মুক্তিযোদ্ধাকে আবারও হারালো আবাহনী

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০১৪, ২২:০২
গতকাল আবাহনীর বিপক্ষে প্রথমপর্বে হারের প্রতিশোধ নেয়ার সুযোগ ছিল মুক্তিযোদ্ধার সামনে। সে সুযোগ তো কাজে লাগাতেই পারেনি তারা; উল্টো ম্যাচ হেরে মাঠ ছেড়েছে। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আবাহনী ১-০ গোলে হারিয়েছে মুক্তিযোদ্ধাকে। ম্যাচের ২৮ মিনিটে একমাত্র গোলটি এনে দিয়েছেন আবাহনীর পর্তুগীজ ফুটবলার লিওনিলডো সুয়োরেস। এই ম্যাচে আবাহনী যেন মোহামেডানের পথ অনুসরণ করলো! ম্যাচে এক গোলের লিড নিয়ে এবারের লিগে ডিফেন্সিভ ফুটবল খেলাটা অভ্যেসে পরিণত করে ফেলেছে মোহামেডান। মোহামেডানের পর্তুগীজ কোচ রুই ক্যাপেলা বারবার বলছেন, এটাই তার কৌশল। আবাহনীও গতকাল এই কৌশলে এগোলো। ২৮ মিনিটে একটা গোল করে ডিফেন্সিভ ফুটবল খেলতে শুরু করলো। লিড নেয়ার পর নিশ্ছিদ্র রক্ষণভাগ দাঁড় করালো মুক্তিযোদ্ধার সামনে। কিন্তু কেন আবাহনী এ ধরনের ফুটবল খেললো? খেলা শেষে এমন প্রশ্নের জবাবে আবাহনীর ইরানী কোচের জবাব, ‘ওরা (মুক্তিযোদ্ধা) গোল খেয়ে পিছিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই আমাদের উপর চড়াও হয়েছিল। আমরা রক্ষণাত্মক খেলে গোল ধরে রাখার চেষ্টা করেছি।’ কালকের এই জয়ে ১২ খেলায় ২৮ পয়েন্ট পাওয়া শেখ জামাল থেকে আবাহনী ৩ পয়েন্ট দূরে দাঁড়ালো, ১২ খেলায় ২৫ পয়েন্ট নিয়ে। ১৮ পয়েন্ট নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ৪ নম্বরে। আবাহনীর বিরুদ্ধে গোল হজমের আগে কয়েকবার গোল করার সুযোগ পেয়েছিল মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু নাইজেরিয়ান এলিটা কিংসলে সানডে চিজোবা এবং এনকোয়াচা সহজ গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেছেন। মুক্তিযোদ্ধার এনকোয়াচা প্রথমার্ধের শেষ ভাগে এসে আবাহনীর গোলকিপার সোহেলকে একা পেয়ে শট করলেন তার গায়ে। লালকার্ডের শাস্তি কাটিয়ে মাঠে ফেলা মুক্তিযোদ্ধার অধিনায়ক মারুফ আহমেদ কাল ভালোই খেলেছেন। বেশ কয়েটা ভালো পাস দিয়েছিলেন সতীর্থদের। একটা কর্নার থেকে গোল করার সুযোগও পেয়েছিলেন তিনি। কর্নারের বল বাঁক খেয়ে আবাহনী জালে ঢুকেই যাচ্ছিল প্রায়। সোহেল সেটা কোনো রকমে কর্নার করে রক্ষা না করলে মুক্তিযোদ্ধা গোল পেয়ে যেতো। ইনজুরি টাইমে মুক্তিযোদ্ধার সানডের শট গোল লাইন থেকে ফিরে আসে আবাহনীর অধিনায়ক সুজনের চেষ্টা। ম্যাচশেষে মুক্তিযোদ্ধার কোচ সফিকুল ইসলাম মানিক ব্যর্থতার দায় দিলেন সেই ফরোয়ার্ডদের, ‘৫ থেকে ৬টা সুযোগ নষ্ট করেছে আমার ফরোয়াড। আমি তো স্ট্রাইকারদের ব্যর্থতার দায় নিতে পারি না।’ মানিক রেফারিকেও দুষেছেন। রেফারি জালাল উদ্দিনের পরিচালনা পছন্দ না মানিকের। তাই কাল খেলার আগেই আপিত্ত জানিয়েছিলেন তিনি। মানিক বলেন, ‘৩৮-৪৫ মিনিটের মধ্যে খেলা হল ১ মিনিট। সব মিলিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে খেলা হয়েছে ৪৬ মিনিটের মধ্যে ৩০ মিনিট। তিনি বলেন, আবাহনীর গোলকিপার সোহেল আহত হয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী মাঠের বাইরে নিয়ে সেবা করা হবে। কিন্তু সেটা না করে মাঠেই করা হয়েছে। রেফারি সে সুযোগ করে দিয়েছেন।’ আজকের খেলা ঃ মোহামেডান ও বিজেএমসি এবং উত্তর বারিধারা ও চট্টগ্রাম আবাহনী (বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম, ৫টা ৩০ ও ৭টা ৩০)।