‘একটা হ-য-ব-র-ল তৈরি হয়েছিল’

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০১৪, ২২:০৭
সমালোচনা, বিতর্ক শব্দগুলোর সঙ্গে সেভাবে কখনোই পরিচয় হয়নি তার। অভিষেকের পর থেকে স্বল্প দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটে দেশের সেরা বোলার হিসেবে বল করেই যাচ্ছেন এবং সাফল্য পাচ্ছেন। কিন্তু এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পারফরম্যান্স নিয়ে এবং শরীরী ভাষা নিয়ে অনেক শোভন-অশোভন সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল সেই চিরকালের নির্বিরোধী আব্দুর রাজ্জাককেও। নিজেই বলছেন, ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো এলোমেলো হয়ে গিয়েছিলেন। অবশেষে ‘লাইফ সাকসেস কোচ’ আলী আজহারের তিন দিনের কর্মশালা থেকে কিছুটা হলেও নিজেকে খুঁজে পেয়েছেন। রাজ্জাক বলছেন, এই সেশনগুলো সবাইকেই একটু নির্ভার করেছেন। সেই সঙ্গে একান্ত এই সাক্ষাত্কারে রাজ্জাক কথা বলেছেন প্রিমিয়ার লিগ ও বিপিএলের বিষয়ে, নিজের বিষয়ে। আব্দুর রাজ্জাকের সাক্ষাত্কার নিয়েছেন দেবব্রত মুখোপাধ্যায়— কেমন লাগলো বিশেষ এই কর্মশালা? আমার ভালো লেগেছে। আসলে আমাদের একটা মানসিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল বলা যায়। সেখানে কারো সঙ্গে এরকম বিস্তারিত আলাপ করতে পারাটা অবশ্যই খুব কাজের ব্যাপার। আমার কাছে ভালো লেগেছে যে, উনি সব সমস্যা নিয়েই খুব বিস্তারিত করে আলাপ করেছেন আমাদের সঙ্গে। আগেও তো কয়েকবার খেলোয়াড়রা মনোবিদ বা এরকম বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করেছেন। কোনো পার্থক্য বুঝলেন এবার? হ্যাঁ, কয়েকবার তো হয়েছে। সর্বশেষ সৌমেন্দ্র সাহা এসেছিলেন ভারত থেকে। ওনার সঙ্গে একটা সেশন করেছিলাম আমরা। সেরকম ব্যাপক কিছু না। উনি বলেছিলেন, আমরা শুনেছিলাম। আর সত্যি বলি, তখন আমরা মনে করিনি যে, আমরা কোনো সমস্যার ভেতর দিয়ে যাচ্ছি। ফলে এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলাপও হয়নি। তার মানে, আপনারা একটা সমস্যার ভেতর দিয়ে যাচ্ছিলেন, এটা সত্যি? তা তো বটেই। বিশেষ করে হংকং ম্যাচের পর থেকে একটা জট পাকিয়ে গিয়েছিল সবকিছু। বিশ্বকাপে এমনিতে আমরা যা করেছি, সেটাও খুব ভালো ছিল না। কিন্তু হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচটায় যা ঘটেছে, এটা আসলে কেউই সহজভাবে নিতে পারেননি। যারা দেখেছেন, তারা যেমন আহত হয়েছেন; আমরা যারা খেলেছি, আমরাও ধাক্কাটা কাটিয়ে উঠতে পারিনি সহজে। এই ধাক্কাই কী তাহলে এলোমেলো করে দিলো আপনাদের? হ্যাঁ। এরপর প্রতিটা ম্যাচে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছিল। আমরা হারছি, সেই ধাক্কা ছিল। সঙ্গে অনেক কিছু ঘটেছিল; অনেক কথা হচ্ছিল। সত্যি বলি, এই সময় পত্র-পত্রিকায়ও অনেক কিছু লেখা হয়েছে। যেগুলোও প্রভাব ফেলেছে। মানে, সবকিছু মিলিয়ে একটা হ-য-ব-র-ল লেগে গিয়েছিল। সেই হ-য-ব-র-ল থেকে কী একটু বেরিয়ে আসতে পেরেছেন? হ্যাঁ, সেটা বলতে পারেন। এখন আমরা অন্তত চিন্তা করতে পারছি। আমার কথা বলি, আমি অনেকদিন পরে বেশ রিল্যাক্স আছি এখন। এটা দরকার ছিল। আসলে যেটা হয়, যে কোনো পর্যায়ে মনের সব সমস্যা খুলে বলতে পারলে তার একটা সুফল পাওয়া যায়। অনেক সময় যেটা হয়, কোনো চাপ না থাকলেও মনের অস্থিরতার কারণে চাপ চাপ মনে হয়। আমরা দেখলাম, আলী আজহার আপনাদের বলেছেন, এই চাপকে নিয়েই ইতিবাচক ভাবতে হবে? হ্যাঁ, এসব চাপ নিয়েই আমাদের চলতে হবে। এসব চাপ চাইলেই সরিয়ে দেয়া যাবে না। ফলে এর মধ্যেই ইতিবাচক চিন্তা করা, নিজের মনটা একটু খোলা রেখে শক্ত থাকাটাই আমাদের চেষ্টা হবে। শেষ পর্যন্ত এই পুরো প্রক্রিয়ার অবদান খেলায় কতোটা দেখা যাবে? এটা আসলে সবার ওপর নির্ভর করবে। আমাদের সবাইকে এই চিন্তার পদ্ধতিটা ঠিক রাখতে হবে। আবার যারা আমাদের পরিচালনা করবেন, তাদেরও এই চিন্তা পদ্ধতিতে কাজ করতে হবে। তবে ফল পাওয়া যাবে। আপনি নিজে তো এই বিশ্বকাপ চলা অবস্থায় বেশ চাপে পড়ে গিয়েছিলেন। সাধারণত যেটা হয় না, আপনাকেও সমালোচনা সামলাতে হয়েছিল। ফলে একটু অস্থির ছিলেন বলে মনে হচ্ছিল। সেটা কী বলেছেন ওনাকে? হ্যাঁ, এটা লুকিয়ে লাভ নেই। আমি বলেছি। আমি ওই সময় যা হয়েছে, বলেছি। বলেছি যে, এই এই হয়েছিল। তারপর যা প্রতিক্রিয়া হয়েছে; তার অনেক কিছুই মেনে নিতে পারিনি। সে জন্য আসলে জীবনে প্রথমবারের মতো মনে হয় একটু এলোমেলো হয়ে গিয়েছিলাম। এখন কী এলোমেলো অবস্থাটা কেটে গেছে বলা যায়? হ্যাঁ। অন্তত ভারমুক্ত এবং ওসব চিন্তা থেকে মুক্ত হয়ে আগের জায়গায় ফিরতে পারছি বলে মনে হয়। একটু অন্য প্রসঙ্গে আসি। জাতীয় লিগে আবারও ইনিংসে ৯ উইকেট নিলেন। সামনেই বিসিএল। দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচ বলে বিশেষ কোনো লক্ষ্য আছে? আপনি তো সেই ছোটবেলা থেকে আমাকে জানেন, আমার লক্ষ্য সবসময় একটাই থাকে—নিজের সেরাটা দেয়া। আমি টেনিস বলের খেলা হলেও সেরা বলটা করার চেষ্টা করি। সেটাই করবো। আসলে কী, আমি কখনোই কিছু প্রমাণের জন্য খেলি না। আমার খেলাধুলার মূল ব্যাপারটাই হল, নিজে তৃপ্তি পাওয়া। আমি যদি পারফরম করে মনে করি, না ভালো করেছি, তাতেই হলো। তারপর অন্য কাউকে নিয়ে আর ভাবি না। এখনও সেটাই করে যেতে চাই। বিপিএলের পাওনা কি বুঝে পেয়েছেন? না। মোটেও বুঝে পাইনি। অনেক টাকা বাকী। প্রিমিয়ার লিগেরও অনেক টাকা পাইনি। কী রকম পরিমাণে পাওনা বাকী, একটু বলবেন? প্রিমিয়ার লিগে প্রায় ৫০ শতাংশই বাকী। এর মধ্যে কয়েকটা ম্যাচ খেলতে পারিনি। সেটা বাদ দিয়েও ছয়-সাত লাখ টাকা বাকী। আর বিপিএলেও প্রথমে পেয়েছি ৫০ শতাংশ। তারপর ২৫ শতাংশ টাকা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সেটা আবার মূল দামের ২৫ শতাংশ নয়, বেস প্রাইসের ২৫ শতাংশ পেয়েছি। ফলে দুই লিগেই অনেক টাকা বাকী।