কোচের চলে যাওয়া বা না যাওয়া নিয়ে সবসময়ই জাতীয় দলের অধিনায়কের কথা খুব গুরুত্ব বহন করে। মুশফিকুর রহিম নিজেও বোঝেন যে, এ বিষয়ে তার মতটা জানার জন্য ক্রিকেটাঙ্গন মুখিয়ে আছে। কিন্তু মুশকিল হল, গতকাল একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনী কার্যক্রমে হাজির হওয়া মুশফিক অত্যন্ত অসহায়ভাবেই জানিয়ে দিলেন, তাকে এ বিষয়ে কিছু না বলার জন্য পরিষ্কার করে বলে দেয়া হয়েছে বোর্ড থেকে।
ফলে প্রশ্নোত্তর পর্বের পুরোটাই মুশফিকের ‘নো কমেন্ট’ জাতীয় কথায় ভরপুর রইলো। তবে চাইলেই কী আর কথা না বলে থাকা যায়! বলবো না, বলবো না করেও কিছু কথা বেরিয়েই গেল মুশফিকের মুখ থেকে। আর সেসব কথার সারমর্ম একটাই, খারাপ সময়ের ভেতর থেকে যেতে থাকা জাতীয় দলের কোচ এই সময়ে চলে গেলে সেটা আরো খারাপ কিছু হবে। আর মুশফিক চাইছেন, সেই আরো খারাপ ব্যাপারটা যেন না হয়।
ছুটি কাটিয়ে আজই ঢাকায় ফিরছেন বাংলাদেশের ‘পদত্যাগী কোচ’ শেন জার্গুনসেন। বোর্ড কর্মকর্তারাও তার সঙ্গে আলাপের অপেক্ষায় আছেন। মুশফিকও বললেন, তিনিও কোচের সঙ্গে আলাপ করে তবেই বুঝতে চান ব্যাপারটা, ‘আমি বুঝি, আপনারা কিছু শুনতে চাচ্ছেন। আমিও এ বিষয়ে বলতে পারলে ভালোই হত। কিন্তু আসলেই কিছু বলতে পারবো না। বোর্ড থেকে খুবই নিশ্চিত করে এ বিষয়ে কথা না বলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আমার সঙ্গে গতকাল থেকেই অনেকে যোগাযোগ করেছেন, আমার মতামত জানতে। কিন্তু বোর্ড আমাকে কঠোরভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে কথা না বলার জন্য। তবে আমি যতদূর জানি, আজ সে (জার্গুনসেন) আসছে। আমি ওর সঙ্গে কথা বলবো। তারপর হয়তো বুঝতে পারবো।’
মুশফিক স্বীকার করলেন যে, তার কাছে বলার মতো অনেক কথা জমে আছে, যেটা বলতে পারছেন না। তবে এক ফাঁকে বলে ফেললেন যে, তিনি চান জার্গুসেন যেন না যান, ‘আমার তো অবশ্যই অনেক কিছু বলার আছে। তবে ওই যে বললাম, বোর্ডের নির্দেশনা আছে। আমি যেটা করবো, ওর সঙ্গে কথা বলবো, বোঝার চেষ্টা করবো। এখন পর্যন্ত আমি জেনেছি, সে পদত্যাগপত্র দিয়েছে, বোর্ড এখনও গ্রহণ করেনি। আসলে পাপন ভাই ফেরা পর্যন্তও আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। তবে আমি ওর সঙ্গে কথা বলবো। আমি চাইবো, ও যেন ফিরে আসে। সেটা দলের জন্য ভালো হবে।’
জার্গুসেন থাকলে কেন ভালো হবে, সেটাও মোটামুটি বোঝালেন মুশফিক। একে তো মাঠে সময়টা ভালো যাচ্ছে না, তারওপর এই কোচের বিদায়টাও একটা ধারাবাহিকতা নষ্ট করবে। তারপরও আশাবাদী হতে চাইলেন অধিনায়ক, ‘এটা মানতেই হবে যে, আমরা একটা কঠিন সময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি। বলা হয়, খারাপ সময় যখন আসে, সব দিক থেকেই আসে। ফলে সময়টা চ্যালেঞ্জিং। আমরা যারা খেলোয়াড় আছি, তাদেরই নিশ্চিত করতে হবে যে, পরিস্থিতি যা হোক, আমরা যেন গত বছর পর্যন্ত যেরকম ধারাবাহিক খেলেছি, সেটা খেলতে পারি। এরকম সময়ে মানিয়ে নেয়াটা কঠিন, মানছি। তবে বুঝতে হবে যে, জীবনে সবসময় সবকিছু খুব সাবলীল হয় না।’
