টেলিফোনে পাঠকের মতামত

কেন এই জলাবদ্ধতা

আপডেট : ২৬ জুন ২০১৪, ২০:৪১
বর্ষার সময় বৃষ্টি দরকার অবশ্যই কিন্তু অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা মেনে নেয়া যায় না। বিশ্বে কোথাও নেই এই জলাবদ্ধতা। আর এই জলাবদ্ধতার প্রধান কারণই হচ্ছে নগরের খাল ও নালা নর্দমাগুলো দখল। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ঐ সমস্ত খাল, নর্দমা দখল। সুতরাং ঐ সমস্তকে রোধ করতে পারলেই জলাবদ্ধতা থেকে নগরবাসী রেহাই পাবে। বজলুল করিম রিসোর্স ইন্ট্রিগ্রেশন সেন্টার (রিক) ধানমন্ডি ঢাকা ঢাকা শহরে ও অন্যান্য শহরে জলাবদ্ধতায় নগরবাসী অনেক দুর্ভোগ ও দুর্যোগপূর্ণভাবে সময় অতিবাহিত করে। তাই এর প্রতিকারের জন্য প্রয়োজন সময়মত পরিদর্শন করা, রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি যখন এটা বন্ধ করা, বরাদ্দকৃত অর্থ সঠিকভাবে বন্টন করা, যেখানে সেখানে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি সমন্ব্বয়ের সাথে উন্নয়নমূলক কাজ করতে হবে। শাহ আলম খান বাঁশখালী, চট্টগ্রাম আসলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত চট্টগ্রাম শহরের প্রকৃতিকে বিনষ্ট করে চলেছে একশ্রেণির লোভী মানুষ। তারা দখল করে নির্বিচারে পাহাড় কাটছে; নালা-খাল-বিল-ডোবা সবকিছু দখল করে অবৈধভাবে বিশাল বিশাল অট্টালিকা বানাচ্ছে। চট্টগ্রামের মেয়র সাহেব কথায় যতখানি পটু, কর্মে ঠিক ততখানি অপটু। ফলে নগরীর সুয়ারেজ এবং ড্রেনেজ সিস্টেম ভেঙে পড়েছে। বন্দর নগরীর এই হাল দেশের জন্য মারাত্মকভাবে ক্ষতির সঞ্চার করছে। একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় অনেক আগেই জলাবদ্ধতা দূর করা এবং বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্য ভূতলে এবং গ্রীন রুফটফে ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। দেরী হলেও এখন জরুরিভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়। সরকার ইতোমধ্যে একটি প্রকল্প নিয়েছে। কিন্তু এই প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা দরকার। নচেত্ এই ধরনের জলাবদ্ধতা হলে সারাদেশের সাথে চট্টগ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতির প্রভূত ক্ষতি হবে। আর চট্টগ্রামবাসীদের সতর্ক হতে হবে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে। সুন্দর চট্টগ্রাম নগরী গড়ে উঠুক এই বিশ্বাস থাকলো। ফাহমিন আফরোজ বাসা-২৭, সড়ক-৪, ধানমন্ডি, ঢাকা ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের প্রায় সকল শহরে জলাবদ্ধতা প্রকট রূপ ধারণ করে বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে। তন্মধ্যে চট্টগ্রাম ও সিলেটে পাহাড় ও ভূমি ধসের ঘটনাও ঘটে থাকে এই মৌসুমে। রাস্তাঘাট এমনকি সদর ও আন্তঃনগর রাস্তা পর্যন্ত বর্ষার সামান্য বৃষ্টিতে হাঁটু পরিমাণ পানিতে ডুবে যায়। এর জন্য বিশেষজ্ঞগণ নদীর নাব্যতা হ্রাস, খাল-বিল, পুকুর-জলাশয়, নদী-নালা অপরিকল্পিতভাবে ভরাট করে অতিবৃষ্টি, বন্যাসহ ইত্যাদি প্রাকৃতিক কারণে প্লাবিত পানি ধারণের ক্ষেত্র না থাকাকে দায়ী করে থাকেন। অপরদিকে শহরাঞ্চলে পরিকল্পিত ড্রেনেজ সিস্টেম না থাকা এবং বিদ্যমান ড্রেনেজ সিস্টেমে নগরবাসীর অসতর্কতার কারণে পচনহীন বর্জ্য পদার্থ ফেলে জ্যাম হয়ে যাওয়ার কারণেও জলাবদ্ধতা নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার উপর আছে অপরিকল্পিত উপ-শহর এবং যত্রতত্র হাউজিং প্রকল্প সৃষ্টি করা। নদীমাতৃক বাংলাদেশ হওয়া সত্ত্বেও জলাবদ্ধতা আজ অভিশাপ হিসেবে জগদ্দল পাথরের মত আমাদের আবাসিক স্থলগুলো ও নগরজীবনে চেপে বসেছে। তাছাড়া বুড়িগঙ্গা ও কর্ণফুলি নদী পর্যন্ত ভূমিদস্যুরা পরিকল্পিতভাবে নাব্যতা অস্বাভাবিক হারে হ্রাস করে দখল করে বাণিজ্যিক ও আবাসিক স্থল তৈরি করে প্রকৃত নদীর অস্তিত্ব বিলুপ্ত করার পাঁয়তারায় লিপ্ত আছে। মাঝে মাঝে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তর এই সকল নদীগুলো অবৈধ দখলমুক্ত করার জন্য উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন