ময়মনসিংহের একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেছেন আশিষ কুমার। সাইক্লিং করতে ভালোবাসেন তিনি। সেই ভালোবাসা আর শখ থেকেই বাইসাইকেলে দেশের ৬৪ জেলা ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি। দেশ ঘুরে পরিবেশ রক্ষায় সাধারণ মানুষের মাঝে পৌঁছে দিয়েছেন সচেতনতার বার্তা, সেইসঙ্গে রোপণ করেছেন দুই শতাধিক চারা-গাছ।
জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার কৃষক বাবা অক্ষয় কুমার মোদকের হাত ধরেই আট বছর বয়সে সাইকেল চড়ার হাতেখড়ি আশিষের। ছোটবেলা থেকে এভাবেই সাইকেলের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে ওঠে আশিষের। তখন ভাবেননি এই সাইকেলে চড়েই একদিন ঘুরে বেড়াবেন এক জেলা থেকে আরেক জেলা, চক্কর দেবেন পুরো দেশ।
২০১৮ সালে সাইকেলে দেশ ভ্রমণ করা বন্ধু সাব্বির হোসাইনকে দেখে মূলত অনুপ্রাণিত হন সাইক্লিংয়ে। নতুন করে প্রেম হয় সাইকেলের সঙ্গে, হয়ে ওঠেন পুরোদস্তর সাইক্লিস্ট। মেডিকেলের ছাত্র হওয়ায় পড়াশোনার কারণে তার সেই মনোবাসনা পূরণ করা মোটেও সহজ ছিল না। তবে হাল ছাড়েননি তিনি।
আশিষ জানান, ‘২৭ নভেম্বর প্রথম ময়মনসিংহ থেকে ভ্রমণ শুরু করেন। এরপর গত ২৬ জানুয়ারি সর্বশেষ কক্সবাজারে গিয়ে ৬৪ জেলা ভ্রমণ পূর্ণ করেন। এতে সব মিলিয়ে তিনি প্রায় পাঁচ হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়েছেন সাইকেলে। ভ্রমণে তার খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে চারা কেনা বাবদ খরচ হয়েছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা।’ প্রতিটি জেলায় পা রেখে দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখার চেষ্টা করেছেন আশিষ। এ ছাড়া তার ভ্রমণের বিশেষত্ব হলো, প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ বা রক্তদানে উৎসাহ প্রদান, নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার অনুরোধ কিংবা করোনাকালে মানুষকে মাস্ক পরার তাগিদ জানানো। জেলায় জেলায় গিয়ে নিজেও বৃক্ষরোপণ করেন আশিষ।
এখন পর্যন্ত ৫০-এর অধিক জেলায় প্রায় ২০০টি চারা-গাছ রোপণ করেছেন তিনি। স্কুল-কলেজের মাঠ কিংবা পরিত্যক্ত জায়গাগুলো গাছ লাগানোর জন্য বেছে নেন তিনি। সাইকেল ভ্রমণের বেশ কিছু সতর্কতার কথাও জানান।
তিনি বলেন, ‘নিজের শরীরের ওপর বেশি চাপ দেওয়া যাবে না। যতটুকু সামর্থ্য আছে তারচেয়ে কম রাইড করা উচিত। শারীরিক দক্ষতা বুঝে তারপর ভ্রমণে বের হতে হবে।’ ডা. আশিষ কুমার জানান, ‘৬৪ জেলা ঘুরেছি নিজের শরীরের ফুয়েল খরচ করে। সৌন্দর্যের সাথে পরিচয় হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে।’
