ইংল্যান্ড সেরা সুয়ারেজ

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০১৪, ২২:০৩
মাত্র ১২ মাসের মধ্যে কতই না পাল্টে যেতে পারে সময়! লুইস সুয়ারেজকে না দেখলে আসলে ব্যাপারটা বোঝা যাবে না। ২০১৩ সালের ২১ এপ্রিল চেলসির বিপক্ষে ম্যাচে ব্রানিস্লাভ ইভানোভিচকে কামড়ে দেয়ার অপরাধে তাকে ১০ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করে ইংলিশ ক্লাব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)। নিষেধাজ্ঞা কাটানোর পরপরই গুঞ্জন উঠেছিল শ্রীঘ্রই ক্লাব ছাড়ছেন উরুগুয়ের স্ট্রাইকার। আর্সেনালের বড় অংকের প্রস্তাব ফিরিয়ে শেষটায় থেকে যান লিভারপুল শিবিরেই। ২৫ সেপ্টেম্বর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ফেরার পর মৌসুমের বাকিটা সময় যা করেছেন সেটা এরই মধ্যে চলে গেছে ইতিহাসের পাতায়। কার্লিং কাপে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে শুরুটা করে রাখের স্মরণীয়। সেখান থেকে ১৭ গোল করে যাওয়ার পরই ক্লাব তার সাথে দীর্ঘ মেয়াদী চুক্তি করে ফেলে। আর সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমে তার গোল সংখ্যা ৩০। ১৯৮৬-৮৭ সালে ইয়ান রাশের পরে প্রথম লিভারপুলের খেলোয়াড় হিসেবে সুয়ারেজ এক মৌসুমে লিগে ৩০ গোল করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। গোল করার সাথে সাথে গোল বানিয়ে দেয়াতেও সুয়ারেজ ছিলেন সমান দক্ষ। ১২টি গোল অ্যাসিস্টও করেছেন তিনি। চেলসি ছেড়ে অল রেড দলে নাম লেখানো ড্যানিয়েল স্টারিজের সাথে মিলে দলকে এনে দিয়েছেন ৫০টি গোল। আর এর সুবাদেই দীর্ঘ দু’যুগ পর আবারও ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জয়ের জোরালো সম্ভাবনা দেখছে লিভারপুল। এতো সাফল্যের কারিগর লুইস সুয়ারেজ সেই স্বীকৃতিটাই পেলেন রবিবার রাতে। ইংলিশ প্রফেশনাল ফুটবলার্স এসোসিয়েশন (পিএফএ) এর বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতে নিয়েছেন ‘আলোচিত-বিতর্কিত’ এই তারকা স্ট্রাইকার। সতীর্থ স্টিভেন জেরার্ড এবং ড্যানিয়েল স্টারিজ, চেলসি মিডফিল্ডার ইডেন হ্যাজার্ড, ম্যানচেস্টার সিটির ইয়াইয়া টোরে এবং প্রিমিয়ার লিগে সাউথহ্যাম্পটনের অ্যাডাম লালানাকে পিছনে ফেলে সুয়ারেজ এই পুরস্কার ছিনিয়ে নিয়েছেন। গতবার এই পুরস্কার জিতেছিলেন টটেনহ্যাম হটস্পার ছেড়ে স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেয়া গ্যারেথ বেল। ক্যারিয়ারের অন্যতম অর্জন এই পুরস্কার পাবার পরে সুয়ারেজ বলেছেন, ‘প্রিমিয়ার লিগে অনেক অসাধারণ খেলোয়াড়রা খেলে থাকে। আর তাই তারে বিচারে যখন এই ধরনের একটি সম্মাননা অর্জিত হয়েছে সেটা সত্যিকার অর্থেই বিশেষ কিছু।’ তার সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে লিভারপুল ম্যানেজার ব্রেন্ডন রজার্স বলেছেন, ‘সে একজন দুর্দান্ত খেলোয়াড়। তার প্রতিশ্রুতি এবং দক্ষতা অনেক উঁচু পর্যায়ের। সে তার যোগ্য সম্মানই পেয়েছে। সে বিশ্বমানের এমন একজন খেলোয়াড় যে নিজের খেলাকে সবসময়ই উপভোগ করে। আশা করছি, সে এই ধারা অনেকদিন বজায় রাখতে পারবে। ’ পিএফএ বর্ষসেরা দলে সুয়ারেজ ছাড়াও লিভাপুলের আরো দুজন খেলোয়াড় জায়গা করে নিয়েছেন। তারা হলেন মিডফিল্ডার স্টিভেন জেরার্ড এবং স্ট্রাইকার ড্যানিয়েল স্টারিজ। এছাড়া এই দলে আরো রয়েছেন চেলসি গোলরক্ষক পিটার চেক, ডিফেন্ডার গ্যারি কাহিল, মিডফিল্ডার ইডেন হ্যাজার্ড, ম্যানচেস্টার সিটির ডিফেন্ডার-অধিনায়ক ভিনসেন্ট কোম্পানী, মিডফিল্ডার ইয়াইয়া টোরে, সাউথহ্যাম্পটনের লেফট ব্যাক লিউক শ, মিডফিল্ডার এ্যাডাম লালানা এবং এভারটনের রাইট ব্যাক সিমাস কোলম্যান। ১৯৯০ সালের পর এবারই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোন খেলোয়াড় এই একাদশে সুযোগ পেলেন না। পিএফএ বর্ষসেরা তরুণ খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন চেলসির বেলজিয়ান প্লে-মেকার ইডেন হ্যাজার্ড। মেয়েদের ফুটবলেও উপরের দিকেই ছিল লিভারপুলের নাম। বর্ষসেরা খেলোয়াড় হয়েছেন লিভারপুলের মেয়েদের একাদশের লুসি ব্রোঞ্জ। একই দলের মার্থা হ্যারিস পেয়েছেন বর্ষসেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার।