আন্তর্জাতিক

ইসরাইলের শেষ কথা কী

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০১৪, ২১:৩২
ফিলিস্তিনদের নানা দুর্বলতার সুযোগে তাদের মধ্যে ভয়াবহ অনৈক্য সৃষ্টি করে বৈশ্বিক সাম্রাজ্যবাদী শক্তিসমূহ তাদেরকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ভূখণ্ডগত দিক থেকে নির্যাতিত নিষ্পেষিত করে আসছে। আন্তর্জাতিক ইহুদি চক্র আরবদের মধ্যে শিয়া-সুন্নী, আরব-অনারব, আরব-তুর্কী এবং আরব-পারসী ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের বিভাজনী উপাদান ছড়িয়ে দিয়ে তাদেরকে আজ খণ্ড-বিখণ্ড করেছে। ফলে ফিলিস্তিনসহ মুসলিম বিশ্বের উপর জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসেছে শোষণ বঞ্চনা আর জুলুম নির্যাতনের স্টিম রুলার। এমনই একটি ভয়াবহ সংকটের নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রটিকে খণ্ড-বিখণ্ড করে সেখানে ইহুদি ধর্মীয় রাষ্ট্র ইসরাইলের গোড়াপত্তন করা। সেই অত্যাচার নির্যাতনের করুণ চিত্র ব্যাখ্যা করে কিভাবে ফিলিস্তিনদের ইস্পাত-কঠিন ঐক্য তৈরি করে তাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের গৌরবোজ্জ্বল অতীত ফিরিয়ে আনা যায়, তার সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের সময় এখন। সে লক্ষ্যে ইসরাইয়েলের শেষ কথা কী তা বোধগম্য হওয়া জরুরি। এ নিবন্ধের মূল প্রতিবাদ্য হলো ইসরাইল ফিলিস্তিন সংঘাতের স্বরূপ অন্বেষণ করা এবং কিভাবে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার করা যায়, তার কৌশল নির্ধারণ করা। ইসরাইলের আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা, মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং জীবাণুযুক্ত অস্ত্র ব্যবহার সম্পর্কে আমাদের ধারণা স্পষ্ট হতে হবে। তাহলে ইসরাইলের সদূরপ্রসারী কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে জানা যাবে। ফিলিস্তিন সমস্যার নেপথ্যে সবচেয়ে বড় যে ঐতিহাসিক কারণ কাজ করেছে তা হলো ফিলিস্তিনিদের সুদৃঢ় ঐক্যের ফাটল। ১৯১৪ সালের প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্ব পর্যন্ত বিশ্বময় প্রবল দাপট নিয়ে বজায় ছিল উসমানীয় খিলাফত (Ottoman Empire), যার ব্যাপ্তি ছিল এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিশাল ভূভাগ জুড়ে। ঐ বিশাল ভৌগোলিক এলাকায় ইসলাম ও মুসলিমের বিজয়ী পতাকা নামিয়ে ফেলতে সেই সাম্রাজ্যকে ভেঙ্গে ফেলতে বহুমুখী ষড়যন্ত্র পাকাতে থাকে ইহুদি খ্রীষ্টীয় বৈশ্বিক শক্তিসমূহ। উনবিংশ শতাব্দীর শেষদিকে আরবদের উপর তুর্কী শাসকদের নির্যাতনমূলক নীতির কারণে ইহুদি-খ্রীষ্টানরা তাদের চক্রান্ত বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর হতে থাকে। তুর্কী-শাসকদের অত্যাচার থেকে বাঁচার জন্য উচ্চাভিলাষী আরবরা স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর হয়। তাদের সেই মনোভাব বুঝতে পেরে আফ্রো-এশীয় আরব এলাকায় কর্মরত ব্রিটিশ কূটনীতিকরা নানাবিধ কৌশল গ্রহণ করেন। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মক্কার শেরিফ হোসেন ও কায়রোয় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাই কমিশনার স্যার হেনরী ম্যাকমোহনের মধ্যকার গোপন চুক্তি। এই চুক্তির ফলে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশরা আরবদের সহযোগিতা লাভের প্রতিশ্রুতি পায় এবং বিনিময়ে আরবদেরকে যুদ্ধশেষে স্বাধীন আরব রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার দেয়া হয়। দুর্ভাগ্যবশত প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর সম্পাদিত ভার্সাই চুক্তিতে (Versailles Treaty) মুসলমানদেরকে দেয়া সেই ওয়াদা পূরণ না করে বরং তাঁদেরকে লীগ অব নেশনস (League of Nations) এর ম্যান্ডেট ব্যবস্থায় অবমাননাকর অবস্থায় নিক্ষেপ করা হয়। বিশাল মুসলিম সাম্রাজ্য ভেঙ্গে খান খান হয়ে যায়। একই সময় ব্রিটিশদের সাথে বিশ্বের ইহুদিদের সম্পাদিত গোপন চুক্তির ফলে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ইহুদিদের সাহায্য সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি লাভ করে ব্রিটিশরা এবং এর বিনিময়ে ইহুদিরা যুদ্ধ শেষে আরব এলাকায় ইহুদিদের জন্য স্বাধীন ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি লাভ করে ব্রিটিশদের কাছ থেকে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাচলে যে গোপন চুক্তি হয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সেই গোপনচুক্তির বাস্তবায়ন হয়। ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত করা হয় ফিলিস্তিনের ভূমিতে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইলকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অব্যবহিত পর ফিলিস্তিনের ভূমিতে বলপূর্বক ইসরাইল রাষ্ট্রটি গড়ে তোলার পর আরব জাহানসহ সমগ্র বিশ্বে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠলেও যুক্তরাষ্ট্র, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যসহ পাশ্চাত্য বৃহত্ রাষ্ট্রসমূহের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ইহুদি মৌলবাদী এ রাষ্ট্রটিকে শক্তিশালী করে দাঁড় করানো হয়। তত্কালীন সোভিয়েত পররাষ্ট্রমন্ত্রী গ্রোমিকো ঘোষণা করেছিলেন যে, ‘এটা অন্যায় হবে যদি আমরা ইহুদিদের রাষ্ট্র গঠনের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপদানের ন্যায্য দাবিকে অস্বীকার করি’ (It would be unjust if we deny the Jews the right to realize their aspirations to a state of their own)। আরব এলাকায় একটি ক্ষুদ্র রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হওয়া সত্ত্বেও অতিদ্রুত সেটি অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের পথে অগ্রসর হয়। পাশাপাশি অবৈধ সে রাষ্ট্রটি ফিলিস্তিনি জনগণের উপর তিলে তিলে জুলুম নির্যাতনের স্টিম রোলার চালাতে থাকে। ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৭২-৭৩ সাল পর্যন্ত ইসরাইল সমস্যাকে কেন্দ্র করে আরবদের সাথে ইসরাইলের বেশ কয়েকটা যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। ঐ সব যুদ্ধে পাশ্চাত্য শক্তিসমূহ সরাসরি ইসরাইলকে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে সহযোগিতা করে ইসরাইলের পাশবিকতার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। জাতিসংঘ, আরব লীগসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ ইসরাইলের অত্যাচারমূলক কার্যাবলীর নিন্দা করলেও ইসরাইলের বর্বরতা এতটুকুও হ্রাস পায়নি, বরং দিনে দিনে তা ভয়ংকর রূপ নিয়ে বর্তমান সময়ে ফিলিস্তিনিদেরকে সমূলে ধ্বংস করে (Ethnic cleansing) ফিলিস্তিনের অবশিষ্ট ভূমিতে ইসরাইলি রাষ্ট্রের সমপ্রসারণের পথ তৈরি করছে। এখন আমরা আলোচনা করবো ইসরাইল কী চায় এবং সে লক্ষ্যে তাদের দীর্ঘ মেয়াদী কৌশলসমূহ কী কী। ফিলিস্তিনকে দিন দিন দুর্বল করে, তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করতে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইল মানবতা, সভ্যতা, ন্যায়-নীতি সবকিছুকে বিসর্জন দিয়ে নানাবিধ কৌশল অবলম্বন করে। প্রথমেই তারা ফিলিস্তিনিদের ঐক্য ও সংহতি বিনষ্ট করতে ফিলিস্তিনি জাতিকে দ্বিধা-বিভক্ত করার চেষ্টা করে এবং তারা তাতে সফল হয়। আমরা অবাক-বিস্ময়ে মজলুম ফিলিস্তিনিদেরকে হামাস ও ফাতাহ এ দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত হতে দেখেছি। ফাতাহ অনেকটা পাশ্চাত্য ধাঁচের, বেশভূষায় আচরণে এবং নীতি-কৌশলে। কিন্তু হামাস প্রথম থেকেই প্রতিবাদী, পাশ্চাত্য-বিরোধী ও জাতীয়তাবাদী। দেশমাতৃকার স্বাধীনতা, মুক্তি, সার্বভৌমত্বের জন্য হামাস সশস্ত্র সংগ্রামে রত, আর ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার জন্য ফাতাহ পাশ্চাত্য-তোষণনীতিতে অভ্যস্ত। ইসরাইলের এ জাতিবিভাজন কৌশল দীর্ঘ বছর ধরে সফলভাবে কার্যকর হলেও হঠাত্ করে গত ২৩ এপ্রিল প্রতিদ্বন্দ্বী এ দুটি গ্রুপের মধ্যে নজিরবিহীন মৈত্রী চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে ইসরাইলের সেই কৌশল ব্যর্থ হতে শুরু করে। এর অব্যবহিত পর হামাস ও ফাতাহ মিলে একতার সরকার (Government of unity) গঠন করে। অনেক বিশ্লেষকের ধারণা, এ ঘটনার পর ইসরাইল ক্ষিপ্ত হয় এবং ফিলিস্তিনের ধ্বংসের জন্য অজুহাত তৈরি করতে থাকে এবং পরবর্তীতে তিন কিশোরের নিখোঁজ ও নিহত হওয়ার পর ইসরাইলের ফিলিস্তিনি নির্যাতনের প্রেক্ষিত রচিত হয়। জাতিগত বিভাজনের পাশাপাশি ইসরাইল ফিলিস্তিনসহ অন্যান্য আরব নেতৃবৃন্দের নৈতিক স্খলনের ফাঁদ তৈরি করে। সম্ভাব্য ও প্রতিশ্রুতিশীল আরব প্রতিভা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে ধ্বংস করতে ইসরাইল এ ফাঁদ সুকৌশলে ব্যবহার করে। ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সুন্দরী ললনারা এ কাজে প্রথম থেকেই সক্রিয়, যাদের মধ্যে ইসরাইলি গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিক নারী নেত্রীরাও রয়েছেন। ইসরাইলের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিপি লিভনী (Tzipi Livni) ব্রিটিশ পত্রিকা ‘দ্য টাইমস’-এর সাক্ষাত্কারে উল্লেখ করেছেন যে তিনি মোসাদের চর হিসেবে কাজ করার সময় কতিপয় আরব নেতৃবৃন্দের সাথে যৌনকর্মে লিপ্ত হয়েছিলেন। এ রকম পাপাচারে লিপ্ত হয়েও তিনি গর্ববোধ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও ইসরাইলের স্বার্থে পুনরায় এমন গর্হিত কার্যসম্পন্ন করতে তিনি তৈরি আছেন। বিভিন্ন সময়ে আরব নেতৃবৃন্দের সাথে বন্ধুত্ব ও শারীরিকভাবে অন্তরঙ্গতা স্থাপন করে তারা আরব নেতৃবৃন্দকে নৈতিকভাবে ধ্বংস করতে এবং ইসরাইলের বিরোধিতার পথ থেকে বিরত রাখতে সক্ষম হয়েছে। ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় স্বার্থে ‘অন্যদের সাথে যৌন-সম্পর্ক স্থাপনের মত চূড়ান্ত হূদ্যতা তৈরির বিষয়টি ইহুদিবাদের সাথে সাংঘর্ষিক নয়’, এমন নীতি গ্রহণ করার পর বিশ্ব মিডিয়ায় ইসরাইলের এ নৈতিকতাবিরোধী কৌশলের নানা কাহিনী প্রকাশিত হতে থাকে। ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে ইসরাইলের সবচেয়ে ঘৃণ্য কৌশল হলো আস্তে-আস্তে ফিলিস্তিনি জনগণকে হত্যা করে, তাদেরকে অন্যত্র সরিয়ে দিয়ে, তাদের ভূমি দখল করে ইসরাইলি রাষ্ট্রের সীমানা বৃদ্ধি করা।১৩ ইসরাইলের গৃহনির্মাণ ও বসতিস্থাপন সংক্রান্ত স্বতন্ত্র একটি মন্ত্রণালয়ও রয়েছে। ইসরাইলি সৈন্যরা প্রবল প্রতাপে ফিলিস্তিনিদেরকে বিতাড়িত করে, আর গৃহনির্মাণ মন্ত্রণালয় সেখানে ইসরাইলের জন্য ঘর-বাড়ি, স্থাপনা তৈরি করে ইসরাইলি রাষ্ট্রের পরিধি বৃদ্ধি করে। ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের মানচিত্রের দিকে তাকালে আমরা দেখবো দিন দিন ইসরাইল দীর্ঘ ও বৃহত্ হচ্ছে, আর ফিলিস্তিনিরা পশ্চিম তীরের রামাল্লা এবং গাজায় সরু-চিকন ভূখণ্ডে সংকুচিত হচ্ছেন। উপরি উক্ত কৌশলের বাস্তবায়ন নীতি হিসেবে ইসরাইল প্রথম থেকেই ফিলিস্তিনের উপর নানা অজুহাত তৈরি করে আক্রমণ করে থাকে। এমন একটি অজুহাত হলো ফিলিস্তিনের সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা হামাসকে সন্ত্রাসী ও মৌলবাদী হিসেবে চিহ্নিত করা। দেশ ও মাটির জন্য অস্ত্র হাতে নেয়াতে হামাস যুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নন্দিত হওয়ার কথা, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তাকে সন্ত্রাসী হিসেবে নিন্দিত করার কৌশল নেয়া হয়েছে। ফিলিস্তিন ইসরাইল সংঘাতকে ভুলভাবে উপস্থাপিত করার জন্য সমস্যাটিকে একাডেমিক দিক থেকেও বিকৃত করা হয়েছে। বহুল প্রচারিত শব্দটি হলো ‘ফিলিস্তিন সমস্যা।’ অথচ মূলত এটা আদৌ ফিলিস্তিন সমস্যা নয়। এটার নাম হওয়া উচিত ‘ইসরাইল সমস্যা’। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশদেরকে সহযোগিতা করার কারণে ইহুদিবাদীরা যুদ্ধ শেষে ইহুদিদের স্বতন্ত্র আবাসভূমি গঠনের গোপন-চুক্তি স্বাক্ষর করে। ইহুদিবাদীদের নেতা ডক্টর থিওডোর হার্জল (Theodore Herzl) ইহুদি ধর্মের রাজনৈতিক রূপ দিয়ে উগ্ররূপ ইহুদিবাদের (Zionism) জন্ম দেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ফিলিস্তিন অটোম্যান সাম্রাজ্যের হস্তচ্যুত হয়ে ব্রিটেনের হাতে চলে গেলে ইহুদিরা এখানে তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পায় এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সে অনুযায়ী ইহুদি ধর্মীয় রাষ্ট্র ইসরাইলের গোড়াপত্তন করে। একাডেমিক শুদ্ধতার জন্য পুরো ইস্যুটাকে তাই ইসরাইল সমস্যা হিসেবে অভিহিত করা উচিত। এ মত যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত ফিলিস্তিন পাশ্চাত্যবিদ এডওয়ার্ড সাঈদের। বিভিন্ন অজুহাতে ফিলিস্তিনের উপর এ পর্যন্ত অসংখ্য মানবতাবিরোধী অভিযান চালানো হয়েছে। ২০০৮ সালে গাজার উপর ইসরাইলি অবরোধের কারণে ১৫ লক্ষ নিরপরাধ লোক খাবারের জন্য মিসরে পাড়ি জমাতে বাধ্য হয়। ঐ বছর ফেব্রুয়ারিতে গাজা আক্রমণ করে শতাধিক ব্যক্তিকে ইসরাইল হত্যা করে। এরপর মিসরের মধ্যস্থতায় ৬ মাসের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হলে ইসরাইল পুনরায় গাজা আক্রমণ করে ১১০০ ফিলিস্তিনিকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। গাজার বাড়ি-ঘর ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হয়। ২০১২ সালে ‘অপারেশন রিটার্নিং ইকো’ আর ‘অপারেশন পিলার অব ডিফেন্স’ চালিয়ে প্রায় ২০০ লোককে হত্যা করা হয়। ইতিপূর্বে ‘অপারেশন কাস্টলিড’ও অত্যাচারের নরক রচনা করে। ইসরাইলের জুলাই ২০১৪ এর অভিযানের নাম দেয়া হয় ‘অপারেশন প্রটেকটিভ এজ’, যার লক্ষ্য হিসেবে ইসরাইল হামাসের রকেট হামলার প্রতিবাদে ইসরাইলের আত্মরক্ষার বিষয়টিকে উল্লেখ করে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতা নেয়াহু ইসরাইলি আক্রমণ চালিয়ে যাবার কথা জানিয়েছেন ফক্স টেলিভিশনের সাক্ষাত্কারে। আমাদের মনে রাখতে হবে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ ইসরাইলের স্বার্থে এবং ইসরাইলের পক্ষেই অবস্থান নিবে। গত ৬৭ বছরের ইতিহাস থেকে আমরা এ কথা নির্দ্বিধায় বলতে পারি। বায়তুল মুকাদ্দাস পুনরুদ্ধার এবং ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিরসনে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন ফিলিস্তিনসহ মুসলিম বিশ্বের ঐক্য। সে লক্ষ্যে কাজ করতে হবে সবাইকে। হামাস ও ফাতাহসহ পৃথিবীর প্রতিটি মুসলিম নাগরিক এবং প্রতিটি মুসলিম দেশকে নিজেদের হীন ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ জলাঞ্জলী দিয়ে সুদূর প্রসারী মুসলিম ঐক্য তৈরিতে সকলকে কাজ করতে হবে। প্রতিটি মুসলিম দেশ যদি এক বালতি পানি ইসরাইলের উপর ঢেলে দেয়, তাহলে ইসরাইল ভেসে যাবে, সমুদ্রের অতল গহ্বরে ডুবে যাবে। লেখক : অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন