মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

ক্লাসের সবাইকে সমান নাম্বার দেওয়ায় শিক্ষককে শোকজ  

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২২, ১৫:৫৬

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় অনুষদের (২০২০-২০২১) শিক্ষাবর্ষে চালু হওয়া মার্কেটিং বিভাগের (২০২০-২০২১) শিক্ষাবর্ষের সব শিক্ষার্থীকে ইন্টার্নাল পরীক্ষায় সমান নম্বর দেওয়ায় ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক হিল্লোল ফৌজদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) উপাচার্য দপ্তর সূত্র বিষয়টি করেছে। 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মার্কেটিং বিভাগের (২০২০-২১) শিক্ষাবর্ষের ‘ইন্ট্রোডাকশন টু বিজনেস’ (কোর্স কোড-১১১) কোর্সটির কোর্স শিক্ষক ছিলেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক হিল্লোল ফৌজদার। এই কোর্সের ইন্টার্নাল সর্বমোট ৪০ নম্বরের মধ্যে সর্বমোট ২৭ জন শিক্ষার্থীকেই সমান ৩৭ নম্বর করে প্রদান করেছেন তিনি।  

ফলাফল বিশ্লেষণে আরও জানা যায়, প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে প্রেজেন্টেশনে ১০ নম্বর ও ক্লাসে উপস্থিতিতে পূর্ণ ১০ নম্বর করে প্রদান করা হয়েছে। যেখানে সবার ক্লাস উপস্থিতি নিয়মিত ছিল না। এছাড়াও দুইটি মিড-টার্ম মিলিয়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ২০ নম্বরের মধ্যে ১৭ নম্বর করে দিয়েছেন কোর্স শিক্ষক হিল্লোল ফৌজদার।  

এতে বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিভাগটির ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, আমরা ভালো পরীক্ষা দিয়েও যে নম্বর পেয়েছি, অনেকে পরীক্ষা বাজে দিয়েও একই নম্বর পেয়েছে। এছাড়াও ক্লাসে উপস্থিত না থেকেও পূর্ণ ১০ নম্বর পেয়েছে অনেকেই। এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এতে প্রমাণ হয় স্যার আমাদের পরীক্ষার খাতা সমানভাবে মূল্যায়ন করেননি, ক্লাস উপস্থিতিও বিবেচনা করেননি। 

এ বিষয়ে হিল্লোল ফৌজদার বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কল্যাণের কথা চিন্তা করেই এমনটি করা হয়েছে। তারা যেন উৎসাহ না হারায় এবং ভালো রেজাল্ট করায় উদ্বুদ্ধ হয় সেই কারণে আমি সবাইকে ভালো নম্বর দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’

এই বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, ‘প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় শ্রেষ্ঠ প্রার্থীকে নির্বাচনের জন্য পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। তাই পরীক্ষার ফলাফলে এই ধরনের মানবিকতা দেখানোর কোনো সুযোগ নেই।’

জানতে চাইলে উপাচার্য ও মার্কেটিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান (দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর বলেন, ‘ঐ শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিনি কারণ দর্শিয়েছেন। আমরা পরবর্তীতে এটি নিয়ে কমিটিতে আলোচনা করে দেখব। আমরা মূলত এর মাধ্যমে সব শিক্ষককে একটি বার্তা দিতে চাই যে এরকম হওয়াটা কখনোই কাম্য নয়।’  

ইত্তেফাক/এআই