আলোকপাত

মার্চ :বাঙালির গৌরবের মাস

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০১৪, ২১:৫৮
এটা মার্চ মাস। বাঙালি জাতির জন্য মহাগুরুত্বপূর্ণ একটি মাস। তাই এই মাসটিকে তিলে তিলে উপলব্ধি করা আমাদের প্রয়োজন। আর জাতি হিসাবে আমরা এতটা অকৃতজ্ঞ নই। কারো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে কার্পণ্য করি না। যদিও এই কালচারটা তৈরি করতে অনেক বছর লেগেছে। আবার সবার মনের উদারতা যে এক রকম তা-ও কিন্তু নয়। তবে একটা গোষ্ঠী আছে। তারা বরাবরই স্বাধীনতার বিপক্ষে। তারা দেশের স্বাধীনতা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে থাকে। এত বছর পরও তারা আমাদের এই সভ্যতাকে মেনে নিতে পারেনি। তারা সভ্যতার চেয়ে জঙ্গিবাদকেই বেশী পছন্দ করে থাকে। ওদেরকে উত্সাহ যোগায়। মদদ দিয়ে থাকে। নিজেদের ভয়াবহ পরিণতির কথা একবারও ভাবে না। কারণ গ্রেনেড মেরে নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে বিজয়ের সূচনা করা যায় না। বরং নিজেদের ধ্বংস নিজেরাই ডেকে আনে। অহেতুক রক্তপাত কখনো কল্যাণ ও শান্তি বয়ে আনতে পারে না। বাঙালি জাতির মহানায়ক, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, এই মাসেই গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তখন তাঁর বাবা-মা কি জানতেন তাদের এই ছেলে একদিন আলোর দ্যুতি হয়ে গোটা জাতি ও দেশকে আলোকিত করবেন। নেতা হয়ে নেতৃত্ব দেবেন। অসহ্য যন্ত্রণা ও নির্যাতন সয়ে নেবেন। বছরের পর বছর জেলে থাকবেন। একদিন তার নেতৃত্ব সফল হবে। বাংলাদেশ নামে একটি দেশ পৃথিবীর মানচিত্রে ঠাঁই পাবে। আমরা স্বাধীন। এই বলে প্রতিটি বাঙালি মাথা উঁচু করে গর্ব করবে। ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে পায়ে পরা পরাধীনতার শিকল। বঙ্গবন্ধু যেখানেই যেতেন, বড় কোনো মিটিং বা কর্মী সমাবেশে। তিনি কর্মীদের বলতেন, তোমরা সত্ পথে চলবে, তোমরা দেশের মানুষকে ভালোবাসবে, বিপদে-আপদে তাদের পাশে থাকবে। আর কখনো পাকিস্তানীদের মতো মনোভাব পোষণ কোরো না। এইভাবে তিনি দেশের মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে গেলেন। এক সময় ব্যাপারটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, পাকিস্তানীরা কখনো বাঙালিদের হাতে ক্ষমতা দেবে না। ঠিক একতরফা নির্বাচনের মতো বিজয়টা ওরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছিল না। ওরা নানা রকম ফন্দি আঁটতে থাকে। প্রয়োজনে যুদ্ধে অবতীর্ণ হবে এবং সেনাবাহিনী নামিয়ে দেবে। সত্তরের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া সত্ত্বেও পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী আওয়ামী লীগের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করলে গর্জে ওঠে গোটা বাংলাদেশ। একাত্তরের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে জাতির উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান। ডাক দেন অসহযোগের। তিনি বলেন, তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো, শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে। ওই ভাষণটাই মূলত স্বাধীনতা ঘোষণা। সারা দেশ উত্তাল হয়ে ওঠে। প্রত্যেক বাঙালিই বুঝতে পারে সামনে আমাদের কঠিন সময়। যে কোনো মুহূর্তে যুদ্ধ বেধে যেতে পারে। আর ওই যুদ্ধে আমাদের জয়লাভ করতে হবে। দেখতে দেখতেই ২৫ মার্চ এসে গেল। রাত বারোটার পর পাক হানাদার বাহিনীরা বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রথমে ওরা রাজারবাগ পুলিশ লাইনে আক্রমণ করে এবং ঘুমন্ত লোকদেরকে হত্যা করে। তারপর ভারী ভারী অস্ত্র দিয়ে ঢাকা শহরে অগণিত নিরীহ লোকদেরকে হত্যা করে। মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ দেখেনি ওরা। সামনে যাকে পেয়েছে তাকেই সোজা গুলি। মায়ের কোলের শিশুটি পর্যন্ত রক্ষা পায়নি। রক্ষা পায়নি রিকশাঅলাও। তাদের স্পষ্ট কথা মানুষের কোনো দরকার নেই। দরকার শুধু এদেশের মাটির। আস্তে আস্তে তার া বড় বড় শহরগুলো দখল করে নেয়। তারপর থানা, এক পর্যায়ে প্রত্যন্ত গ্রামেও ক্যাম্প স্থাপন করে ফেলে। বিপদগামী কিছু বাঙালিও তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। তারা হল জাতির চিরশত্রু। যাদেরকে রাজাকার নামে চিহ্নিত করা হয়। আজ আন্তর্জাতিক আদালতে যাদের বিচার হচ্ছে। মার্চ বাঙালির গৌরবের মাস, গভীর শোকের মাসও বটে। ২৫ মার্চের সেই কালরাত্রির স্মৃতি ভুলে যাবার নয়। এই মার্চ আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার মাস। লেখক :শিশু সাহিত্যিক

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন