আইসিসিতে শ্রীনিবাসনের উপস্থিতিকে চ্যালেঞ্জ

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৩৮
একজন মানুষকে যখন হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়, সে কী করে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হতে চায়! —ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের ‘বহিষ্কৃত’ সভাপতি কী করে আইসিসি সভাপতি হওয়ার আশা করেন, এটা বোঝাতে বলছিলেন তার বিরোধী পক্ষের আইনজীবী নলিনী চিদাম্বরম। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) খেলা চলছে দুবাইতে। কিন্তু এই আসরের, তথা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) ভাগ্য নির্ধারণ চলছে আসলে সে দেশের সুপ্রিম কোর্টে। এ অবস্থায় আইপিএল প্রসঙ্গে এমন আদালতীয় উদাহরণ যে সামনে আসবে, তাতে আর বিস্ময়ের কী আছে! আসলে এই উদাহরণ না দিয়ে আর উপায়ও ছিল না বিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি নারায়ণস্বামী শ্রীনিবাসনের বিরোধিতাকারীদের। কারণ আদালতের পরিষ্কার নির্দেশে নিজের দেশের সব ক্রিকেটীয় কার্যকলাপ থেকে এক রকম বহিষ্কৃত হয়েছেন যে শ্রীনিবাসন তিনিই ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে নিয়মিত আইসিসি সভায় হাজির হচ্ছেন। সব নৈতিকতা ও আইসিসির ‘কোড অব এথিকসের’ মাথা খেয়ে শ্রীনিবাসনকে ক’দিন পর আইসিসি সভাপতিও বানানোর চেষ্টায় আছে প্রতিষ্ঠানটি। এখন যে মানুষটি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগেই নিজের দেশে ক্রিকেটের সংশ্লিষ্টতা হারিয়েছেন, তিনি কী করে আইসিসিতে থাকেন? এই প্রশ্ন শুরু থেকেই করে আসছে চলমান চাঞ্চল্যকার মামলার বাদী বিহার ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (সিএবি)। কিন্তু আদালত এর আগে বলেছিলেন, ‘এটা বিসিসিআইয়ের নিজস্ব ব্যাপার।’ এবার আবার আইসিসিতে শ্রীনিবাসনের উপস্থিতির বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে আবেদন করেছেন সিএবি। সিএবির পক্ষে লড়তে থাকা কৌঁসুলিদের একজন চিদাম্বরম বলেছেন, ‘আইসিসিতে শ্রীনিবাসনের বিসিসিআইকে প্রতিনিধিত্ব করার ওপর নিষেধাজ্ঞা চাচ্ছি আমরা। আমরা এ বিষয়ে ইতিমধ্যে আদালতে একটি আবেদন জমা দিয়েছি।’ নিজেদের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরতেই চিদাম্বরম বলেছেন সেই কথাটা। যে একজন লোক নিম্নকক্ষে যোগ্যতা হারালে উচ্চ আদালতে কী করে যোগ্য বিচারক হবেন? আসলে বম্বে হাইকোর্টে সিএবি’র সাধারণ সম্পাদক আদিত্য বার্মা যখন এই মামলার সূত্রপাত করেন, তখনই তাদের পাঁচটি আবেদনের একটি ছিল এই শ্রীনিবাসনের আইসিসিতে থাকার ওপর নিষেধাজ্ঞা। আবেদন পাঁচটি ছিল এরকম—আইপিএল দুর্নীতি বিষয়ে বিসিসিআইয়ের করা দুর্নীতি কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা, স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন, শ্রীনিবাসনের বিসিসিআই সভাপতি থাকার ওপর নিষেধাজ্ঞা, শ্রীনিবাসনের আইসিসিতে প্রতিনিধিত্ব করার ওপর নিষেধাজ্ঞা, চেন্নাই সুপার কিংসকে আইপিএল থেকে বহিষ্কার এবং শ্রীনিবাসনকে তামিল নাড়ু ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন থেকে বহিষ্কার। এর মধ্যে বম্বে হাইকোর্ট শুধুমাত্র প্রথম দাবিতে সিএবি’র পক্ষে রায় দেয়। তারা তদন্ত কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করে। বাকিগুলোতে বিসিসিআই ও শ্রীনিবাসনের পক্ষেই যায় আদালত। এরপর সিএবি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। সেখানে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করে আইপিএল দুর্নীতি তদন্তের নির্দেশনা দেয়া হয়। ফলে সাবেক বিচারপতি মুকুল মুগদালকে প্রধান করে কমিটি গঠিত হয়। সেই কমিটিই কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বের করে ফেলে। তারা দেখতে পায় সিএবি’র দাবি অনেকাংশেই সত্যি। শুধু তাই নয় কমিটি বন্ধ খামে যে ১৩ জন সন্দেহভাজনের নাম জমা দেয় সুপ্রিম কোর্টে -তার একজন শ্রীনিবাসন নিজে। ফলে সুপ্রিম কোর্ট তাকে সরে যেতে বলে। অনেক তালবাহানা করে শ্রীনিবাসন সরে যান। কিন্তু বিচিত্র এক কারণে তাকেই গত আইসিসি সভায় পাঠায় বিসিসিআই। এবার সেটাকেও চ্যালেঞ্জ করেছে সিএবি। এখন ২৯ এপ্রিল শুরু হতে যাওয়া আইপিএল বিষয়ক শুনানিতে এই প্রসঙ্গ ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে তাদের।