সত্য তবে স্বল্পকাল পরিক্রমায় এগুলো পুনরায় অবৈধ দখলদারদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়। কাজেই অবৈধ রাজনৈতিক আশীর্বাদের সকল হাত গুটিয়ে নেয়া; পরিকল্পিত ড্রেনেজ সিস্টেম গড়ে তোলা; বিদ্যমান খাল-বিল, পুকুর-জলাশয়, নদী-নালা ভরাটকারী ও অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে এগুলোকে চিরতরে মুক্ত রাখা; জলাশয় আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং শুষ্ক মৌসুমে সকল বিদ্যমান নৌপথগুলো পর্যাপ্ত ড্রেজিং-এর আওতায় নিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরী। ভুঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী সাধারণ সম্পাদক, ঢাকাস্থ বেগমগঞ্জ পেশাজীবী সমিতি ৫-বিসিসি রোড, নবাবপুর, ওয়ারী, ঢাকা-১২০৩ অপরিকল্পিত নগরায়ন ও সীমাহীন দুর্নীতির কারণে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সারাদেশের শহর ও উপ-শহরের জলাবদ্ধতা, দেশের উন্নয়নের ৭০ ভাগ অর্থ যায় দুর্নীতিবাজদের পেটে, তাই পরিকল্পিত রাস্তাঘাট ও নর্দমা সঠিকভাবে নির্মাণ হচ্ছে না। ভূমি দস্যুদের কারণে খাল-বিল, নদী-নালা ভরাট করে আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন তৈরি হচ্ছে। বৃষ্টির পানিও আমাদের নিত্য ব্যবহারিক পানি নিষ্কাশনের অভাবে বাড়ি-ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ রাস্তা-ঘাট পানিতে নিমজ্জিত ময়লা ও নোংরা পানিতে তলিয়ে আছে রাস্তা ও বাড়ি-ঘর। সাধারণ মানুষের মরণ দশা। বঙ্গভবন, গণভবন, হাওয়া ভবন, রংমহল বা মতিমহলে থেকে জনগণের সমস্যা সমাধান করা যাবে না। সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার প্রকৌশলীসহ মেয়র ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দুর্নীতির সাথে জড়িত। হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন নগরবাসীর কাজে আসে না, জলাবদ্ধতার কারণে সাধারণ মানুষ কর্মস্থলে ও শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় যাওয়া বন্ধ থাকে, দেশের হাজার কোটি টাকার ক্ষতির কারণ জলাবদ্ধতা। অচিরে জলাবদ্ধতা নিরসন করা প্রয়োজন। দখলকৃত নদী-নালা, খাল উদ্ধার করা ও ভরাট নদী-নালা, খাল খনন করা জরুরি। নজরুল ইসলাম খান খান ভিলা, ৫৪, নতুন জুরাইন, ঢাকা-১২০৪ ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের প্রায় শহরে জলাবদ্ধতা প্রকট, বিশেষ করে রাস্তাঘাটে যানজটের সাথে পাল্লা দিয়ে “জলাবদ্ধতা” গোদের উপর বিষ ফোঁড়া হিসেবে দেখা দিয়েছে। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতাজনিত দুর্ভোগ, জনভোগান্তিতে রূপ নেয়ায়, চলাচলে এক বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু এ অসহনীয় পরিস্থিতি একদিনে সৃষ্টি হয়নি। অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট নির্মাণ, আবাসন ব্যবস্থা এবং নাগরিক সুবিধের প্রতি খেয়াল না রেখে, যে যার খুশিমতো বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণে পয়ঃ নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না রেখে, মনুষ্যসৃষ্ট ভোগান্তি অলক্ষ্যে কপালে লেপ্টে দিয়েছে। আমাদের দেশের মাথামোটা পরিকল্পনা প্রণয়নকারীরা খেয়াল করেননি, নদী বিধৌত বাংলাদেশের নদীগুলো উত্তর-দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত, তার বিপরীতে রাস্তাঘাটগুলো পূর্ব-পশ্চিমে প্রবাহমান হওয়ায় জলাবদ্ধতা আপনা-আপনিই গেড়ে বসেছে। দেশের রাজধানী থেকে শুরু করে বিভাগ ও জেলা শহরগুলোতে বসবাসের ম্যারাথন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে, অথচ পরিকল্পনামাফিক কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে যত্রতত্র বাড়ি-ঘর নির্মাণ করে, পানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করে ফেলেছে। প্রকৃতিপ্রাপ্ত জলাধার, খাল-বিলগুলো ইতোমধ্যে ভরাট করে বাড়ি-ঘর অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করায় বৃষ্টির পানি গড়িয়ে রাস্তা