[ অ র্থ নী তি ]

বাজেটের সাতকাহন

আপডেট : ১০ মে ২০১৪, ২১:৫৫
আমাদের বাজেটের পদ্ধতি প্রক্রিয়াগত বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বাজেট প্রাক্কলন উপর থেকে নির্ধারণ করে দেয়া হয়। এই পদ্ধতিতে প্রাক্কলন অনুযায়ী নিচ থেকে শুধুমাত্র হিসাব মিলিয়ে দেয়ার বাজেটই তৈরি হয়ে থাকে এবং বাস্তবায়নকালে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, বার বার সংশোধনের আবশ্যকতা দেখা দেয়। সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান দুর্বলতা ও সংকটের অনেকগুলো কারণের মধ্যে এটিও একটি। প্রতিবছর উপর থেকে আগের বছরের বাজেটের সাথে ১৭ বা ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি যোগ করে রাজস্ব আহরণ বাজেট প্রণয়নের নির্দেশন আসে। আর সেই নির্দেশ অনুযায়ী চাহিদা বা যোগান বিবেচনা না করে শুধুমাত্র একটা নির্দিষ্ট অংকের হিসাব মিলিয়ে দেয়ার কাজ করা হয়। কিন্তু যদি নিম্নস্তরের চাহিদার উপর ভিত্তি করে নতুন নতুন খাত বা ক্ষেত্রে কী পরিমাণ আয় হবে সেটার তথ্য উপাত্ত ভিত্তিক প্রাক্কলন তৈরি হলে বাস্তবায়নে বেগ পেতে হয় না কিংবা বছরের মাঝখানে এসে এসআরও জারি করার প্রয়োজন পড়ে না। এছাড়া কোন বিষয়ে নীতিগত বা পদ্ধতি প্রক্রিয়াগত পরিবর্তন বাজেটে অর্থ বিলের মাধ্যমে হঠাত্ করেই আনা হলে সম্ভাব্য আপাতনের শিকার ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এর জন্য প্রস্তুত থাকেন না। কিন্তু কোন বিষয়ে পরিবর্তন বা নতুন করে কোন কর বা শুল্ক আরোপ করতে চাইলে তা যে বাজেট থেকে প্রয়োগ হবে আগেভাগে তার ওপর মতামত বা জনমত যাচাই বা তৈরির কাজ একবছর আগে শুরু করা উচিত। এরফলে বছরব্যাপী এ বিষয়টির সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হতে পারে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত নেয়ার সুযোগ হয়। সর্বোপরি যাদের উপর এটি প্রয়োগ করা হবে তারা মানসিকভাবে প্রস্তুতি নেয়ার সুযোগ পান। ফলে এটি বাস্তবায়ন করা সহজ হয়। এছাড়া বাজেটের খুব ছোট একটি অংশ (অন্তত ১ শতাংশ) পরিসংখ্যান, অটোমেশন, ডাটা বেস, বা গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কাজে ব্যয় করা যেতে পারে। কোন বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে গেলে কর্তৃপক্ষের নিজের কাছে তথ্য ও পরিসংখ্যান থাকার প্রয়োজন হয়। বিভিন্ন শিল্প ও বণিক সমিতি এবং থিঙ্ক ট্যাংক বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানসমূহ তথ্যভান্ডার গড়ে তুলতে পারে। কিন্তু যাদের দাবির প্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত নিতে হয় তাদের দেয়া পরিসংখ্যান বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সুনির্দিষ্ট ও সঠিক হয় না। অনেকে মনে করেন আসন্ন বাজেট ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা হলে তা হবে উচ্চাভিলাষী। প্রকৃত অবস্থা হল নমিনাল টার্মে বাজেট ইনক্রিমেন্টাল না হলে রিয়াল টার্মে তা পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। বাজেট হিসাব করতে মূল্যস্ফীতি ও জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে মাথায় রেখে বিবেচনায় নিয়েই নমিনাল টার্মে বাজেট তৈরি হলে রিয়াল টার্মে তা টেকসই হতে পারে। আসলে নজর দিতে হবে বাজেট বাস্তবায়নের ওপর। দক্ষতা ও স্বচ্ছতার সাথে বাজেট বাস্তবায়ন করাই হলো আসল কথা। একই কথা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ক্ষেত্রেও। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির উপর ভিত্তি করে মূল্যস্ফীতি ও জিডিপি যোগ করে এডিপির আকার নির্ধারণ করাটা বাস্তবসম্মত হতে পারে। আর সরকারের উন্নয়ন ব্যয় মানে সরকারের বিনিয়োগ এবং অর্থনীতির জন্য প্রাপ্তি । বাস্তবায়ন না করতে পারলে সে ব্যর্থতা বৈদেশিক সহায়তাকারী সংস্থার জন্য নয়, নিজেদের। আমাদেরকে সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার প্রতি মনোযোগ দিতে হবে। দক্ষতা বাড়ানোর প্রতি জোর দিতে হবে। সম্পদ ও সেবা সৃষ্টি ব্যতিরেকে উন্নয়ন অনুন্নয়ন বাজেটের অর্থ ব্যয় হলে তা অর্থনীতিতে বিরূপ পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটাতে পারে। এ বছরের রাজস্ব আয় ও ব্যয় উভয় বাজেটে সামষ্টিক অর্থনীতি ব্যবস্থাপনার সতর্ক নজরদারীর ব্যবস্থাসহ দুটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পথনির্দেশ প্রত্যাশিত থেকে যাবে। চ্যালেঞ্জ দুটি হল: (১) বিগত অর্থবছরের শেষাংশ থেকে শুরু করে বর্তমান অর্থবছরের সামপ্রতিক সময় পর্যন্ত বাজেট বাস্তবায়নে যে পিছিয়ে পড়া তা পুষিয়ে নিয়ে পথে ওঠা বা পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসা এবং (২) অতঃপর উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে অগ্রসরমান থাকা অর্থাত্ প্রবৃদ্ধির ধারা এমন পর্যায়ে থাকা উচিত যাতে আরাধ্য সময়ের মধ্যে মধ্য-আয়ের দেশে পরিণত হওয়া যায়। বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল অর্থনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাই বাজেট প্রণয়নে এ সত্যটি মাথায় রাখা আবশ্যক হবে যে অর্থনৈতিক স্বয়ম্ভরতা অর্জন ব্যতিরেকে স্বাধীনতা নির্মল নয়। ইতিমধ্যে একথা বহুল উচ্চারিত হয়ে আছে যে একুশ শতকে অর্থনৈতিক উন্নয়নই হবে তাবত্ রাষ্ট্র ও জাতির শ্রেষ্ঠত্বের ও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার অন্যতম নিয়ামক। আর সে কারণে অন্যান্য অনুষঙ্গের চাইতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রসঙ্গকে এগিয়ে আনা আবশ্যক হবে উন্নয়ন কৌশলের সকল পরিকল্পনাপত্রে। অর্থনৈতিক মুক্তিকে গণতন্ত্রায়নের অন্যতম উপলক্ষ ও উপায় হিসেবে বিবেচনার দাবি সোচ্চার হচ্ছে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে, যেখানে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এখনো নিরলস প্রচেষ্টা ও আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। বিশ্ব সংস্কৃতি ও সভ্যতার উন্মেষ ও বিকাশ ঘটেছিল এশিয়ায়। সামরিক শক্তিমত্তার পাশাপাশি দর্শন ও বিজ্ঞান চর্চার অবদান সেখানে ছিল। পরবর্তীতে ইউরোপে প্রসার ঘটে এশীয় সমৃদ্ধি ও জ্ঞানবিজ্ঞান অধ্যয়ন অনুধাবনের। একে অবলম্বন করেই ইউরোপে শিল্প বিপ্লব সংঘটিত হয় এবং বিশ্ব নেতৃত্ব ইউরোপের হাতে চলে যায়। এরপর ইউরোপীয় শিল্প বিপ্লবের ঢেউ আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে আমেরিকার উপকূলে আছড়িয়ে পড়ে। বিগত শতাব্দীতেই আমেরিকা শিল্প বিপ্লবের সাথে প্রযুক্তির উত্কর্ষতাকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক শক্তিতে উন্নীত হয়। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিই যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক তথা বিশ্ব রাজনৈতিক পরাশক্তির পরিচিতিতে পৌঁছে দেয়। স্নায়ুযুদ্ধের অবসান উত্তর পরিবেশে এখন তার শক্তিশালী অবস্থান মূলত অর্থনৈতিক শক্তিমত্তার স্থায়িত্ব ও স্থিতিশীলতার উপরই নির্ভর করছে। জাপানসহ পূর্ব এশীয় দেশগুলোতে বিগত চার দশকে অর্জিত অর্থনৈতিক সাফল্য ও ইঙ্গিত দিচ্ছে যে একুশ শতকে এশিয়া আবার ফিরে পেতে পারে তার গৌরব। ইনফরমেশন টেকনোলজির উত্কর্ষতাই হবে অর্থনৈতিক সাফল্যের সোপান, যা নিয়ন্ত্রণ করবে বিশ্ব রাজনীতিকে। বাজেট প্রাক্কলন ও লক্ষমাত্রা নির্ধারণকালে এ কথা অবশ্যই বিবেচনায় রাখতে হবে যে, অর্থনৈতিক স্বয়ম্ভরতা জীবনযাত্রার মানকে, মূল্যবোধকে এমন একটি প্রত্যয় প্রদান করে যা অন্যান্য সকল অনুষঙ্গ অনুশাসনে বা সুনীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়। ব্যক্তি বা পরিবারের ক্ষেত্রে যে কথা সে কথা রাষ্ট্র বা দেশের ক্ষেত্রেও। সামপ্রতিককালে বিশ্বে যতগুলো জাতীয় স্বাধীনতা বা মুক্তি সংগ্রাম সংঘটিত হয়েছে সেগুলোর মূল প্রেরণায় ছিল অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা, গোষ্ঠি বা ব্যক্তির স্বেচ্ছাচারিতা তথা স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবের বলয় থেকে রাষ্ট্রীয় সৌভাগ্য ও সুযোগকে সকলের আয়ত্ত্বে বা অধিকারে আনা। অন্ন-বস্ত্র, বাসস্থানের নিশ্চয়তা, শিক্ষা-স্বাস্থ্য সুবিধা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ, উন্নত অবকাঠামো এবং মানবাধিকারসহ সামাজিক নিরাপত্তা বিধানের বিষয়গুলোকে রাষ্ট্রের কাছ থেকে শুধু দাবিই করা হচ্ছে না বরং এসবের ক্ষেত্রে পরিস্থিতির সূচকই এখন সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের প্রতি জনসমর্থন ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের পরিচায়ক। মুক্ত বাজার অর্থনীতির প্রসার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে অধিকতর উদারীকরণের লক্ষ্যে দেশে দেশে অর্থনৈতিক সংস্কারের যে কর্মসূচি গৃহীত হচ্ছে তার অভীষ্টই হচ্ছে রাষ্ট্রীয় তথা বৈশ্বিক সম্পদ ও সুযোগে সকলের অবারিত অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা। স্বচ্ছতা ও সুশাসনের তাগিদ এসব সংস্কার ব্যবস্থাপত্রে প্রকৃতপক্ষে আমজনতার ক্ষমতায়নের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে নিবেদিত। বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত এ সংস্কার ক্রমান্বয়ে আন্তঃরাষ্ট্র সম্পর্কের অন্যান্য রীতি পদ্ধতির (যেমন- ইমিগ্রেশন, ইনটেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইট ইত্যাদি) ওপর প্রভাব ফেলবে—এ কথা বলাই বাহুল্য। পূর্ব এশীয় দেশগুলোতে কিছুকাল আগে থেকে পরিলক্ষিত অর্থনৈতিক বিপর্যয় এসব দেশের নেতৃত্বকে এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশকে যেভাবে স্পর্শ করেছে তাতে এটা স্পষ্টতর হচ্ছে যে অর্থনৈতিক উন্নয়নই হবে গণতন্ত্রের প্রাণশক্তি। সমাজে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ ভাবনা ব্যক্তিবন্দনা, চর্চা, স্ব্বার্থ ও শর্তের বেড়াজালে আটকিয়ে গেলে তা বুমেরাং হয়ে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। অর্থনীতিতে সরবরাহ চাহিদায় বন্টন বৈষম্য যেমন সুষম সম্পদ সৃষ্টির পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, যেভাবে সমন্বিত উত্পাদন অভীপ্সায় বিভ্রান্তি বিসংবাদ উপস্থিত করে। ওভারটেক করার প্রবণতা যেমন যাত্রাপথে বিশৃঙ্খলা উপহার দেয়, তেমনি পরমতসহিষ্ণুতার অভাব সুশীল ও সুষম আচরণকে নির্বাসনে পাঠাতে পারে। গণতন্ত্রের জন্য যা কোন অবস্থাতেই পুষ্টিকর পরিস্থিতি নয়। দশটি কাজের সাতটি ভাল তিনটি মন্দ হতে পারে। ভালকে ভাল বলে স্বীকৃতি, মন্দকে মন্দ বলে তিরস্কারের নীতিগত অবস্থানে যে কোন আপোষ আত্মঘাতের নামান্তর। মন্দকে লুকিয়ে শুধু ভালর বন্দনা এবং ভালকে ছাপিয়ে একতরফাভাবে মন্দকে সামনে আনা সুস্থতার লক্ষণ নয় কোন পরিবেশেই। তিরস্কার পুরস্কারে পক্ষপাতিত্ব কিংবা অন্ধত্ব অবলম্বন অর্থনৈতিক উন্নয়নেও যেমন, সমাজ সুসংগঠনের বেলাতেও সমান দুঃসংবাদবাহী। জাতীয় অর্থনীতির সার্বিক বিকাশ লক্ষ্যে সঞ্চয় ও বিনিয়োগের একটি অবিসংবাদিত ভূমিকা রয়েছে উত্পাদনে। মোট অর্থে সঞ্চয় ও বিনিয়োগ শিল্প উন্নয়নে প্রয়োজন বলে ধারণা করেই শিল্প নীতিতে সঞ্চয় ও বিনিয়োগের বিষয়টি বার বার আসে। কিন্তু যে দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি কৃষি, যে দেশের জনগণের মৌলিক অধিকার সামাজিক খাতসমূহের সার্বিক উন্নয়নের ওপর নির্ভরশীল সে দেশে সার্বিক সঞ্চয় এবং সকল উত্পাদনশীল খাতে তার বাঞ্ছিত বিনিয়োগ ভাবনা ও পরিকল্পনা জাতীয় অর্থনীতির উন্নয়ন দর্শনের প্রধান বিবেচ্য বিষয়। কর্মসূচি কিংবা কৌশলপত্র প্রণয়ন করে দারিদ্র্য বিমোচন পর্যন্ত বলে থেমে গেলে দারিদ্র্য দূরীভূত হবে না। দারিদ্র্যকে চিরতরে ও কার্যকরভাবে তাড়াতে হলে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে তৃণমূল পর্যায়ে। অভ্যাস রাতারাতি কিংবা ফরমান জারি করে গড়ে ওঠে না। সঞ্চয়ের জন্য প্রেরণা, পরিবেশ ও প্রকরণ চাই। সঞ্চয় হলে বিনিয়োগ হবে—উন্নয়ন হবে—শিল্প-কারখানায় শুধু নয়, সর্বত্র। পুঁজিবাদী দৃষ্টিভঙ্গিতে মুক্তবাজার অর্থনীতির নামে ভর্তুকি ও অন্য সুবিধার সমন্বয় ঘটিয়ে শিল্প বিকাশের উদ্যোগ নেয়া হয় কিন্তু যে জনগোষ্ঠীর কল্যাণের নামে করা হয় তাদের সঠিক উন্নয়ন প্রয়াস এ চিন্তা-চেতনা থেকে রয়ে যায় এবং ঘটে যায় অনেক দূরে। যেমন- শিক্ষা একটি অন্যতম বিনিয়োগ জাতির জন্য। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড এটা শুধু কথার কথাতে সীমাবদ্ধ না রেখে একে যথার্থ উপলব্ধির আওতায় এনে তার যথাযথ বাস্তবায়নের উদ্যোগ থাকা চাই। শিক্ষা খাতের সিংহভাগ বরাদ্দ বিফলে ব্যর্থতায় জবাবদিহিতার অবর্তমানে প্রকারান্তরে বুমেরাং হয়ে দেখা দিতে পারে। ঔপনিবেশিক আমলেও যখন শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ছিল অপ্রতুল, বৈষম্যের অভিযোগ ছিল স্বদেশী-বিদেশি সমপ্রদায়গত তখনো পড়াশুনা ‘ছাত্রনং অধ্যয়নং তপঃ’ ছিল ব্রত। আর এখন শিক্ষা ব্যবসা ও সরকারি ভর্তুকিতে আকীর্ণ। গণশিক্ষা জনশিক্ষায় রূপান্তরিত হতে পারছে না। আত্মত্যাগের মাধ্যমে শিক্ষাদান গুরুশিষ্যের মধ্যকার সম্পর্ক গড়ে ওঠা জরুরি। শিক্ষা ক্রমশ বাণিজ্যিক পণ্য হওয়াতে সেই শিক্ষা থেকে বেরিয়ে আসা শিক্ষিতজন শিল্পের জন্য উপযু্ক্ত দক্ষ কর্মঠ ও এ্যাসেট কর্মী হতে পারছে না। স্বল্প ভ্যালুএডিশন সৃষ্টিকারী গার্মেন্টস শিল্পে শ্রমিক ব্যবহার বাড়ানোর মধ্যে প্রশান্তির কিছু নেই বরং শ্রমশক্তির অপচয় প্রতীয়মান হয় সেখানে। অতি প্রয়োজনীয় শিক্ষা খাত থেকে উদ্যমী, উদ্যোগী, কর্মঠ ও দক্ষ জনশক্তি বেরিয়ে আসলে উন্নয়নের সকল পর্যায়ে যথার্থ বিনিয়োগে সফলতা আসবে। শিক্ষা খাতে অপরিকল্পিত বিনিয়োগ যাতে অনুত্পাদনশীল হয়ে না পড়ে চিন্তানায়ক ও পরিকল্পনা প্রণেতাদের সেদিকে দৃষ্টিদানের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। লেখক: সরকারের সাবেক সচিব এবং এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন