহস্থ ও খামারিরা তাদের পার্শবর্তী পশুহাটে বিক্রির জন্য তোলে। মাস খানেক আগে থেকে এসব গরু হাটে বিক্রির জন্য তোলা শুরু হয়। এবার প্রথম থেকেই ক্রেতা কম ছিল। হাট ও গৃহস্থের বাড়ি থেকে গরু কিনে বেপারিরা এক জয়গায় জমা করে। কোরবানী ঘনিয়ে এলে ওই গরু ট্রাক যোগে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান নিয়ে যায়। গৃহস্থ ও খামারিরা জানিয়েছেন, এবার গ্রামে গ্রামে ব্যাপারিদের আনাগোনা কম । এর অবশ্য কারণও আছে। অনেক ব্যাপারী গত বছরের গরুর দাম গৃহস্থকে পরিশোধ করতে পারেনি।
বৃহষ্পতিবার থেকে বাজার একটু চাঙ্গা হয়েছে বলে,বেপারিরা জানান। ওই দিন ঝিনাইদহ পশু হাটে গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন দৃশ্য। শ’ শ’ কোরবানীর গরু হাটে উঠেছে। কিন্তু ক্রেতা কম। গৃহস্থ গরুর দড়ি ধরে দাঁড়িয়ে আছে। ক্রেতা মিলছে না। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মহিষকুন্ডু গ্রামের গোলাম মোস্তফা জানান, তারা তিন ভাই ৬টি গরু বাজারে তুলেছেন। বিকাল পর্যন্ত একটিও বিক্রি হয়নি। ক্রেতারা কম দাম হাঁকছে। তিনি বলেন, এক জোড়া ৮০ হাজার টাকা, এক জোড়া ৬০ হাজার টাকা ও এক জোড়া ৫০ হাজার টাকা দিয়ে কিনে ৪ মাস ধরে মোটাতাজা করেছেন। ৮০ হাজার টাকায় কেনা জোড়ার দাম উঠেছে ৬০ হাজার টাকা। এ দামে বিক্রি করলে কম পক্ষে ৫০ হাজার টাকা লোকসান হবে বলে গোলাম মোস্তফা জানান।
বেপারিরা বলেন, বেলেপাড়া, উজানগ্রাম, হরিণারায়নপুর, পান্টি, কাঁচেরকোল, শৈলকুপা, ভাটই, আলমডাঙ্গা, মুন্সিগঞ্জ, ডুগডুগি, জীবননগর, লাঙ্গলবাঁধ, শ্রীপুর, ভৈরবা, খালিশপুর, কোটচাঁদপুর, বারোবাজার, জামজামি, গাংনী, মেহেরপুর, আড়পাড়া, মহম্মদপুর, ঝিকরগাছা, নাভারন, চৌগাছা, কেশবপুর, মনিরামপুর, নওয়াপাড়াসহ বড় বড় পশু হাটে প্রচুর সংখ্যক গরু উঠে। এ সব পশু হাট সপ্তাহে এক দিন বসে। কোন কোন হাট কোরবানীর আগে আর বসবে না। জানা যায়, কম দামের ছোট সাইজের গরুর কিছুটা চাহিদা থাকলেও বড় সাইজের গরুর চাহিদা কম । ১৫ হাজার টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা দামের গরু কেনা বেচা মোটামুটি স্বাভাবিক। ৪০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে এক /দেড় লাখ টাকা দামের গরু ক্রেতার সংখ্যা একেবারেই কম ছিল। গত বছর প্রথম দিকে গরুর দাম ভাল ছিল। শেষের দিকে ব্যাপক দরপতন ঘটে। অনেক বেপারি ও খামারি ঢাকা চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে অবিক্রিত গরু ফেরত আনেন। পরে এ সব গরু স্থানীয় কসাইদের কাছে পানির দরে বিক্রি করতে হয়েছিল। গত বছরের চেয়ে বড় সাইজের প্রতি গরুর দাম গড়ে ১০ হাজার টাকা থেকে ৫০/৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত কম। আর ছোট সাইজের গরু প্রতি দাম গত বছরের চেয়ে ৫/৭ হাজার টাকা করে কম বলে গৃহস্থ ও ব্যবসায়ীরা জানান। শুধু গরু নয়, খাসির দামও এবার কম। ২০ কেজি মাংস হবে এমন আকৃতির একটি খাসির দাম গত বছর ছিল সাড়ে ৯ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা। এবার ওই সাইজের একটি খাসী ৮ হাজার টাকা থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। ঝিনাইদহ হাটে এক গৃহস্থ বলেন, ৫০ কেজি মাংস হবে তার এমন আকারের একটি খাসীর দাম ১৭ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া, যশোরের শার্শা, চৌগাছা, ঝিগরগাছা, ঝিনাইদহের মহেশপুর, চুয়াডাঙ্গাার জীবননগর, দামুরহুদা, মেহেরপুরের মুজিবনগর, সদর ও গাংনী এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সীমান্ত পথে প্রচুর গরু আসছে। এ সব গরু স্থানীয় হাটে তোলা হচ্ছে। সেখান থেকে ট্রাক যোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান যাচ্ছে। আবার সীমান্ত এলাকা থেকে সরাসরি ট্রাক যোগে চালান যাচ্ছে। এখন প্রতিদিন পশ্চিমের জেলা গুলো থেকে দুই আড়াইশ’ ট্রাক গরু ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান যাচ্ছে। অভিযোগ পথের মাঝে নানা জায়গায় গরু বোঝায় ট্রাকে চাঁদাবাজি হচ্ছে।