এবং অলিগলিতে এসে দাঁড়াচ্ছে, বিধায় জলাবদ্ধতায় দেশবাসী নাকাল অবস্থায় উপনীত হয়েছে। আর এ কারণেই বৃষ্টি হলেও জলাবদ্ধতা সৃষ্ট দুর্ভোগ থেকে আমরা রেহাই পাচ্ছিনা। এর প্রতিকারে প্রথম ও প্রধান কাজ হবে উন্নত ড্রেনেজ তথা পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা না রেখে, বাড়ি-ঘর বা কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। যোগাযোগ ব্যবস্থায় রেলওয়েকে আধুনিকায়ন করে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাঘাট ভেঙ্গে ফেলতে হবে। শহরগুলোর যত্সামান্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা যা আছে, তা ময়লা-আবর্জনামুক্ত রাখার সার্বক্ষণিক ব্যবস্থা রাখতে হবে। অপচনশীল দ্রব্যাদি বিশেষ করে, পলিথিন জাতীয় কৃত্রিম কাগজ ব্যবহারে অনুত্সাহিত করতে এবং তার বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে। বর্ষা মৌসুমে রাস্তাঘাট খোঁড়াখুঁড়ি করা থেকে বিরত রাখতে হবে। শহরগুলোর আশ-পাশে জলাধার তৈরি করতে হবে। অবৈধভাবে দখল হয়ে যাওয়া জলাশয়, খাল-বিল, নদীর পাড় উদ্ধার করে সেগুলোতে বৃষ্টির পানি গড়িয়ে যেতে পারে তার শতভাগ কার্যকর ব্যবস্থা সরকারকে হাতে নিতে হবে। মুরাদ হোসেন মধুখালী, ঝিকরগাছা, যশোর ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের প্রায় শহরে জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা জন্য প্রধানত সিটি মেয়রই অনেকটা দায়ী। তারা শুধু আওয়ামী লীগ সরকারের আলোচনা ও সমালোচনা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। অথচ নিজেরা যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখনও এর সমাধান করেননি। বর্তমান মেয়রের মেয়াদ ১ বছর আছে। আমরা আশাকরি তিনি এর সমাধান করে ফেলবেন। শুধু চট্টগ্রাম নয় ঢাকা সিটিরও এই সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন। মো. মেজবাউদ্দিন সেলিম, ভোলা ড্রাগ হাউজ পাকার মাসা ইব্রাহিমপুর, ঢাকা রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামে টানা বর্ষণে দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। কোথাও কোথাও শহরে পানি উঠেছে। সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য প্রয়োজন ড্রেনেজের ব্যবস্থা, নদী খনন। নতুবা এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। সোহাগ, ভাগলপুর লেন, নবাবগঞ্জ, ঢাকা দফায় দফায় বৃষ্টির ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানি নেমে যেতে না পারায় সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদী জলাবদ্ধতা। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে নদী খনন না করা। এ দিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে আগামী মাসেই বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। কাজেই সরকারি উদ্যোগ নেয়া দরকার অতিদ্রুত। নিতে হবে আইন বাধ্যতামূলক কাঠামো। মাসুম আহমেদ, সম্পাদক শিকড় সন্ধানে, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা প্রধান কারণ ময়লা আবর্জনা ফেলা, পলিথিন, নদী খনন না করা, ড্রেনেজে ব্যবস্থা না থাকা, অপরিকল্পিত নগরায়ন ইত্যাদির কারণে অল্প ও ভারি বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। সুতরাং এর প্রতিকারের কারণ হচ্ছে উক্ত বিষয়গুলোর প্রতি সমাধান করা। নতুবা আগামীতে আরো দুর্ভোগ দেখা দেবে। মারুফ, বাসাবো, ঢাকা অধিক বৃষ্টি হলেই দেশের প্রায় শহরেই জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করে। এই জলাবদ্ধতা দূর করতে হলে প্রয়োজন ব্যাপক কর্মসূচি। ইফতেখার হোসাইন, মিরপুর-১, ঢাকা জলাবদ্ধতা আমাদের দেশে দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা। দিনে দিনে এটি বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃষ্টি হলেই পানি জমে থাকে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে ময়লা, আবর্জনা যেখানে সেখানে স্তূপ করে ফেলে রাখা, পরিকল্পনা ব্যতীত যে কোন কর্মসূচি