বিয়ের আসরে ‘কনে বিদায়’

আপডেট : ১১ মে ২০১৪, ২১:৪১
বিয়ের আসরে বর-কনের মালাবদল চলছে। কিছুক্ষণ পরেই সাঙ্গ হবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। বর-কনে হয়ে যাবে স্বামী-স্ত্রী। কিন্তু মালাবদল শেষ হবার আগেই কোত্থেকে যমদূতের মতো হাজির হলো কনের এক কাজিন। মালাবদলের মঞ্চের দিকে এগিয়ে গিয়ে কাছে থাকা রিভলবার বের করে মেয়েটির গলায় ঠেকিয়ে ছুড়ল গুলি। সবার চোখের সামনে লুটিয়ে পড়লেন কনে। হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিত্সকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্য বিদায় নেয়ার পরিবর্তে কনে নেন চিরবিদায়। ঘটনাটি ভারতের ভোপালের। মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ড নাড়া দিয়েছে গোটা ভারতকে। ঘটনার শিকার কনের নাম জয়শ্রী নামদেও। ২৯ বছর বয়সী এই তরুণীর হত্যাকারী তারই কাজিন। গত বৃহস্পতিবার চিকিত্সক রোহিত নামদেওর সঙ্গে বিয়ে হচ্ছিল জয়শ্রীর। সন্ধ্যা থেকে আত্মীয়-স্বজনদের ভিড় উপচে পড়েছিল অনুষ্ঠান বাড়িতে। বিয়ের আচার-অনুষ্ঠান চলার সময় বাড়ির লনের উপর তৈরি বিবাহমঞ্চে ঢোকার চেষ্টা করে ঘাতক। কিন্তু নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দেয়ায় সে নিজেকে ফটোগ্রাফার পরিচয় দিয়ে বলে, এই বিয়েতে তার ছবি তোলার দায়িত্ব। একটু দেরি হয়ে গেছে আসতে। ভেতরে যাবার অনুমতি পেয়ে সে এক গুলিতে মেয়েটিকে পাঠিয়ে দেয় না ফেরার দেশে। হতভম্ব বরের সামনেই লুটিয়ে পড়েন নববধূ। এরপর নিজেকে লক্ষ্য করেও গুলি ছোড়ে অনুরাগ নামের ওই ঘাতক। তবে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে অন্য এক অতিথির গা ঘেঁষে চলে যায়। মরিয়া হয়ে এবার বিয়েবাড়ি ছেড়ে পালাতে গেলে তাকে ধরে ফেলেন অন্য অতিথিরা। তাদের হাতে গণপিটুনি খায় সে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। থানায় নেয়ার পর পুলিশের জেরায় অনুরাগ জানায়, দীর্ঘদিন জয়শ্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ প্রেমের সম্পর্ক ছিল তার। কিন্তু তারপর রোহিতকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়ায় জয়শ্রীকে ‘শাস্তি’ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সে। পরিবারের অন্য সদস্যরা জানিয়েছেন, এই সম্পর্কের কথা কেউ কখনো শোনেননি। শুক্রবার সকালে লালঘাটি এলাকার ওই বিয়েবাড়িতে গিয়ে সাংবাদিকরা দেখতে পান তখনও ফুলের মালায় ঢাকা বিবাহ মঞ্চটি দাঁড়িয়ে রয়েছে। শুধু বর-কনের বসার জন্য রাখা কুর্সির পিছনের পর্দাটি জয়শ্রীর রক্তে লাল হয়ে আছে।