জাতীয় সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়েছে। চলতি (২০১৩-১৪) অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে সঞ্চয়পত্রে নিট বিনিয়োগ এসেছে দুই হাজার ৯৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।। যা পুরো অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৪২ শতাংশ। জাতীয় সঞ্চয় পরিদপ্তরের হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে। চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্রে নিট বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা।
পরিদপ্তরের হিসাবে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময় পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে মোট বিনিয়োগ এসেছে ৫ হাজার ৫৯৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এ সময়ে মূল হিসেবে পরিশোধ করা হয়েছে ৩ হাজার ৭৯৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা। সুদ পরিশোধ করা হয়েছে এক হাজার ৮৬৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা। মূল ও সুদ বাদ দিয়ে সঞ্চয়পত্রে নিট বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৯৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরে নিট বিনিয়োগ এসেছে ৭৮০ কোটি টাকা। গত জুলাই ও আগস্টে নিট বিনিয়োগ এসেছিলো যথাক্রমে ৬২৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা ও ৬৯১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।
আলোচ্য তিন মাসে সঞ্চয়পত্র বিক্রির তিনটি চ্যানেলের মধ্যে ডাকঘরের মাধ্যমে সবেচেয়ে বেশি সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। এ চ্যানেলের মাধ্যমে নিট বিক্রি হয়েছে এক হাজার ১৩ কোটি টাকা। ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধমে নিট বিক্রি হয়েছে ৭৬১ কোটি টাকা এবং সঞ্চয় ব্যুরোর মাধ্যমে বিক্রি হয়েছে ৩২২ কোটি টাকা। বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রের মধ্যে পরিবার সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে পরিবার সঞ্চয়পত্রে নিট বিনিয়োগ এসেছে এক হাজার ৬৮৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। পাঁচ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্রে নিট বিনিয়োগ এসেছে ২৬১ কোটি ২৮ লাখ টাকা। তিন মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে নিট বিনিয়োগ এসেছে ১৪৪ কোটি টাকা। অন্যান্য সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ এর বেশ নিচে রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে আশানূরুপ বিনিয়োগ না আসায় চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৪ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা করা হয়। তবে চলতি বছরে আমানতের সুদহার কমে আসা, পুঁজিবাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও ব্যাংকে নানা ধরনের জাল-জালিয়াতির ঘটনায় সঞ্চয়পত্রের দিকে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা। তাছাড়া সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হারও ভাল।