নেয়া। জলাবদ্ধতা প্রতিকারের জন্য দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা নিতে হবে। প্রয়োজনে বেসরকারিভাবে এটার উদ্যোগ নিতে হবে। মো. খায়রুল বাশার কুতুবখারী, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা জলাবদ্ধতা এদেশের জন্য একটি বিরাট সমস্যা। দীঘদিন যাবত্ এ সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। তাই পরিকল্পিতভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তা-না হলে এই জলাবদ্ধতার আকার পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পাবে। যা আগামী প্রজন্মের জন্য হুমকি স্বরূপ। হামিদ সরকার কাওরান বাজার, ঢাকা ঢাকা, চট্টগ্রামের মতো দেশের অনেক শহরেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে মানুষের নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঘর থেকে বের হলেই চলাচল করা যায় না, গাড়িতে যানজট, জলজট ইত্যাদি কারণে আজ সাধারণ মানুষের কষ্ট বেড়েছে। তাই এর সমাধান দরকার। প্রয়োজন রাষ্ট্রীয়ভাবে কার্যক্রম শুরু করা। মোঃ ওয়াহীদ উল্লাহ, ফেনী সড়ক, ফেনী যেখানে যেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলা, দীর্ঘদিন নদী খনন না করা, ড্রেনেজের ব্যবস্থা না থাকা ইত্যাদি কারণে আজ জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। মানুষের কষ্টের শেষ নেই। প্রতিকারের জন্য প্রয়োজন সরকারি ও বেসরকারিভাবে দ্রুত কার্যক্রমের ব্যবস্থা গ্রহণ করা। শাহীন, ডিও এইচএস, মহাখালী, ঢাকা বৃষ্টি হলেই পানি জমে থেকে শুরু হয় জলাবদ্ধতা। আর এই জলাবদ্ধতার কয়েকটি কারণও রয়েছে। সেগুলোকে দূর করতে হবে। প্রতিকারের জন্য পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করা। নতুবা কোন দিনই এই সমস্যা সমাধান হবে না। সাঈদ, মনিপুরী মিরপুর, ঢাকা বাংলাদেশের জলাবদ্ধতা শুধু ঢাকা, চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক নয়, বাংলাদেশের সব শহরেই জলাবদ্ধতা প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থান, শহরের মধ্যে নদী, খাল দখল করে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে মাটি ভরাট করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা বন্ধ রাখার কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়াও রয়েছে সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার নিয়ন্ত্রণহীন ড্রেনেজ ব্যবস্থা। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, যে সকল জায়গায় ড্রেন কিংবা খাল ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে গেছে। আবর্জনা সরিয়ে না ফেলার কারণে পানি নিষ্কাশন বন্ধ থাকায় জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। জলাবদ্ধতায় আটকে যাচ্ছে যানবাহন, ডুবে যাচ্ছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ঘর-বাড়ি, সেই সাথে পানিবন্দী হয়ে পড়ছে মানুষ। জলাবদ্ধতা থেকে প্রতিকার পেতে হলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পরিকল্পনামাফিক পানি নিষ্কাশনের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে। যাতে করে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি না হয়। জনস্বার্থে সরকারকে জলাবদ্ধতা দূর করার সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যাতে করে জনগণ দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পায়। শাহ মো. হেলালউদ্দিন হিরা কালিহাতী, টাঙ্গাইল ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের প্রায় শহরেই অবৈধ উপায়ে গৃহায়নের জন্য পানি নিষ্কাশনের জন্য নালা, ড্রেনেজ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাই জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করছে। উপরন্তু নদী, নালা, খাল-বিল ভরাট করে নদীর নাব্যতায় বাধা সৃষ্টি করছে। আমাদের দেশে যেহেতু বালু-পলিমানিতে নদী ভরাট হয়ে যায়। তাই ঘন ঘন নদী ডেজিং করারও প্রয়োজন আছে। কিন্তু শুধু সরকারের প্রচেষ্টায় এই ডেজিং এর