বিজেপি’র জয় :ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক

আপডেট : ০৪ জুন ২০১৪, ২১:৪২
সময়ই বলে দেবে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কের গতিপথ পৃথিবীর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের ১৬তম লোকসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় ও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে কট্টর হিন্দুত্ববাদে বিশ্বাসী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ভারতের এই সাম্প্রতিক নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশের জনগণের চায়ের কাপে তর্ক-বিতর্কের ঝড় চলছেই। সবার মুখে একই প্রশ্ন “অদূর ভবিষ্যতে কেমন হবে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক কিন্তু অতীতের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, বিজেপির সাথে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারাধীন আওয়ামী লীগের সম্পর্ক তেমন উষ্ণ নয়। আবার বিএনপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক জিয়ার অভিনন্দন নরেন্দ্র মোদী সাদরে গ্রহণ করেছে। তাই কেউ কেউ আবার বলছে- ঢাকা- দিল্লি সম্পর্ক আর আগের মত থাকবে না। যেহেতু রাজনীতিতে চিরস্থায়ী শত্রু বা মিত্র বলে কিছু নেই তাই ঢাকা- দিল্লি সম্পর্ক পর্যালোচনা করার সময় এখনও আসেনি। তাই বলা যায় সময়ই বলে দিবে ঢাকা- দিল্লি সম্পর্কের গতিপথ। মো. মোস্তাফিজুর রহমান ১ম বর্ষ, ২য় সেমিস্টার, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট। ০০০০০০০০০০০ ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক আঞ্চলিকতা ও ইতিহাসের ভিত্তিতে অটুট থাকবে প্রতিবেশীর সাথে ভালো সম্পর্ক ছাড়া যেমন কেউ চলতে পারে না। তেমনি পার্শ্ববর্তী দেশের সাথে ভালো সম্পর্ক ছাড়া কোন দেশ চলতে পারে না। তাই পার্শ্ববর্তী দেশ হিসেবে ঢাকা ছাড়া দিল্লি চলতে পারবে না। কারণ দুই দেশ অনেক কারণে একে অপরের উপর নির্ভরশীল। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণে দুই দেশের সম্পর্ক ভালো থাকবে। আর ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সব সময় ঘনিষ্ঠ ছিল। দেশ ভাগের পর থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে সকল আন্দোলন সংগ্রাম ও দুর্যোগ মুহূর্তে দুই দেশ বন্ধুত্বপূর্ণ ভাব বজায় রেখেছে। যেই সরকার গঠন করুক না কেন এ সম্পর্ক অটুট থাকবে। মোহাম্মদ ইয়াকুব আল মাহমুদ অর্থনীতি (প্রথম বর্ষ), নোয়াখালী কলেজ। ০০০০০০০০০০ মোদী ধর্মের ভিত্তিতে ভারতবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন বিজেপির বিজয় এটাই প্রতীয়মান হয় যে এই উপমহাদেশে ধর্মই একমাত্র প্রধান ইস্যু। এখানে পাশ্চাত্যের চাপিয়ে দেয়া ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রের কোনো স্থান নেই। কারণ লক্ষ লক্ষ বছর ধরে হিন্দু রাজারা ধর্মের ভিত্তিতে অর্থাত্ শাস্ত্রীয় আইন দিয়ে ভারত শাসন করেছেন; আবার যখন ইসলাম আসলো তখনও মুসলিম শাসকেরা ধর্মের বিধান দিয়ে ভারত শাসন করেছেন। ব্রিটিশদের চাপিয়ে দেয়া ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্র এই উপমহাদেশের মানুষের চিন্তা-চেতনা, সমাজ-কাঠামো এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে খাপ খাওয়াতে পারে না । ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ হচ্ছে হিন্দু । তাই হিন্দু ধর্মের ভিত্তিতে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিজেপিকে নিরঙ্কুশভাবে জয়ী করে ক্ষমতায় বসিয়েছে । মোহাম্মদ ইয়ামিন খান শিক্ষার্থী, মাস্টার্স, ইংরেজী বিভাগ, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ, ফরিদপুর ০০০০০০০০০০০ ঢাকা- দিল্লি সম্পর্ক কেমন হবে তা সময়েই বলে দেবে পাক-ভারত সম্পর্কের ব্যাপারে মোদীর যেমন মাথাব্যথা দেখা গেছে তাতে ঢাকা-দিল্লী সম্পর্ক অবশ্যই ঘনিষ্ঠ হবে এতটুকু আশা আমরা করতেই পারি। গণতান্ত্রিক মনোভাবাপন্ন মোদী তার স্বদেশ ও অন্যতম প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের স্বার্থে অভ্যন্তরীণ ও বাণিজ্যিক সম্পর্কসহ তিস্তা চুক্তি, ছিটমহল সমস্যা ও সীমান্ত হত্যার মত জঘন্য অপরাধগুলোর সমাধান বিচক্ষণ বুদ্ধিমত্তার দ্বারা করবেন। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের সুষ্ঠু গণতন্ত্র চর্চা ও অসীম ধৈর্য, প্রজ্ঞা এবং নির্ভুল সিদ্ধান্ত নেয়াই হবে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থের জন্য কাজ করা। মো. মাসুদুর রহমান ১ম বর্ষ, অর্থনীতি বিভাগ, সরকারি বিএল কলেজ, খুলনা। ০০০০০০০০০০ ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক আরও ভাল হতে পারে ভারতের সাথে বাংলাদেশ একটি ঐতিহাসিক সংবেদনশীল সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ। প্রত্যেক দেশেরই একটি পররাষ্ট্রনীতি থাকে। বিজেপির জয় হয়েছে কিন্তু মূলনীতি ছাড়া ভারতের পররাষ্ট্রনীতির তেমন পরিবর্তন নাও হতে পারে। ভারতের নতুন সরকার যদি বাংলাদেশের একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিরোধিতা না করে বিশ্বজনমতের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে, তাহলে লীগ সরকারকে আগাম নির্বাচনের কথা ভাবতে হবে। ভারতের পূর্ব অঞ্চলের রাজ্যগুলোর সুশাসন ও বিদ্রোহী সংগঠন দমনের জন্য বাংলাদেশের সাহায্যের প্রয়োজন রয়েছে। মোদী সরকার নিজের স্বার্থেই ঢাকার সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলবে। আম্বিয়া খাতুন বিএড (অনার্স) ১ম বর্ষ, সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ঢাকা।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন