পাকিস্তানে সামরিক অভিযানের কারণে বাস্তুুচ্যুত হয়ে পড়া প্রায় পাঁচ লাখ লোককে তীব্র খাদ্য সংকট আর বৈরী আবহাওয়া মোকাবিলা করে আশ্রয় শিবিরেই রমজান পালন করতে হচ্ছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে তারা সরকারের বিরুদ্ধেও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।
করাচির ব্যস্ততম বিমানবন্দরে রক্তাক্ত জঙ্গি হামলার প্রেক্ষাপটে দেশটির সামরিক বাহিনী মধ্য জুন থেকে উত্তর ওয়াজিরিস্তানে অভিযান শুরু করে। ফলে ঐ এলাকার লোকজনকে তাদের বাড়িঘরের আরামদায়ক পরিবেশ ছেড়ে তাঁবুতে আশ্রয় নিতে হয়েছে। এদিকে আবহাওয়া উত্তপ্ত। তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। খাদ্য সরবরাহে অপ্রতুলতার কারণে যখন-তখন সংঘর্ষ শুরু হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতেই পবিত্র রমজান শুরু করেছে এসব আশ্রয়হীন লোক। বান্নু শহরের যে কেন্দ্র থেকে খাদ্য বিতরণ করা হচ্ছে, সেখানে নিয়াজ ওয়ালি খান নামের (৫৫) এক ব্যক্তি জানান, তিনি চারদিন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও কোন খাবার পাননি। তিনি বলেন, আমরা সামরিক বাহিনীর ভূমিকায় হতাশ। কারণ তারাই আমাদের দুর্দশার জন্য দায়ী। তারা রমজান শুরুর আগে এ ধরনের অভিযান শুরু করেছে। অথচ এসব জঙ্গি বছরের পর বছর এ এলাকায় রয়েছে। তবে দুর্ভোগ সত্ত্বেও নিয়াজ ওয়ালি খান রোজা রাখার অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, ঘরবাড়ি ছেড়ে আমরা কঠিন অবস্থায় আছি। তবু রোজা রাখবো এ আশায় আল্লাহ আমাদের সমস্যার সমাধান করবেন। হতাশার সুরও শুনিয়েছেন অনেকে। ঘরবাড়ি হারানো জালাত খান বলেন, আশ্রয়হীন হয়ে আমার পক্ষে তারাবি নামাজ আদায় করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
