আবদুল্লাহর অবিশ্বাস্য গোল

বিজেএমসির কাছে হারলো মোহামেডান

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০১৪, ২২:০১
রাত জেগে যারা ইউরোপীয়ান ফুটবল দেখেন, তারা পর দিন বিকালে ঢাকার ফুটবলে চোখ রাখতে চান না। কচ্ছপ গতির ফুটবলে মন টানে না। কিন্তু সব সময় যে স্থানীয় ফুটবলে এমন হয় না তা অনেকের অজানা। দুর্দান্ত ফুটবল হয়। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। দেখার মতো গোল হয়। মনে করিয়ে দেয় টিভির পর্দায় দেখা ইউরোপীয়ান ফুটবলে ব্যতিক্রমী গোলের দৃশ্য। মোহামেডানের বিরুদ্ধে এমনই একটি গোল করেছেন বিজেএমসির মিডফিল্ডার আব্দুল্লাহ পারভেজ। ৫০ গজ দূর থেকে বাঁপায়ের শট ক্রস বারের ভেতরটায় ঘেঁষে মোহামেডানের জালে ঠাঁই নেয়। জাতীয় দলের সাবেক ফরোয়ার্ড পারভেজের এমন অভাবনীয় গোল দেখে মোহামেডান সমর্থকরাও হাত তালি দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন তাকে। বিজেএমসির কাছে ৩-২ গোলে হেরে গেলো মোহামেডান। হারের কষ্ট নিয়েও গ্যালারিতে গোলের আলোচনা। এমন গোল অভূতপূর্ব। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে গোল হওয়ার সাথে সাথে রেফারির শেষ বাঁশিটাও বেজে উঠল। ম্যাচ জয়ের আনন্দে মাতোয়ারা বিজেএমসির খেলোয়াড়রা একজন আরেক জনের গায়ের উপর গিয়ে পড়ছিলেন। তাদের আনন্দের অবগাহন দেখে মোহামেডান কোচ এবং ম্যানেজার চুপিসারে মাঠ ছেড়ে চলে গেলেন। আব্দুল্লাহ পারভেজ মোহামেডানের গোলকিপার মামুন খানের দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছেন। গোলপোষ্টের দায়িত্বে থাকা মামুন খানকে দারুণ একটা ডজ দেন তিনি। পারভেজ তার সতীর্থ ফরোয়ার্ড ইসমাইল বাঙ্গুরার দিকে তাকিয়েছেন। মামুন যেন মনে করে তিনি বলটি বাঙ্গুরাকে দেবেন। ফাঁদে পা দেয়াটা বুঝতে পারেননি মামুন। মোহামেডানের গোলপোষ্ট লক্ষ্য করে আব্দুল্লাহ পারভেজ তার বাঁপায়ে বল বাতাসে ভাসিয়ে দেন। সবার চোখ বলের পেছনে। বলটা যেন ডানা মেলা পাখির মতো উড়ে গিয়ে জালে ঢুকলো। বদলি খেলতে নামা আব্দুল্লা পারভেজ বলছিলেন, ‘আমি এবং গোলকিপার মামুন খান এক সাথে শেখ রাসেলে খেলেছি। ও কী করে আমার জানা আছে। মামুন নিজে লম্বা বলে মনে করে কেউ তাকে উপর দিয়ে গোল করতে পারবে না। আমি যখন দেখলাম মামুন পোষ্ট থেকে বাইরে বেরিয়ে। তখনই তাকে বডি ডজ দিয়েছি। দূর থেকে বুঝিয়েছি আমি অন্যপাশে ইসমাইল বাঙ্গুরাকে বল দেবো। এটা নিশ্চিত হয়েছেন মামুন। তখনই আমি গোলপোষ্টে বল মারি।’ স্টেডিয়াম জুড়ে পারভেজের অবিশ্বাস্য গোল নিয়েই আলোচনা শুরু হলো। তার এমন গোল আরো আছে। ২০০০ সালে পারভেজ ধানমন্ডি ক্লাবে খেলতেন। আবাহনী ধানমন্ডির কাছে হেরে সেবার শিরোপা হারিয়েছে। আব্দুল্লাহ পারভেজ গোল করেছিলেন। ফেনীর সকার ক্লাবের বিরুদ্ধেও তার দারুণ গোল আছে। ব্যতিক্রমী গোল আছে উত্তর বারিধারা ক্লাবের বিরুদ্ধে। এ কারণেই বলছিলেন ক্যারিয়ারের সেরা পাঁচ গোলের মধ্যে কাল মোহামেডানের বিরুদ্ধে করা গোলটিই সেরা। কাল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বিজেএমসির বিরুদ্ধে ম্যাচটি ছিল মোহামেডানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আবাহনী এখন শেখ জামালের চেয়ে তিন পয়েন্ট পেছনে। আবাহনীর কাছাকাছি থাকতে হলে বিজেএমসির বিরুদ্ধে জিততে হবে মোহামেডানকে। এমন লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নেমে মোহামেডান ম্যাচের ১৫ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল হজম করে। বাইবেক পেলে দেয় বাঙ্গুরাকে। পেনাল্টিতে গোল করেন বাঙ্গুরা (১-০)। ৩৬ মিনিটে মোহামেডান পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতা আনে, ড্যামিয়েন গোল করেন (১-১)। ৪৭ মিনিটে মোহামেডান এগিয়ে যায় ওয়াহেদের গোলে (২-১)। ৮১ মিনিটে আবার বিজেএমসির স্যামসন ইলুয়াসু গোল করে সমতা আনেন (২-২)। ৯০ মিনিট শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ে আব্দুল্লা পারভেজ গোল করেন (৩-২)। দুই ডিফেন্ডার বাইবেক এবং হেনরী থাকার পরও সাদাকালো দলের রক্ষণভাগ ছিল এলো মেলো। মোহামেডানের খেলা ছিল ছিন্ন ভিন্ন। এমিলি ইনজুরির কারণে মাঠে ছিলেন না। জাহিদ মাঠে থাকলেও তার খেলা চোখে পড়ে না। মাঝমাঠ বলে কিছু ছিল কিনা তা বুঝা গেলো না। আর বিজেএমসি নিয়মিত অনুশীলনও করে না তাদের নানা ঝামেলার কারণে। তার পরও কাল নাকি তারা শপথ করে এসেছেন মোহামেডানকে হারাবেন। জানালেন বিজেএমসির কোচ আলী আজগর নাসির। কোচ বলেন, বিজেএমসির চেয়ারম্যান সাহেব ম্যাচের আগে আমাদের সাথে কথা বলেছেন সব সমস্যার সমাধান করবেন।’ এদিকে উত্তর বারিধারা ও চট্টগ্রাম আবাহনীর রাতের ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়েছে। শুক্রবারের খেলা শেখ জামাল ও মুক্তিযোদ্ধা, ৫টা ৩০।