তিন রানে অলআউট!

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০১৪, ২২:০৮
দলীয় বাজে ব্যাটিং পারফরম্যান্সের মানদণ্ড কি? এই প্রশ্নের ক্রিকেটীয় কোন জবাব না থাকলেও একটা জবাব আসলো ইংল্যান্ডের প্রাদেশিক তৃতীয় বিভাগের এক ম্যাচে। সেখানে হাসলিংটনের বিপক্ষে উইরাল ক্রিকেট ক্লাব অল আউট হয়ে গেছে মাত্র তিন রানে! আর এই তিন রানের সবটাও আবার ব্যাটসম্যানরা নিজেরা আদায় করতে পারেননি। দুই রান এসেছে লেগ বাই থেকে। প্রথম ১০ জন ব্যাটসম্যান ফিরেছেন কোন রান না করেই। ব্যাটসম্যানদের মধ্যে মাত্র একজনই রান করতে পেরেছেন। তিনি হলেন একাদশ ব্যাটসম্যান কনোর হবসন। ঘটনাটা ঘটে ইংল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের চেশায়ার তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগে। অথচ উইরালের সামনে খুব বড় রানের লক্ষ্য ছিল না। জয়ের জন্য সফরকারীদের মাত্র ১০৯ রান করলেই চলতো। কিন্তু সেটা তো হলই না। বরং অল আউট হয়ে যায় মাত্র নং ওভার দুই বলের মধ্যে। নিজের ব্যর্থতার কথাটা উইরাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে লিখেছে অনেকটা এভাবে - ‘প্রথম একাদশ আজ হারলো ১০৫ রানে। অথচ প্রতিপক্ষের স্কোর ছিল মাত্র ১০৮ রান!’ ঘরোয়া ক্রিকেটে অবশ্য এটাই সবচেয়ে কম রানে অল আউট হবার রেকর্ড নয়। ১৯১৩ সালে ল্যাংপোর্ট কোন রান না করেই অল আউট হয়ে যায় গ্ল্যাস্টোনবারির বিপক্ষে। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে গ্ল্যাস্টোনবারিও করেছিল মাত্র ৮০ রান। ২০০৬ সালে এর কাছাকাছি মানের এক ঘটনা ঘটনায় ইয়র্কশায়ারের দল গোল্ডসবরো দ্বিতীয় একদশ। তাদের কোন ব্যাটসম্যানের ব্যাট থেকেই আসেনি কোন রান। যদিও অতিরিক্ত খাত থেকে এসেছিল পাঁচ রান। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে কোন দলের দলীয় সর্বনিম্ন রান মাত্র ছয়। যদিও সেটা অনেক আগের ঘটনা। ১৮১০ সালে লর্ডসে লজ্জার এই রেকর্ডটা করেছিল ‘দ্য বি’জ’ নামের একটি দল। আর টেস্টের ক্ষেত্রে এই সর্বনিম্ন রানটা হল ২৬। ১৯৫৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই রান করে নিউজিল্যান্ড। উইরাল গত শনিবারের ম্যাচে ছয় ওভারের মধ্যে কোন রান না করেই হারিয়ে ফেলে আটটি উইকেট। মাত্র দুজন বোলার দিয়েই ৯.২ বল পর্যন্ত চালিয়ে যায় হাসলিংটন। বেন ইস্টেড ছয়টি উইকেট পেলেও দিয়েছেন একটি রান। তাই এদিক থেকে কিছুটা হলেও এগিয়ে ছিলেন টম গ্লেডিল। ৪.২ ওভারে কোন রান না দিয়ে তিনি পেয়েছেন একটি উইকেট। ভয়াবহ ব্যাটিং ব্যর্থতার প্রসঙ্গে বিবিসি রেডিওকে দলের লোয়ার অর্ডারের ব্যাটসম্যান ম্যাট গ্যারেট বলেন, ‘কিভাবে কি হল সেটা ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। ব্যাপারটা পুরোটাই ঝাপসা। তিনটি উইকেট পতনের পর আমি প্যাড আপ করা শুরু করি। সাত নম্বর উইকেট পতনের পর যখন ব্যাট করার ডাক পড়ে তখনও আমার প্যাড আপ শেষ হয়নি!’