রাজনৈতিক অস্থিরতা এবারের কোরবানি ঈদের চামড়া সংগ্রহ ও তা পরবর্তীতে প্রক্রিয়াজাতে প্রতিকূলতা সৃষ্টি করেছে। ঈদ-পরবর্তী সময়ে সরকারের মেয়াদ পূর্তি ও এই ইস্যুতে বিরোধী দলের প্রস্তুতির খবরে আতংকিত অবস্থায় ছিলেন ব্যবসায়ীরা। ঈদের পরে অন্তত একমাস এই শিল্পের সাথে জড়িতদের ব্যস্ত সময় কাটাতে হয়
এবারের ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া কিনতে ৪৬১ কোটি টাকা চামড়া ব্যবসায়ীদের ঋণ দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত চার বাণিজ্যিক ব্যাংক। গতবছর অর্থাত্ ২০১২ সালে এখানে ৩৫৫ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছিল এই চার ব্যাংক। জানা গেছে, সোনালী ব্যাংক তিনটি প্রতিষ্ঠানকে চামড়া কিনতে ৯১ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। গতবছর ব্যাংকটি এখাতে ৬৬ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছিল। এ বছর জনতা ব্যাংক ২২টি প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়েছে ২৫০ কোটি টাকা। গতবছর তারা এ খাতে ঋণ দিয়েছিল ১৩৫ কোটি টাকা। এবার চামড়া কিনতে অগ্রণী ব্যাংক ঋণ দিয়েছে ৭০ কোটি টাকা। গতবছর এই ব্যাংক দিয়েছিল ১০২ কোটি টাকা। এবার রূপালী ব্যাংক দিয়েছে ৫০ কোটি টাকা। গতবছর এই ব্যাংকটি ঋণ দিয়েছিল ৩০ কোটি টাকা। ব্যবসায়ীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এসব ঋণ অনুমোদনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সাধারণত আমাদের এখানে চামড়ার বার্ষিক জোগানের সিংহভাগ আসে কোরবানির ঈদের পশুর চামড়া থেকে। এ সময় চামড়ার সরবরাহ এতো বেশি থাকে যে ব্যবসায়ীরা নিজেদের টাকায় এতো চামড়া একসঙ্গে কিনতে পারেন না। সাধারণত চামড়া কিনতে একবছর মেয়াদে ঋণ দেয়া হয়। চামড়া প্রক্রিয়াজাতের কাজে নিয়োজিত বড় বড় কোম্পানি এ ঋণ পেয়ে থাকে। তারা এ টাকা দেয় চামড়ার আড়তদারদের। এ খাতে বেশ কিছু ঋণ দীর্ঘদিন থেকে খেলাপি হয়ে আছে। প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, বর্তমানে এ খাতে খেলাপি ঋণ রয়েছে ৫০০ কোটি টাকার বেশি। যার বেশির ভাগই বিতরণ করা হয়েছিল ৯০ দশকের প্রথমার্ধে। এ কারণেই বেসরকারি ব্যাংকগুলো চামড়া কেনার জন্য ঋণ দিতে তেমন আগ্রহ দেখায় না।
চামড়া একটি লাভজনক শিল্প। বিশ্বায়নের যুগে চামড়ার চাহিদা অনেক। এই চামড়া দিয়ে তৈরি হচ্ছে জুতো, ব্যাগ, বেল্টসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ। রেক্সিন ও কৃত্রিম চামড়াজাত সামগ্রী ব্যবহারের পরিমাণ বাড়লেও এখনও চামড়ার চাহিদা তুঙ্গে। ট্যানারি শিল্পে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি দারুণ সম্ভাবনাময় দেশ এই বাংলাদেশ। বিভিন্ন পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, দেশের রফতানিযোগ্য চামড়ার প্রায় অর্ধেক পরিমাণ সংগ্রহ হয় কোরবানির ঈদে। প্রতিবছর দেশে কাঁচা চামড়া উত্পাদিত হয় ১ কোটি ৬৫ লাখ পিস। এর মধ্যে ছাগলের চামড়া ১ কোটি, গরু ৫০ লাখ, ভেড়া ও মহিষ মিলে ১৫ লাখ পিস। সবমিলিয়ে পাওয়া ২২ কোটি বর্গফুটের মধ্যে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মাত্র পৌনে ৩ কোটি বর্গফুট। অবশিষ্ট প্রায় ১৯ কোটি বর্গফুট কাঁচা-পাকা ও চামড়াজাত পণ্য আকারে রফতানি হয়। দেশের চামড়া শিল্পের মূল মৌসুম হলো কোরবানির ঈদ। ঈদের বাজারে গরু-ছাগল-ভেড়া-মহিষের দাম বেশি হলে মানুষের কোরবানি দেয়ার পরিমাণ কমে যায় স্বাভাবিকভাবেই। আবার ঈদ বাজারে গবাদিপশুর দাম কম হলে তুলনামূলকভাবে বেশি পরিমাণ গরু-ছাগল-ভেড়া-মহিষ কোরবানি দেয়া হয়। গতবছরের মতো এবারও কোরবানির পশুর বাজারদর কম ছিল। ফলে এবছরও কোরবানির পশুর সংখ্যা বেড়েছে। এবার কোরবানির ঈদে গরু ও ছাগল মিলে প্রায় ৯০ লাখ পিস চামড়া ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলেন ব্যবসায়ীরা। ঈদের আগেই চামড়া শিল্পের সঙ্গে জড়িত তিন সংগঠন চামড়া পণ্য ও জুতা প্রস্তুতকারী সমিতি, বাংলাদেশ ট্যানার অ্যাসোসিয়েশন এবং কাঁচা চামড়া আড়তদারের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন এ বছরের কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিল। নিজেদের সুবিধা বিবেচনা করে চামড়ার দাম নির্ধারণ করেন তারা। দাম নির্ধারণে সরকারের প্রতিনিধি বা অন্য কোনো পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার প্রয়োজনবোধ করেননি তারা। তাদের ঘোষিত এ দামে বিপুল কারসাজির অভিযোগ উঠেছে। খোদ সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট (বিএফটিআই) অভিমত প্রকাশ করে বলেছে, চামড়ার দাম আরো বাড়ানোর সুযোগ ছিল।
ইতিপূর্বে কোরবানির ঈদে চামড়ার দাম নির্ধারণ না করায় লাখ লাখ মৌসুমি বিক্রেতা চামড়া নিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন আমরা দেখেছি। কারণ ট্যানারির মালিকরা অস্বাভাবিক কম দাম নির্ধারণ করে দেয়ায় অনেকে লোকসান দিয়ে চামড়া বিক্রি করেছেন। অনেকেই চামড়ার ব্যবসা করে পথে বসেছেন এমনও দেখা গেছে। আবার লোকসানের ভয়ে কেউ কেউ বিক্রি না করে চামড়া লবণ দিয়ে ধরে রেখেছিলেন। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। বেশিদিন এভাবে চামড়া সংরক্ষণের সুযোগ না থাকায় তাদেরকে বাধ্য হয়ে লোকসান গুনতে হয়েছে। চামড়া ব্যবসা ও শিল্প বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতে যে দামে ট্যানারি মালিকরা মাঠপর্যায়ের ক্রেতাদের কাছ থেকে চামড়া ক্রয় করেন তা অযৌক্তিক। কারণ তারা আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার বেশ ভালো মূল্য পাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা ও মূল্য বেড়েছে। অর্থনৈতিক মন্দার কারণে যে সংকট তৈরি হয়েছিল তা গতবছর থেকে দূর হয়ে চামড়ার বাজার চাঙ্গা হতে শুরু করে। ফলে চামড়ার রফতানিও বাড়তে শুরু করেছে ক্রমেই।
বাংলাদেশে প্রস্তুত চামড়ার মান ভালো হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদাও বেশ। আবার বড় প্রতিযোগী দেশগুলোতে উত্পাদন ব্যয় বেশি হওয়ায় ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় আছে বাংলাদেশের চামড়া পণ্য। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এ দেশে তৈরি জুতার চাহিদা। দেশীয় অনেক প্রতিষ্ঠানই বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলোর দামী-নামী ব্র্যান্ডের জুতা তৈরি করছে। এসব বিষয় মাথায রেখেই চামড়া ও চামড়া শিল্পজাত পণ্য উত্পাদনকারী অনেক প্রতিষ্ঠানই তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। এ শিল্পের ৯০ শতাংশ কাঁচামাল দেশেই পাওয়া যায়। জুতা ও অন্যান্য পণ্য তৈরিতে উত্পাদিত পাকা চামড়ার মাত্র ৫০ শতাংশ ব্যবহূত হয়। সেদিক থেকে চামড়াজাত পণ্য ও জুতা প্রস্তুতকারী শিল্পের প্রসার দ্বিগুণ করা সম্ভব। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী গত ২০১২-১৩ অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি থেকে আয় হয়েছিল ৫৬ কোটি ১০ লাখ ডলার। অন্যদিকে প্রস্তুতকৃত জুতা রফতানি থেকে আয় হয়েছে ৪১ কোটি ৯৩ লাখ ডলার। অর্থাত্ দেশের সার্বিক চামড়া খাতের রফতানি আয় হয় ৯৮ কোটি ডলারের কিছু বেশি। আগের বছরের চেয়ে এ সময় প্রস্তুত চামড়া রফতানিতে ২১ শতাংশ, চামড়াজাত পণ্যে ৬২ শতাংশ এবং জুতা রফতানিতে ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সরকার চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরে চামড়া খাতের রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে প্রায় ১২১ কোটি ৫০ লাখ ডলার। প্রতিবছর যেহারে রফতানি বাড়ছে, তাতে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন নয় বলে মনে করছেন এ খাতের উদ্যোক্তারা। ইতিমধ্যে অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে রফতানি হয়েছে ৩১ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা যেহারে বাড়ছে সে অনুযায়ী উত্পাদন করতে পারলে দু’এক বছরের মধ্যে এসব পণ্যের রফতানি ৫০ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব। সে কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানই এখন কারখানা ও ট্যানারি সম্প্রসারণ করছে। আগামী এক বছরের মধ্যে পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, আফ্রিকার কয়েকটি দেশে ও রাশিয়া ফিনিশড চামড়ার নতুন বাজারে পরিণত হবে। এজন্য আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ট্যানারী প্রয়োজন। সাভারের শিল্পনগরীতে এমন বেশ কিছু ট্যানারি চালু করা সম্ভব। তবে ট্যানারি মালিকদের অভিযোগ: তাদেরকে প্রয়োজনের তুলনায় কম সংখ্যক প্লট দেয়া হয়েছে। ফলে তাদের পক্ষে মানসম্পন্ন ট্যানারি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না। সারা দেশে ট্যানারি আছে ২২০টি। রাজধানীর হাজারীবাগেই আছে ২০৬টি। এ খাতের সঙ্গে সরাসরি জড়িত আছেন সাত লাখ ৪১ হাজার মানুষ। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, দেশের ট্যানারি কারখানাগুলোতে এ পর্যন্ত বিনিয়োগ হয়েছে ২৫০ কোটি টাকা।
চামড়া শিল্পের একটি বড় সমস্যা হলো, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য। কোরবানির ঈদে যে পশু কোরবানি হয় তা হলো কাঁচা চামড়ার অন্যতম প্রধান উত্স। গ্রামের বা ঢাকার বাইরে চামড়া ক্রয়ের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো না থাকায় চামড়ার সঠিক মূল্য পাওয়া যায় না। দালাল-ফড়িয়ারা এগুলো বাড়ি বাড়ি ঘুরে বিভিন্ন দামে সংগ্রহ করে। গ্রাম থেকে উপজেলা ও জেলা হয়ে ঢাকা পর্যন্ত কয়েক স্তরবিশিষ্ট মধ্যস্বত্বভোগী রয়েছে। চামড়ার সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করার ক্ষেত্রেও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বা দক্ষ জনবলের অভাব রয়েছে। কাঁচা চামড়া থেকে চর্বি বা মাংস ছাড়ানোর সময় চামড়া কেটে যায়, যা চামড়ার গুণগত মান নষ্ট কর দেয়। গ্রাম ও মফস্বল শহরগুলোতে পুরনো ও গতানুগতিক পদ্ধতিতে পশু থেকে চামড়া খোলা হয়। কাঁচা চামড়া সঠিক নিয়মে প্রক্রিয়াজাতকরণ না হওয়ার কারণে এর গুণগত মান হ্রাস পায়।
রাজনৈতিক অস্থিরতা এবারের কোরবানি ঈদের চামড়া সংগ্রহ ও তা পরবর্তীতে প্রক্রিয়াজাতে প্রতিকূলতা সৃষ্টি করেছে। ঈদ-পরবর্তী সময়ে সরকারের মেয়াদ পূর্তি ও এই ইস্যুতে বিরোধী দলের প্রস্তুতির খবরে আতংকিত অবস্থায় ছিলেন ব্যবসায়ীরা। ঈদের পরে অন্তত একমাস এই শিল্পের সাথে জড়িতদের ব্যস্ত সময় কাটাতে হয়। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে চামড়া সংগ্রহ করে বিভিন্ন বড় বড় ট্যানারিতে নেয়া হয়। আবার সংগৃহীত চামড়াকে সংরক্ষণ করতে যেসব কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় তা সংরক্ষণ করতে ছুটতে হয় নানা জায়গায়। এই সময় যদি নির্বিঘ্নে কাজ করা যেত তাহলে একটা কথা ছিল। এবারের অস্থির রাজনৈতিক পরিবেশ ও পরিস্থিতির কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে কোরবানির চামড়া সংরক্ষণ, স্থানান্তর ও পরিবহনে অনেক সমস্যা হয়েছে। অনেক জায়গায় চামড়া নষ্ট হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন অনেক ব্যবসায়ী। আবার ঢাকায় চামড়া আনার ক্ষেত্রে বাধা-বিপত্তি সৃষ্টি হওয়ায় সীমান্ত অঞ্চলের কোরবানির চামড়া ভারতে পাচার হয়ে গেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা ছাড়াও ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রা রুপির দাম কমে যাওয়ায় চামড়া পাচারে প্রভাব পড়েছে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলো থেকে ঢাকায় চামড়া আনার চেয়ে ভারতে পাচার করা অনেক সহজ। প্রতিবছরই আগের বছরের বিপুল পরিমাণ মজুদ রয়েছে বলে ট্যানারি মালিকরা চামড়া ক্রয়ে অনাগ্রহ দেখান এবং চামড়ার মূল্য কমে যায় এর ফলে। এবারও তাই ঘটেছে।
২০১২-১৫ রফতানি নীতিতে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতের তালিকায় রাখা হয়েছে। এজন্য এই খাত যেসব সুবিধা পাবে তা হলো: অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হ্রাসকৃত সুদহারে প্রকল্প ঋণ প্রদান করা, আয়কর রেয়াত, বিদ্যুত্, পানি ও গ্যাস ইত্যাদির ক্ষেত্রে বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার নিয়মের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সম্ভাব্য আর্থিক সুবিধা বা ভর্তুকি প্রদান, সহজশর্তে রফতানি ঋণ প্রদান, বন্ড সুবিধা, অবকাঠামো, প্রাতিষ্ঠানিক ও কারিগরি সুবিধা প্রদান ও এর সম্প্রসারণ বহির্বিশ্বে বাজার অন্বেষণে সহায়তা প্রদান, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। পণ্যভিত্তিক সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে রুগ্ন চামড়া শিল্প ইউনিটগুলোকে পলিসি সাপোর্টের মাধ্যমে ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ সুবিধা প্রদান, উত্পাদনশীলতা, এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সফলতা বৃদ্ধি, চামড়া শিল্পের পশ্চাত্মুখী বা উপকরণজাত শিল্পের প্রসার ঘটানো, পশুর শরীর থেকে চামড়া ছাড়ানোর পদ্ধতি, সংরক্ষণ, পরিবহন ইত্যাদি বিষয়ে বিভিন্ন প্রচারণা ও সচেতনতা বৃদ্ধি, কসাই ও চামড়া ব্যবসায়ীদের জন্য প্রশিক্ষণ কোর্স ও কর্মশালার আয়োজন, লেদার সেক্টর বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিলের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পের দ্বারা উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ, চামড়াজাত পণ্য ও জুতা শিল্পে বৈদেশিক বিনিয়োগ ও জয়েন্ট ভেঞ্চার বিনিয়োগ উত্সাহিত করা, এখাতের উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক মেলা ও প্রদর্শনীতে যোগদানের ব্যবস্থা, গ্রাম অঞ্চলে পরিকল্পিতভাবে আধুনিক কসাইখানা স্থাপন ইত্যাদি।
বাংলাদেশের অনেক সম্ভাবনাময় একটি খাত চামড়া শিল্পকে সব সংকট ও সমস্যার কবল থেকে মুক্ত করতে সবাইকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে। শুধুমাত্র বিশেষ কয়েকটি খাতের উপর আমাদের প্রবৃদ্ধিকে নির্ভরশীল না রেখে চামড়া খাতকেও এক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে চামড়াজাত সামগ্রী এবং পাকা চামড়া রফতানির মাধ্যমে বাংলাদেশ খুব দ্রুত আরো সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে পারে। চামড়া শিল্পের প্রধান কাঁচামাল গরু-ছাগল, ভেড়া-মহিষের কাঁচা চামড়া প্রাপ্তির ক্ষেত্রে আমাদের এখানে যে ধরনের সুযোগ রয়েছে তা পৃথিবীর খুব কম দেশেই রয়েছে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে হবে। সবাইকে এ ব্যাপারে পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে।
লেখক: ব্যাংকার
