খাদ্যপণ্য আমদানি বেড়েছে

আমদানি বাণিজ্যের খরা কাটছে

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০১৩, ২০:২৪
চলতি অর্থবছরে পিঁয়াজসহ চাল, গম, ডাল, চিনির আমদানি অনেক বেড়েছে। একইসঙ্গে জুলাই-আগস্ট সময়ে সামগ্রিক পণ্য আমদানিতে ঋণপত্র (এলসি) খোলা ও নিষ্পত্তির হারও বেড়েছে। আর এতে দেশের আমদানি বাণিজ্যের খরা কেটে চাঙ্গা হতে শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে শিল্পে ব্যবহূত কাঁচামাল আমদানিতে ঋণপত্র নিষ্পত্তি কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ বিভাগের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এমন তথ্য দেখা গেছে। অবকাঠামোগত অনুন্নয়ন ও বিনিয়োগের উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় গত কয়েক বছর ধরে শিল্প মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি ব্যাপকহারে কমে গিয়েছে। আমদানিকারকরা বলছেন, গত দুই-আড়াই বছর ধরে গ্যাস-বিদ্যুত্, অবকাঠামোর পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থা চলছে। বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না। আবার সাম্প্রতিক সময়ে রফতানির বড় খাত গার্মেন্টস শিল্পে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। রফতানি অর্ডার না থাকায় প্রতি মাসেই বন্ধ হচ্ছে কোনো না কোনো কারখানা। আর বিনিয়োগের বড় খাতই হচ্ছে তৈরি পোশাক বা টেক্সটাইল খাত। নতুন বিনিয়োগ না হওয়ায় আমদানি বাণিজ্যের অবস্থা খুবই খারাপ। বিশেষ করে শিল্পের মূলধনী পণ্যের আমদানি নেতিবাচক প্রবৃদ্ধিতে রয়েছে। এ অবস্থার মধ্যেও বেশকিছুদিন যাবত্ আমদানির জন্য এলসি খোলা ও নিষ্পত্তির পরিমাণ বেড়ে যাওয়াকে আমদানি বাণিজ্যের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তারা। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে পণ্য আমদানিতে ৫৭৩ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলারের ঋণপত্র নিষ্পত্তি হয়েছে। যা এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিলো ৫৩৭ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। সে হিসেবে চলতি অর্থবছরের প্রথম দু’মাসে আমদানি বেড়েছে ৬ দশমিক ৮০ শতাংশ। একইভাবে আলোচ্য সময়ে পণ্য আমদানিতে ৬৪৫ কোটি ৭৬ লাখ ডলারের ঋণপত্র খোলা হয়েছে, যা ২০১২-১৩ অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে ছিলো ৫৪৭ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। এতে করে আমদানিতে ঋণপত্র খোলা হার বেড়েছে ১৭ দশমিক ৮৭ ভাগ। চলতি অর্থবছরের প্রথম দু’মাসে চাল আমদানিতে ঋণপত্র নিষ্পত্তি বেড়েছে ৩২৪ শতাংশ এবং খোলার হার বেড়েছে ৩৫৩ ভাগ। গম আমদানি বেড়েছে ৮৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং ঋণপত্র খোলার হার বেড়েছে ২১৯ শতাংশ। এসময়ে ডাল আমদানি বেড়েছে ৫৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ, পিঁয়াজ ২৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ। তবে চিনি আমদানিতে ঋণপত্র নিষ্পত্তি ২৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ বাড়লেও খোলার হার বেড়েছে ১০ দশমিক ১৯ শতাংশ। পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, শিল্পে ব্যবহূত কাঁচামাল আমদানি ৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ কমলেও ঋণপত্র ২৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেশি খোলা হয়েছে। ভোজ্যতেল আমদানি করা হয়েছে ২৪ কোটি ১২ লাখ ডলারের, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিলো ১১ কোটি ৩৩ লাখ ডলার। সে হিসেবে ভোজ্যতেল আমদানি বেড়েছে ১১৩ শতাংশ। অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম দু’মাসে আগের অর্থবছরের তুলনায় মূলধনী যন্ত্রপাতি, সিমেন্ট, কেমিক্যাল ও কেমিক্যাল জাতীয় পণ্য, ইয়ার্ন, দুগ্ধজাত খাদ্য, ফল ও শুষ্ক ফল এবং চিনি আমদানি কমেছে।