কৃষি বিপ্লবের মাধ্যমে দরিদ্রতাকে জয় করেছেন গাইবান্ধার আমির

আপডেট : ১৮ জুন ২০১৪, ২১:২৭
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার পুটিমারি গ্রামের কৃষক আমির হোসেন অক্লান্ত পরিশ্রম ও মেধা খাটিয়ে ফসল উত্পাদনে সাফল্য এনে কৃষিতে বিপ্লব ঘটিয়েছেন। এই বিপ্লবের মাধ্যমে তিনি পাঁচ শতক জমি থেকে সাড়ে আট বিঘা জমির মালিক হয়েছেন। আগে থাকতেন খড়ের ঘরে। এখন থাকেন পাকা ঘরে। এখন তিনি তিনটি গাভী, ১৪টি ছাগল, শতাধিক হাঁস-মুরগির মালিক। সব মিলিয়ে তিনি এখন অর্ধ কোটি টাকার সম্পদের মালিক। এছাড়া একই জমিতে এক সাথে দুই ফসল উত্পাদন করায় পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। এর মধ্যে বাংলাদেশ একাডেমী অব এগ্রিকালচার তাকে ক্রেষ্ট ও কৃষি অধিদপ্তর থেকে ছয় বার সনদপত্র দেয়া হয়েছে। সাঘাটা উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, ১৯৯৬ সালে কৃষক আমির হোসেন (৪৫) পৈত্রিক সূত্রে তিন শতক বসতভিটা ও পাঁচ শতক আবাদি জমি পান। এই জমিতে ধান চাষের পাশাপাশি স্থানীয় হাটে-বাজারে কাঁচা তরিতরকারি কেনাবেচা করতেন। তা দিয়ে সংসার চলতো না। পরের বছরের মাঝামাঝি স্থানীয় একটি বেসরকারি সংগঠন থেকে ১০০টি পেঁপের চারা নিয়ে পাঁচ শতক জমিতে লাগান। সাথী ফসল হিসেবে লাগান আদা। প্রথমবারের আয় ও অবশিষ্ট টাকা সংগ্রহ করে ২৩ শতক জমি কিনেন। এই জমিতেও পেঁপে ও আদা চাষ করে এক লক্ষ ৪৪ হাজার টাকা আয় করেন। ওই টাকা দিয়ে ৪৯ শতক জমি কিনে সেখানেও পেঁপে ও আদা চাষ করেন। এভাবেই কৃষক আমির বর্তমানে সাড়ে আট বিঘা জমির মালিক হন। এই জমির মধ্যে তার ৪৯ শতক জমিতে পেঁপে ও হলুদ, ৬৩ শতকে কুমড়া ও শশা, ৫৪ শতকে ধান, ১০ শতকে ধনচে, ২০ শতকে কচু ও টমেটো, ১৬ শতকে পটল ও আদা, ৩২ শতকে কাঁচা মরিচ ও আদা, ৮ শতকে নেপিয়ার ঘাস, ১৪ শতকে আখ ও ১০ শতকে লেবু চাষ করেছেন। এছাড়া ৫৪ শতক বসতভিটায় বিভিন্ন জাতের ফল ও ঔষধি গাছ রয়েছে।