সফলতা আসবে না। বহুবার স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে করা হয়েছে কিন্তু ঘুষ ও কারচুপির কারণে তা ফলপ্রসূ হচ্ছে না। সরকার ড্রেজিং খাতে প্রচুর টাকা খরচ করছে কিন্তু খরচের টাকা যথাস্থানে হচ্ছে কি না তা দেখার কেউ নেই। একমাত্র আইনের শাসন কঠোর হলে সকল কাজে সফলতা আসবে। আশা এলিজাবেদ গুমেজ লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা-১১০০ জলাবদ্ধতা একটি মারাত্মক সমস্যা। আমাদের দেশে জলাবদ্ধতা হলে মন্ত্রী, এমপি, টেলিভিশন ও পত্রিকার সাংবাদিকেরা শুধু শহরকে দেখেন। কিন্তু গ্রামের ও উপকূলীয় অঞ্চলে পানিবন্দী লোকগুলোকে তারা দেখেন না। তাহলে আমার প্রশ্ন-গ্রাম কি দেশের বাইরে। জলাবদ্ধতা নিরসনে উন্নতমানের ড্রেনেজ এবং খালের উপরে দোকানগুলোকে উচ্ছেদ করলে জলাবদ্ধতা আর থাকবে বলে মনে হয় না। মো. ইলিয়াস আলম সুমন হারামিয়া, সন্দ্বীপ ইদানীং জলাবদ্ধতা শুধু বড় বড় শহরগুলোতেই নয়, দেশের বিভিন্ন ছোট ছোট শহরগুলোতেও তা পরিলক্ষিত হচ্ছে। একটু বৃষ্টি হলেই শহরে হাঁটু পরিমাণ পানি লক্ষ্য করা যায়। এর কারণ হলো ঠিকভাবে ড্রেনেজ নেই। তা ছাড়া যে ড্রেনেজগুলো আছে তা পরিষ্কার না করায় পানি যেতে পারে না বিধায় সমস্যা বেড়ে যায়। জসিম উদ্দিন আখড়াবাজার, কিশোরগঞ্জ ঢাকা শহর থেকে শুরু করে বড় বড় শহরগুলোতে জলাবদ্ধতা এখন প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। যার ফলে একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে থাকায় মানুষ দুর্ভোগে পড়ে। চলাচলে ভীষণ অসুবিধার জন্য অফিস-আদালত থেকে শুরু করে স্কুলপড়ুয়া বাচ্চাদের কষ্টের সীমা থাকে না। তাই জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য দ্রুত গতিতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা করতে হবে। হাসিম উদ্দিন ভালুকা বাজার, ভালুকা, ময়মনসিংহ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে। স্থান বিশেষে সেই জলাবদ্ধতা কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েকদিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছে। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে জনদুর্ভোগের। এই জলাবদ্ধতার জন্য অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং অপ্রতুল ড্রেনেজ ব্যবস্থাই দায়ী। তাই ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে উন্নত না করতে পারলে জলাবদ্ধতা নিরসন করা যাবে না। আলমগীর হোসেন শান্তিনগর, ঢাকা বর্ষাকালে জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হচ্ছে ঠিক সময়ে নালা-নর্দমাগুলো পরিষ্কার না করা। সিটি কর্পোরেশনের নিকট এই দায়িত্ব অর্পিত থাকলেও তারা আবর্জনা পরিষ্কার করে তত্ক্ষণাত্ ময়লাগুলো অপসারণ করে না। ফলে বৃষ্টির পানিতে আবর্জনা ড্রেনে চলে যায়। তাদের উচিত ময়লাগুলো ড্রামে ভর্তি করে নিয়ে যাওয়া। এছাড়া বাংলাদেশের ভূমি জরিপ ও রেকর্ড অধিদপ্তর কর্তৃক খাল, বিল, নদী-নালার সীমানা চিহ্নিত করা হয়েছে; এজন্য জেলা প্রশাসন, ভূমি রেকর্ড জরিপ অধিদপ্তর, এসি ল্যান্ড এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে নদী-নালা, খাল,বিলগুলো খনন করতে হবে এবং অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। তাহলেই পানি নিষ্কাশিত হলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে না। সেলিনা রাহাত আরা, রোড-১২৬, বাসা-৫, গুলশান-১ বৃষ্টি হলেই ঢাকা, চট্টগ্রামেসহ দেশের অনেক শহরেই জলাবদ্ধতা প্রকট হয়ে উঠে। আর এই জলাবদ্ধতা থেকে প্রতিকারের জন্য কয়েকটি বিষয়ের উপর নজর দেয়া একান্ত জরুরী। ড্রেজিং-এর ব্যবস্থা, পরিকল্পনা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ, নদী খনন করা, বৃষ্টির পানিতে আবর্জনামুক্ত রাখা। প্রত্যেক সপ্তাহে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব ডিসিসি’র। এছাড়া বাজেটের ব্যয় করা দরকার স্বচ্ছতার সাথে। মো. মোজাহারুল ইসলাম চেয়ারম্যান, ইডাফ, সাভার জলাবদ্ধতা থেকে প্রতিকারের জন্য একমাত্র উপায় হচ্ছে সময়মতো ড্রেজিং করা। নদী-নালা, খাল-বিলগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, অবৈধ নদী-দখলমুক্ত রাখতে হবে। এছাড়া নগরীর মহল্লায় মহল্লায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা তৈরী করা। শাহজাহান মিয়া বাসাবো, ঢাকা দেশের বিভিন্ন স্থান বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। রাজধানীর শান্তিনগর, গুলশান, মালিবাগ, মৌচাক, মতিঝিলের কিছু অংশ, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, কাফরুলসহ বিভিন্ন এলাকার রাস্তায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এতে করে রাস্তায় প্রচন্ড যানজটের সৃষ্টি হয়। দেখা যায় অনেককেই গাড়ী থেকে নেমে গন্তব্যে যেতে হয় যাত্রীদের। এ দৃশ্য অনেক দিনের। কাজেই এ থেকে রক্ষা পেতে হলে এখনই কার্যকরী পদক্ষেপ কর্মসূচী দরকার। হাবিবুর রহমান উত্তরা, ঢাকা নানা কারণে আজ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। নদী খনন নেই দীর্ঘ দিন, পরিকল্পনা অনুযায়ী কোন কাজ নেই। আবর্জনা ময়লা যেখানে সেখানে ফেলাসহ নানাবিধ কারণে আজ এই দুর্ভোগ। এর জন্য প্রয়োজন অতি শীঘ্রই জলাবদ্ধতা দূরীকরণের সঠিক কর্মসূচি গ্রহণ করা। পারভীন আক্তার হাজারীবাগ পার্ক, হাজারীবাগ, ঢাকা জলজটের সময় মানুষের কষ্টের চেয়েও বেশি কষ্ট লাগে যখন দেখি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা রাস্তার পার্শ্বে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে। তাদের প্রিয় স্কুলের যেতে পারে না। এসব ঘটনা প্রতিদিন দেখেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কানে পানি ঢোকে না। আমরা চাই বৃহত্ দুটো নগরীতে ওয়ার্ড ভিত্তিক দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর দিয়ে দিলে ড্রেনগুলো পরিষ্কারের ব্যবস্থা করা হলে বোধ করি বৃষ্টির পানি আর আটকিয়ে থাকবে না। সংশ্লিষ্ট পাড়া মহল্লার সচেতন যুবসমাজ যদি স্বেচ্ছায় কিছু মহত্ কাজ করার মতো উদ্যোগ গ্রহণ করে তাহলেও ড্রেনগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকবে। সমাজের কাউকে না কাউকে এই ড্রেনগুলোর পরিষ্কার করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সরকারের উপর সব দায়িত্ব চাপিয়ে বসে থাকবে কখনোই এই জলজোটের সমস্যা সমাধান হবে না। পলিথিন এবং প্লাষ্টিক বোতল যত্র-তত্র না ফেলে সুনির্দিষ্ট স্থানে ফেলার জন্য নগরের দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার লাগানো যেতে পারে। ওয়াহিদ মুরাদ, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা বর্ষা মৌসুমে এদেশে অনেকটা কষ্টের বটে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম পানিতে ডুবে যায় সহসা। তাই এ বিষয়ে করণীয় হচ্ছে ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা, জলজোটের সমস্যার সমাধান করা, যেখানে-সেখানে ময়লা বা প্লাষ্টিকের জিনিস না ফেলা। মো. খায়রুল ইসলাম (ফুল) আরাপপুর, ঝিনাইদহ নৌপথের নাব্যতা জলাবদ্ধতা নিরসনে বর্তমান সরকার বিশেষ কর্ম-পরিকল্পনা করায় এখন আর শহরে কিংবা গ্রামে জলাবদ্ধতা কমে এসেছে। তার পরেও কিছু অসাধু কর্মকর্তা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করলেও যেন দেখার কেউ নেই। নৌপথে চলাচলের উপযোগী রাখতে এবং নৌপথে নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে সরকার বড় ধরনের কর্ম-পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠান, আভ্যন্তরীণ-নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউ এ পরিকল্পনা প্রনয়ন ও বাস্তবায়ন করবে। এ পরিকল্পনার আওতায় ২৪টি নদীর ৬০০০ কি:মি: নৌপথের চলাচলের উপযোগী করা হবে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। তাছাড়া প্রতিবছর আড়াই হাজার কি:মি: আভ্যন্তরীণ নৌপথে এবং ১২০০ বর্গ কি:মি: নৌপথের হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ ও গ্লোবাল পজিশন নির্ণয়ের কাজ করা হবে। আর প্রতি বছর ড্রেজিং কাজ চলবে ৭৫ লাখ ঘন