রোববার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২২ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৩, ১৮:৪৩

গুচ্ছভুক্ত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ম ধাপের শূন্য আসনে ভর্তির জন্য প্রকাশিত ফলাফল নিয়ে উঠেছে নানা অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগ।

সোমবার (১৭ জানুয়ারি) রাতে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, মেধাতালিকায় পেছনে থাকা অনেকেই ভর্তির জন্য বিবেচিত হলেও সামনে থেকে ভর্তির সুযোগ পায়নি অনেকে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ। 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে, হয়তো তারা স্বাক্ষর করেনি অথবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেয়নি। যার ফলে এমনটা হয়েছে, তবে এখানে আমাদের কোন গাফলতি ছিল না। তবে কোন শিক্ষার্থী যদি চ্যালেঞ্জ করতে চাই গুচ্ছের নিয়ম অনুযায়ী ২০০০ টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে ব্যাংক রশিদসহ আবেদন করতে হবে।

গুচ্ছ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনুসারে সব ধরনের শর্ত পূরণ করে সশরীরে উপস্থিত থেকে অ্যাডমিট কার্ডের ফটোকপি এবং উপস্থিত খাতায় স্বাক্ষর দেওয়া সত্ত্বেও ভর্তির সুযোগ পায়নি বলে অভিযোগ করেছে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১৮ জানুয়ারি) ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা নিজেদের দাবি নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে ভর্তি প্রক্রিয়া স্থগিত ও পুনরায় ফলাফল প্রকাশের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।

মেধাতালিকায় ১০৬৮ সিরিয়ালে থাকা ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থী মো. মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, বি ইউনিটে ১২৯২ পর্যন্ত নিয়েছে। সকল শর্ত পূরণ করেও আমাকে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়নি। এটা রীতিমতো জুলুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘন। আমি আমার ন্যায্য অধিকার ফিরে চাই।

ভুক্তভোগী ভর্তি-ইচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী রায়হান রাসেল বলেন, গুচ্ছ মেধাতালিকায় বি ইউনিটে আমার পজিশন ছিল ১১৮১। আমার সাবজেক্ট পছন্দের তালিকায় ফোকলোর বিভাগ ছিল অথচ মেধাতালিকায় আমার পেছনে ১২৯২ মেধাক্রমে থেকে ফোকলোর বিভাগ পেলেও আমাকে কোনো বিভাগে মনোনীত করা হয়নি। আমি রিপোর্টিংয়ের সময় সকল ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। আমি ভর্তি প্রক্রিয়া স্থগিত রেখে নতুন করে ফলাফল প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি। অথবা আমাকে রিপোর্টিংয়ের নথি দেখানো হোক ।

সি ইউনিটের ৬৬১ মেধা তালিকায় থাকা উদয় হাসান রাজ বলেন, আমার সঙ্গে অবিচার করা হয়েছে। সকল শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও আমাকে ভর্তির সুযোগ না দিয়ে আমার পরে মেরিটে থাকা অনেককেই ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আমি পুনরায় ফলাফল প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি।

পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড.হুমায়ুন কবীরের কাছে গেলে তিনি বলেন, ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীর সংশয় বা অভিযোগ থাকলে গুচ্ছের নিয়ম অনুযায়ী  ২০০০ টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে ব্যাংক রশিদসহ আবেদন করতে হবে।কেউ যোগ্য হলে অবশ্যই ভর্তির সুযোগ দেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এআই