দিনেশ চান্দিমালকে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক এবং টেস্ট ও ওয়ানডে সহ-অধিনায়কের পদ থেকে সরিয়ে সব ফরম্যাটে সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ২৪ বছর বয়সী লাহিরু থিরিমান্নেকে। শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের মধ্যে অনেকে আরও একটা হঠকারিতার সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছেন। চান্দিমালের মতো থিরিমান্নেও এই প্রাপ্তিতে ধসে পড়েন কি না, সেটাই অনেকের দুশ্চিন্তা। তবে শ্রীলঙ্কা জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক সনাথ জয়াসুরিয়া বলছেন, চান্দিমালের মতো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই নেই থিরিমান্নের। তিনি বরং এই তরুণের মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতায় মুগ্ধ ও বিস্মিত। সহ-অধিনায়ক হিসেবে ও ভবিষ্যত্ অধিনায়ক হিসেবে থিরিমান্নে যে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন, সেটা তার ব্যাটিং দেখেই নিশ্চিত হয়েছেন সাবেক শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক জয়াসুরিয়া, ‘থিরিমান্নে একেবারে ভিন্ন ধরনের একজন খেলোয়াড়। সব জায়গায় দারুণ ব্যাট করতে পারে সে এবং সুযোগ পেলেই পারফরম করে। টপ অর্ডারে কেউ ইনজুরিতে পড়লে সে ওপেন করে, ৩ বা ৪ নম্বরে কেউ অনুপস্থিত থাকলে সেখানে ব্যাট করতে পারে। আবার ৫ বা ৬ নম্বরেও দারুণ ব্যাট করে। ওর মানসিকতাটাই হল যে কোনো পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেয়া। এটা এখন সবাই জানে। ফলে আরও একটা চ্যালেঞ্জ নেয়ার জন্য সে সহ-অধিনায়কত্বটা করতেই পারে। আমাদের জন্য সেই সেরা পছন্দ। ওর টেকনিক, পরিশ্রম—সবকিছু মিলিয়ে সে এখন পর্যন্ত যথেষ্ট যোগ্য।’
শুধু এই ভিন্ন ভিন্ন ব্যাটিং পজিশনে মানিয়ে নেয়াই নয়; জয়াসুরিয়া বলছেন, থিরিমান্নের বিভিন্ন ফরম্যাটে মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতাও অসাধারণ। ৫৮৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন জয়াসুরিয়া বলছেন, এরকম পরিণত খেলোয়াড় তিনি খুব একটা দেখেননি, ‘থিরিমান্নে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির মতো ভিন্ন ভিন্ন ফরম্যাটে অভিজ্ঞদের মতো দ্রুত মানিয়ে নিয়ে চাপের মুখে আরও ভালো ব্যাট করতে পারে। এরকম খেলোয়াড় আমি খুব একটা দেখিনি।’ তবে জয়াসুরিয়া যতই থিরিমান্নে-বন্দনায় বুঁদ হয়ে থাকুন না কেন, তাকে নিয়ে সমালোচনা চলছেই। এখন থিরিমান্নের যেমন প্রশংসা করছেন, তেমনই প্রশংসা করে চান্দিমালকে ‘ভবিষ্যত্’ বলে রায় দিয়ে জয়াসুরিয়া টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক করেছিলেন। কিন্তু আজ তার ব্যর্থতার দায় কে নেবে?
এ প্রশ্নের উত্তর না দিলেও ‘মাস্টার ব্লাস্টার’ জয়াসুরিয়া বলছেন, চান্দিমালের সামনে অনেক সময় পড়ে আছে। আর তার সঙ্গে আলাপ করেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, ‘আমরা নির্বাচক কমিটিতে এটা নিয়ে লম্বা সময় ধরে আলাপ করেছি। আমরা দীর্ঘ মেয়াদের কথা ভেবেই চান্দিমালকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম। যাই হোক, একটা সময় পর আমরা বুঝতে পারছিলাম, ও এই বাড়তি চাপটা নিতে পারছে না। আমরা ওর প্রতিভা সম্পর্কে জানি। ভেবেছিলাম যে, সে এই চাপ থেকে বেরিয়ে আসবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেটা হয়নি। ফলে তার সম্মতি নিয়েই লাসিথ মালিঙ্গাকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। আমি চান্দিমালের সঙ্গে ঢাকায় বসেই কথা বলেছি। তাকে আপাতত ভারমুক্ত করে দেয়ার আলাপ হয়েছে। সামনে ওর সঙ্গে আবারও বসবো।’