মি:। ৪৫টি ড্রেজ স্টেমাচের মাধ্যমে নৌপথের পানি সমতলের উচ্চতার পরিমাণ স্টেমাচের জোয়ার -বাটার পঞ্জিকা প্রকাশ করা হবে। ২২টি নদী বন্দরে যাতে নৌ-চলাচলের কোন অসুবিধা না হয় সে জন্য র্যানডম ড্রেজিং কাজ চলবে। নদী বন্দরগুলো হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী, বাঘাবাড়ি, নরসিংদী, নগরবাড়ি কাচিরহাট, খুলনা, বাগবাড়ি, পটুয়াখালী, কাজিরহাট, দৌলতদিয়া, টঙ্গী, মীরকাদিম, মাওয়া, আশুগঞ্জ ভৈরব, নোয়াপাড়া, বরগুনা, লক্ষ্মীপুরসহ অন্যান্য, এসব বন্দরগুলো যদি ঠিকমত উন্নয়ন কাজ হয় তাহলে ফিরে পাবে তার নাব্যতা, আর থাকবে না জলাবদ্ধতা। ফারুক আহমেদ বাগমারা, রাজশাহী বর্ষা এলেই জলাবদ্ধতা এ যেন একে অন্যের সাথে জড়িত। এদেশে বর্ষাকাল মানেই জলজোটসহ নানা দুর্ভোগের সময়। এ থেকে ঢাকা, চট্টগ্রামের দেশের প্রায় শহরে জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। তাই এই জলাবদ্ধতা প্রতিকারের একমাত্র উপায় হচ্ছে সঠিকভাবে কর্মসূচি প্রণয়ন করা। বরাদ্দকৃত অর্থ সঠিকভাবে বন্টন করা, নদী খনন কর্মসূচিসহ ড্রেজিং এর ব্যবস্থা করা। তা-না হলে কোনভাবেই জলাবদ্ধতা রোধ করা যাবে না। পারভীন সুলতানা বিউটি ঝিনাইদহ টানা বর্ষণে শুধু ঢাকা নয় চট্টগ্রামকেও নাজুক করে তুলেছে। সব মিলে সেখানে নগরবাসী দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞগণ জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হিসাবে রাজধানীর অপরিকল্পিত ও অপর্যাপ্ত ড্রেনেজকে দায়ী করেছেন। যদি তাই হয় এখনই এ বিষয়ে মনোযোগী হওয়া দরকার দেশের সব ডিসিসি’র। পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে রাজধানীবাসীর দুর্ভোগ দুর্দশা আরো বাড়বে। রবিউল ইসলাম রবি সভাপতি, বাংলাদেশ মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা, এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা বর্ষার শুরুতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে রাজধানীতে। বিশেষ করে রাজধানীর নিচু এলাকাগুলো সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে গেছে অনেকস্থান। বর্ষার আভাস জেনে ওয়াসা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পানি নিষ্কাশন পাম্প স্থাপন করেনি। এটা বড় কঠিন বিষয়। একটু একটু বৃষ্টিতে রাজধানীর অনেক স্থান জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে। দুর্ভোগে পড়েছে নগরবাসী। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, অপরিকল্পিত উপায়ে নগরায়ণের ফলে এই সমস্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সুতরাং বিষয়গুলোকে এখনই গুরুত্ব দেয়া দরকার। লাডলা পিলখানা, ঢাকা বর্ষা মানেই বৃষ্টি, এটাই স্বাভাবিক। তবে বৃষ্টির পানি যদি দ্রুত সরে না যায় তাহলে দেখা দেয় নানা সমস্যা। বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মত বড় শহরে এই সমস্যা প্রায়ই বড় হয়ে দাঁড়ায়। টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম শহরের প্রায় সব জায়গাতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। কোথাও কোথাও হাঁটু পানি, কোথাও কোমর পানিতে চলাচল করতে হয় নগরবাসীকে। ঘরবাড়িহীন একশ্রেণির মানুষ একটু মাথা গোঁজার জন্য পাহাড়ে আশ্রয় নেয়। অথচ সেখানেও পাহাড় ধসের আশংকা থাকে। ২০১২ সালের একটি পাহাড় ধসে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সুতরাং বিষয়গুলো খুবই মর্মান্তিক। তাই বর্ষার পূর্বেই বিষয়গুলো সমাধানে বাস্তবে পদক্ষেপ নেয়া দরকার। ফারুক আলম, মালিবাগ, ঢাকা প্রবলবর্ষণের ফলে নগরীর অনেক মানুষকে বাসা থেকে বের হয়ে মূল রাস্তায় উঠতে ভোগান্তির শিকার হতে হয়। বৃষ্টির কারণে ঢাকার অনেক অলিগলির রাস্তায় পানি জমে যায়। জনসাধারণ হয় ভোগান্তির শিকার। এ থেকে রেহাই থাকে না নগরবাসীর। নগরবাসীর এই স্বস্তির জন্য প্রয়োজন বর্ষা মৌসুম পূর্বেই ডিসিসি’র কার্যক্রম। হোসনে আরা করিম নীলা এনায়েতগঞ্জ লেন, পিলখানা, ঢাকা গত কয়েক দিন ধরে দফায় দফায় তুমুল বৃষ্টির ফলে রাজধানীর স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গামী ছাত্রছাত্রী, চাকরিজীবী থেকে শুরু করে সব শ্রেণির মানুষকেই ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। এতে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে নানাভাবে ভোগান্তি হয়েছে। বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ে নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি অনেকে। জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পাচ্ছে না দেশের বিভিন্ন স্থানের মানুষ। আমরা চাই এই জলাবদ্ধতার কার্যক্রম দূরীকরণে এখনই বাস্তসম্মত কর্মসূচি। নতুবা আগামীতে আরো দুর্ভোগ পোহাতে হবে দেশবাসীকে। আইরিন সুলতানা (সনজু) মাইজপাড়া, ধুপপুর, চট্টগ্রাম প্রবল বর্ষণে এবার খুলনায় রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। মাত্র আড়াই ঘণ্টায় ১৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। প্রবল বর্ষণে নগরীর বেশিরভাগ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। ঢাকায় বিভিন্ন স্থানে এরকম জলমগ্ন দৃশ্য দেখা গেছে। সুতরাং এই জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য এখনই কার্যকর ভূমিকা নেয়া দরকার। হাসান মো. হোসাইন চীেধুরী কবিরহাট, নোয়াখালী দফায় দফায় আষাঢ়ি বর্ষণের শিকার সারাদেশ। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, ঢাকা ও খুলনার অনেক স্থান জলমগ্ন হড়ে পড়ে। সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতার। ফলে নগরবাসীকে ভোগান্তিতে কাটাতে হয়। অন্যদিকে মৌসুমী লঘুচাপের প্রভাবে টানা বর্ষণে পানিবন্দী হয়ে পড়ে ঢাকাসহ চট্টগ্রাম। এ থেকে রেহাই পেতে হলে প্রতিটি জেলার ডিসিসিকে বর্ষার পূর্বেই উপযুক্ত কার্যক্রম ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে আমরা মনে করি। নীলুফা আক্তার টোলারবাগ, মিরপুর, ঢাকা বর্ষা আসার পূর্বেই রাজধানীর সব ধরনের খনন করে পানি চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও রাজধানীর নিম্নাঞ্চলে বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। সুতরাং বিষয়গুলোকে গুরুত্বপূর্ণভাবে নজর দিতে হবে। মনির হোসেন মনির বুক এন্ড সংবাদপত্র বিক্রয় কেন্দ্র, মিরপুর, ঢাকা নগরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও অপরিকল্পিত; ফলে এই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। ঢাকার দুই ডিসিসি এখনো অভিভাবকহীন। ওয়াসাকে বিভিন্নস্থানে ভালোভাবে পানি নিষ্কাশনের পাম্প স্থাপন করতে হবে। জানা গেছে, নগরীর প্রায় আড়াই হাজার নর্দমার বেশিরভাগই দীর্ঘকাল ধরে পরিষ্কার হয় না। এ কারণেও ওয়াসার নিষ্কাশন নালা-নর্দমাও ভরাট হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক স্থানে পলিথিনসহ অন্য বর্জ্য জমছে। ডিসিসিকে নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। মো. হানিফ মিয়া মনেশ্বর লেন, হাজারীবাগ, ঢাকা বৃষ্টি হলেই জলজট-যানজটে নাকাল নগরবাসী হয়ে পড়ে। সম্প্রতি ভারী বর্ষণে নগরীর বেশিরভাগ সড়ক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন না ঘটলে বৃষ্টিপাত নগরকে বহুগুণ দুর্ভোগ বাড়াবে। বৃষ্টিতে রাজধানীর মালিবাগ, মৌচাক, শান্তিনগর, মগবাজার, শ্যামপুর, ডেমরা, পোস্তাগোলা, ফরিদাবাদসহ বিভিন্ন নিম্ন এলাকাগুলোতে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। জলাবদ্ধতা আরো দেখা দেয় রামপুরা, বাসাবো, মতিঝিল, হাজারীবাগ, মিরপুর, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, বারিধারা, বাড্ডাসহ বিভিন্ন স্থানে। সুতরাং এ থেকে মুক্ত হতে হলে এখনই প্রয়োজন কার্যক্রম পদক্ষেপ। শিশির আজিমপুর, ঢাকা খাল-বিল-নদী-নালা গ্রাস করে নেয়ায় টেনে ধরতে না পারলে অনেক বাজেট ব্যয় করেও লাভ হবে না বহু কর্মসূচি গ্রহণ করে। সুতরাং জলাবদ্ধতার জন্য এখনই কর্মসূচি নেয়া অপরিহার্য। হারুণ মালিবাগ, ঢাকা

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন