মরিয়ম ওয়ারদক, আফগানিস্তানে জন্ম নিলেও বেড়ে উঠেছেন যুক্তরাষ্ট্রে। বেশ কয়েক বছর আগে একবার এসেছিলেন নিজ শহর ওয়ারদক প্রদেশে। কিন্তু তখন নারীদের চলাফেরায় এতো বেশি কড়াকড়ি ছিল যা তাকে অবাক করেছিল। তবে ২৮ বছর বয়সে এবার ফিরে এসে অন্য রকম এক চিত্র দেখছেন আফগানিস্তানে। এবার জাতীয় ও প্রাদেশিক নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে তিন শতাধিক নারী। নির্বাচনী প্রচারণার পোস্টারে শোভা পাচ্ছে নারীদের ছবি।
মরিয়ম ওয়ারদকের মা জাকিয়া ওয়ারদক সায়েদাবাদ জেলার প্রার্থী হিসাবে ওয়ারদক প্রাদেশিক কাউন্সিল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তালেবান অধ্যুষিত ওয়ারদকে নারীদের নির্বাচন করার বিষয়টি গত কয়েক বছর আগে চিন্তাই করতো না কেউ। কিন্তু আন্তর্জাতিক সহায়তাসহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসায় এগিয়ে এসেছেন নারীরা। এখন পোস্টারে ছবি ছাপা হলেও কেউ বাধা দেয় না। এমনকি নির্বাচনী প্রচারণায় বিভিন্ন স্থানে মিছিল-মিটিং করতে গেলেও সমস্যা হচ্ছে না নারীদের। অথচ একটা সময় ছিল যখন নিজের বোনের স্বামী কিংবা দেবরের সামনেও মুখ দেখাতে পারতো না নারীরা। অনেকে মজা করে বলতো, আমাদের মেয়েরা হারিয়ে গেলে তাদের কণ্ঠস্বর না শুনলে কেউ তাদের খুঁজে বের করতে পারবেন না।
পরিস্থিতির যথেষ্ট অগ্রগতি হলেও আশঙ্কা রয়েছে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে মৌলবাদী শক্তি ক্ষমতায় আসলে নারীদের অগ্রগতি আবারো থমকে যেতে পারে। শনিবারের এ নির্বাচনে তিন শতাধিক নারী প্রার্থী থাকলেও সব থেকে বড় চমক হচ্ছে এবছর ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করছেন এক নারী। হাবিবা শরোবি, যিনি বামিয়ান প্রদেশের সাবেক গভর্নরের দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার লড়ছেন জাতীয় নির্বাচনে।
আফগান রাজনীতিক এবং আইনজীবী ফৌজিয়া কোফি বলেন, একটা সময় ছিল যখন নিজের মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে নির্বাসিত ছিল আফগান নারীরা। তাদের পর্দার আড়ালেই থেকে যেতে হতো। সেখানে আজ নারীরা মঞ্চে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিচ্ছে। আর এবার নির্বাচনে অংশ নেয়া আটজন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী তাদের নির্বাচনী ভাষণে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টির কথা জোরালোভাবে উচ্চারণ করছেন। প্রেসিডেন্ট প্রার্থীরা নারী সংগঠনের করা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে এবং নারী অধিকারসহ অন্য নারী ইস্যুতে কথা বলছেন। — নিউইয়র্ক টাইমস
