নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে হল প্রাধ্যক্ষ্যের কক্ষে তালা, প্রশাসন নিরুত্তর

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২২, ২১:২১

ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) অগ্নিবীণা ছাত্র হলের প্রাধ্যক্ষের কক্ষে সোমবার (২১ মার্চ) তালা ঝুলিয়ে দেয় আবাসিক শিক্ষার্থীরা। শনিবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সেই কক্ষে তালা ঝুলতে দেখা গেছে। হলের বিভিন্ন কার্যক্রমে উপস্থিত থাকলেও গত কয়েকদিন ধরে নিজের অফিসে ঢুকতে পারেন নি প্রাধ্যক্ষ কল্যাণাংশু নাহা। হল সুপারের অফিসে বসেই তিনি কার্যক্রম চালাচ্ছেন। 

জানা গেছে, সম্প্রতি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাগর চন্দ্র দে'কে র‍্যাগিংয়ের দায়ে বহিষ্কার করা হয় শিক্ষার্থী সৌমিক জামানকে। তবে অনুমতি ছাড়া সাগর চন্দ্র দে হলে অবস্থান করায় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। একই ঘটনায় অগ্নিবীণা হলের ২০৪ নং রুমের রাজু মিয়া, নাজমুল হুদা, আফজাল হোসেন ও রিফাদুল হাসানের বরাদ্দকৃত সিট বাতিলের সুপারিশ করা হয়। মূলত এই শিক্ষার্থীদের সিট বাতিলের প্রতিবাদ ও হলের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা দূর করার দাবি জানিয়ে প্রাধ্যক্ষের অফিসে তালা দিয়েছেন অন্য শিক্ষার্থীরা।

আবাসিক শিক্ষার্থী তানজীম হাসান বলেন, প্রাধ্যক্ষ সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান করার কথা থাকলেও তিনি বেশিরভাগ সময়ই ময়ময়নসিংহ শহরে নিজের ভাড়া বাসায় থাকেন, যদিও গত কিছুদিন ধরে তিনি ক্যাম্পাসে থাকছেন। হলের ডাইনিংয়ের নিম্নমানের খাবার নিয়ে তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি। হলে প্রায়ই পানি থাকে না, গ্যাসলাইনের সমস্যাও প্রকট হয়ে উঠছে। এছাড়া ওয়াশরুমে দুর্গন্ধের কারণে তা ব্যবহার করা কঠিন। এসব সমস্যা সমাধানে হল প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

যোগাযোগ করা হলে অগ্নিবীণা হলের প্রাধ্যক্ষ কল্যাণাংশু নাহা এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা কিছু দাবি জানিয়ে আমার অফিসে তালা দিয়েছে। কিন্তু তাদের থেকে কোনো দাবি আমি পাইনি। আমি নিজে খোঁজ নিয়ে যা জানতে পেরেছি তা হলো, ১২ মার্চ সাগরকে র‍্যাগিংয়ের দায়ে ২০ মার্চ শৃঙ্খলা কমিটি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা থেকে সরে আসার দাবি জানিয়েছে তারা। কিন্তু হল প্রশাসন এই প্রশ্নটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে করতে পারে না, জানাতে পারে। আমরা সেটি জানিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘কক্ষে তালা দেয়ার বিষয়টি আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবগত করেছি।’

তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান বলেন, ‘বিষয়টি হল প্রশাসনকেই সমাধান করতে হবে। তারা শিক্ষার্থীদের  সাথে আলোচনা করে সমাধান করবেন। উপাচার্য স্যার বলেছেন হলের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হল প্রশাসন-ই দেখবে, প্রক্টরিয়াল বডির এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য নেই।’

ইত্তেফাক/এসটিএম